× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ময়নার মনের কথা

ইয়ালিনা তাসিফা

প্রকাশ : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:১৬ পিএম

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:১৬ পিএম

 গল্পের সঙ্গে সুন্দর ছবিটি এঁকেছে আনিশা খন্দকার। সে ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী

গল্পের সঙ্গে সুন্দর ছবিটি এঁকেছে আনিশা খন্দকার। সে ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী

মিতুর শখ পাখি পুষবে। কিন্তু বাবা বলেন, পাখি আকাশে উড়তে ভালোবাসে তাদের খাঁচায় আটকে রাখা ঠিক না। তবু মিতুর মন মানে না। তার একটা পাখি চাই, তার বন্ধুদের কোনো না কোনো পোষা প্রাণী আছে। ওর আবার কুকুর-বেড়ালে ভয়। যদি কামড় দেয়। তাই তার পাখি চাই, অনেক সাধনা করে বাবাকে রাজি করাল। মেয়ের আবদারে বাবা একটা ময়নাপাখি নিয়ে আসে। মিতু শুনেছিল ময়নাপাখি কথা বলতে পারে। কিন্তু কই এ পাখি তো বলছে না। এ নিয়ে মিতুর মন খারাপ। তারপর এক দিন মিতুর বাবা-মা গেল তাকে রেখে বাইরে। ঘরে ওর শেফালি ছাড়া আর কেউ নেই। গরমের দুপুরবেলা। মিতু স্কুল থেকে এসে প্রায়ই ঘুমায়। তবে আজ কিছুতেই ওর ঘুম ধরছে না। এমন সময় কে যেন কথা বলে উঠল। মিতু চারদিকে তাকিয়ে খুঁজতে লাগল। কোথাও তো কাউকে দেখতে পেল না। শেফালি আপাও তো ঘুমে। তাহলে কে? ময়নাপাখিটা…

খাঁচার কাছে গেলে ময়নাপাখি তখন মিতুকে বলল, ভয় পেয়ো না। আমিই কথা বলেছি। বাধ্য হয়েই কথা বলতে হলো। তোমাদের শেফালি খুব বাজে। এতটুকু বাটিতে পানি রেখে যায়। আমার তৃষ্ণা মেটে না। তুমি আমাকে পানি দাও। ময়নার মুখে কথা শুনে মিতু হকচকিয়ে গেল। বলল, তুমি কথা বলতে পার? তাহলে এত দিন বলোনি কেন? ময়না বিরক্ত হয়ে বলল, আগে পানি নিয়ে এসো। তারপর প্রশ্ন করবে। কথা না বাড়িয়ে পানি এনে দিল। পানি পান করে বলল, খাঁচাটা খুলে দেও মিতু। ভয় নেই। পালাব না। ছোট্ট খাঁচায় বসে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। মিতু কিছু না ভেবে খাঁচাটি খুলে দিল। ময়না বের হয়ে বলল, আমি আগে যে বাড়িতে ছিলাম। ওই বাড়িতে ভাষা শিখেছি। তারপর তারা এক দিন বাড়িতে না থাকায় পালিয়ে নিজের বাচ্চাদের কাছে গিয়েছি। তারপর আবার তোমরা আমাকে ধরে এনে খাঁচায় আটকে রাখলে। মিতু অবাক হয়ে বলল, তোমারও বাচ্চা আছে? ময়না বলল, আছে তো তোমার মতো ছোট্ট। তবে তোমার মতো তারা কাউকে কষ্ট দেয় না। মিতু বলল, আমি আবার কাকে কষ্ট দিলাম? ময়না অবাক হয়ে বলল, ওমা আমাকে তো দিচ্ছ খাঁচায় আটকে রেখে, তুমি কি তোমার মা-ছাড়া থাকতে পারবে? মিতু বলল, কখনও না। ময়না বলল, তাহলে ভাবো আমার বাচ্চারা কীভাবে আমাকে ছেড়ে আছে? তারা তো ওড়তেও পারে না। কথাও বলতে পারে না। মিতু এ কথা শুনে নিজের ভুল বুঝতে পারল। ময়নাকে বলল, আজ থেকে তুমি স্বাধীন। আর কখনোই পাখিকে কষ্ট দেব না। ময়না বলল, অনেক ধন্যবাদ। বলে উড়ে চলে গেল। সন্ধ্যায় বাবা-মা এসে ময়নার কথা জানতে চাইল। মিতু বাবাকে বলল, আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। বনের পাখিকে খাঁচায় আটকে রাখা ঠিক না। আমি ওকে মুক্ত করে দিয়েছি। মেয়ের কথা শুনে বাবা-মা দুজনেই খুব খুশি হলেন।

দশম শ্রেণি, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা