ঝড় এলো, এলো ঝড়/আম পড়, আম পড়/কাঁচা আম, ডাঁসা আম/টক টক, মিষ্টি/এই যা, এলো বুঝি বৃষ্টি! ছোটবেলায় এ ছড়াগান গেয়ে আম কুড়াতে মজা ছিল বেশ। তবে এখন শহুরে জীবনে ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ-প্রায় নেই বললেই চলে। তাইতো বাজারই ভরসা। প্রবল এ গরম থেকে একটু স্বস্তির আশায় অনেকেই কাঁচা আমের শরবত পান করেন। অনেকে আবার কাঁচা আমে লবণ, মরিচ মাখিয়ে খেতে ভালোবাসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন তরকারি, ডাল কিংবা চাটনিতে দিয়েও খাওয়া হয় কাঁচা আম। আর আমের আচার তো আছেই। তবে জানেন কি কাঁচা আমে আছে অনেক পুষ্টি-
পুষ্টিবিদরা বলেন, কাঁচা বা পাকা দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো। আম কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন শরীরের জন্য এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে। কাঁচা আম বা আমের রসে পটাশিয়াম থাকায় প্রচণ্ড গরমে তা শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
পুষ্টিগুণ : ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে পটাসিয়াম থাকে ৪৪ ক্যালরি। এ ছাড়া রয়েছে ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম। এতে আছে ভিটামিন কে, এ, বি৬, ফোলেটসহ প্রচুর পুষ্টি। কাঁচা আমের আরও গুণ ও উপকারিতা জেনে নিন-
কাঁচা আমে কমবে ওজন
যারা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান তাদের জন্য এখন আদর্শ ফল কাঁচা আম। পাকা মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সহায়তা করে।
হৃৎপিণ্ড রাখে সুস্থ
কাঁচা আম ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ। এ দুটি উপাদান রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখার পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডও সুস্থ রাখে। কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন ও খনিজগুলো রক্তনালি শিথিল করতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়া আমে থাকা ম্যাঙ্গিফেরিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃৎপিণ্ডের জন্য খুবই উপকারী।
রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা আমে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায়, পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
যকৃতের সমস্যা দূর করে
যকৃতের রোগ নিরাময়ের প্রাকৃতিক বন্ধু হতে পারে কাঁচা আম। কয়েক টুকরো কাঁচা আম চিবানো হলে পিত্তরস বৃদ্ধি পায়। এতে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ দূর হয়।
হজমে সাহায্য করে
অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের সমস্যা কমাতে বেশ উপকারী কাঁচা আম। এতে অ্যামাইলেস নামক পাচক এনজাইম থাকায় খাবার খুব ভালোভাবে হজম হয়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে
শরীর সুস্থ রাখতে ডিটক্সিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা আমের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এ ছাড়া কাঁচা আম খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে
কাঁচা আম খেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অন্যান্য তাজা ফলের তুলনায় কাঁচা আমে প্রচুর প্রাকৃতিক চিনি থাকে না। যে কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সেজন্য ডায়াবেটিস রোগীরা অনায়াসেই খেতে পারেন কাঁচা আম।
অম্লতা দূর করতে
বুক জ্বালাপোড়া বা অম্লতার সমস্যায় ভুগছেন যারা, কাঁচা আম তাদের দিতে পারে এ সমস্যা থেকে মুক্তি। অম্লতা কমাতে কাঁচা আমের এক টুকরো মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন।
রক্তের সমস্যা হবে দূর
কাঁচা আমে আয়রন বা লৌহ থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্র পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়। টুকরো করে আম কেটে লবণ মাখিয়ে মধুসহযোগে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
চোখ ভালো রাখে
কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এতে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের রেটিনা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করে
গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বেরিয়ে যায়। কাঁচা আমের জুস শরীরের এ ঘাটতি দূর করে।
স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া রোধ করে
শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি জোগাতে পারে কাঁচা আম। স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমাতে সক্ষম এটি। আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে কাঁচা আম।
ঘামাচি প্রতিরোধ করে
গরমের সময় ঘামাচি একটি অস্বস্তিকর ব্যাপার। ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা সানস্ট্রোক হতে বাধা দেয়।
চুল ও ত্বক উজ্জ্বল করে
প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় কাঁচা আম চুল ও ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
সতর্কতা
কথায় আছে, অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়। কাঁচা আম খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়ার আশঙ্কা থাকে। কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে ও পেটে গেলে মুখ, গলা ও পেটে সংক্রমণ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।