× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শাবিপ্রবিতে আইটি ফেস্টিভ্যাল

শাদমান শাবাব

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৪৪ এএম

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৪৬ এএম

শাবিপ্রবিতে আইটি ফেস্টিভ্যাল

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সিলেটে উদ্যাপিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী আইটি ফেস্টিভ্যাল। ষষ্ঠবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সোসাইটি। প্রতিযোগিতার চারটি টেক ইভেন্টে জয়ী দলের সদস্যদের অনুভূতি জানিয়েছেন শাদমান শাবাব

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রোগ্রামার। শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের সেই দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি ‘সিএসই কার্নিভাল’ নামে দুই দিনব্যাপী আইটি উৎসবের আয়োজন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ সোসাইটি। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের ৬২ পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচশ শিক্ষার্থী। চিন্তাশক্তি আর সৃজনশীলতার লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরেন তারা। টেক উৎসবে ছিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, হ্যাকাথন, কোড ব্যাটেল ও ডিপ লার্নিং অ্যানিগমা প্রতিযোগিতা।

প্রোগ্রামিংয়ে জয়ী ‘সাস্ট গেসফোরসেস’

‘সাস্ট সিএসই কার্নিভাল’-এর অন্যতম আয়োজন ছিল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। দেশি প্রোগ্রামারদের জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ের এ আয়োজনে ৫০ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২০টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতি দলে তিনজন সদস্য। এ টেক ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামারদের দল ‘সাস্ট গেসফোরসেস’।

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হলেন শাবিপ্রবির সিএসই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শাহজালাল সোহাগ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সৈকত হোসেন রনি ও মোজাদ্দেদে আলফে সানি। মোজাদ্দেদে আলফে সানি বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে বিভিন্ন গাণিতিক ও অ্যালগরিদমভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য দেওয়া হয়। প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি করে টাইম পেনাল্টি বরাদ্দ ছিল। আমরা ১০টি সমস্যার মধ্যে আটটির সমাধান করে জয় লাভ করেছি।’

আয়োজন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে দক্ষতা প্রদর্শনের এমন আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত। এসব প্রতিযোগিতা একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জোগায়, তেমন প্রোগ্রামারদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বুদ্ধিমত্তা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রোগ্রামারদের দল ‘বুয়েট নাইটফল’। এ দলের সদস্য বুয়েট ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শেখ সাবিত বিন মোসাদ্দেক, আহমেদ হোসাইন ও মো. হাসানুল ইসলাম। তিনজনই সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী।

হ্যাকাথনে সেরা ‘বুয়েট জেনেসিস’

হ্যাকাথনে প্রতিযোগীরা বাস্তব সমস্যার বা উদ্ভাবনী আইডিয়ার যুগোপযোগী ও টেকসই সমাধান প্রদর্শন করেন। এ টেক ইভেন্টে ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি দল অংশ নিয়েছিল। প্রতি দলে তিনজন সদস্য ছিলেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রজেক্ট প্রস্তাব, সম্ভাব্য সমাধান ও উপস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ দলগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় বুয়েট শিক্ষার্থীদের দল ‘বুয়েট জেনেসিস’।

হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয় বুয়েট শিক্ষার্থীদের দল বুয়েট জেনেসিস

জয়ী দলের তিন সদস্য হলেন নাজমুস সাকিব, সাদ মো. রাফিদ পিয়াল ও সালমান সাঈদ। তিনজনই বুয়েট সিএসই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

চ্যাম্পিয়ন দলের দলপতি নাজমুস সাকিব বলেন, ‘হ্যাকাথনে আয়োজকেরা চারটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে পছন্দসই একটি ক্ষেত্রে সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে বলা হয়েছিল। আমরা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের একটি সমস্যা চিহ্নিত করি এবং তা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করে প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করি।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সমস্যার বিষয়ে নাজমুস সাকিব বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন; কারণ ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে তাদের পণ্যগুলো নিয়ে আসতে পারছেন না। এর মূল কারণ ওই উদ্যোক্তারা জানেন না কীভাবে পণ্য তালিকা করতে হয়। এটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এ সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করি। যার ফলে যেকোনো পণ্যের ছবি তুললে এ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছবি থেকে সে পণ্যের যাবতীয় বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিখে দেবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যেন নিজেদের মার্কেটের জন্য যোগ্যভাবে গড়ে তুলতে পারেন সে বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের জন্য ‘এইচআর ট্রেনিং’-এরও ব্যবস্থাও রাখা হয় আমাদের প্রজেক্টে।’

হ্যাকাথন প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দল ‘সাস্ট ডিফাইন কোডার্স’। এ দলের সদস্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মো. মেহরাজুল ইসলাম, শাওন মজিদ ও নাফি উল্লাহ শাফিন। তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে এমন একটি টুল তৈরি করেন যার মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে টেক্সট লিখে সার্চ করলে ওই বিষয়ের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভিডিও তৈরি হয়ে যাবে।

কোড ব্যাটেলে চ্যাম্পিয়ন হয় শাবিপ্রবির সিএসই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান

কোড ব্যাটেলে মেহেদীর বাজিমাত

গেম ডেভেলপমেন্টে প্রোগ্রামারদের দক্ষতা যাচাই ও যোগ্য প্রতিযোগী তৈরির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় ‘কোড ব্যাটেল’ ইভেন্টের। এতে ৩৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৩টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতি দলে একজন সদস্য। এ টেক ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন শাবিপ্রবির সিএসই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান।

মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ টেক ইভেন্টটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতার জন্য স্ট্র্যাটেজি গেম তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিযোগীদের নিজেরা না খেলে কোড লেখার মাধ্যমে গেমটি খেলতে হয়েছে। প্রতিটি গেমে দুজন অংশগ্রহণকারী লক্ষ্য অর্জনে একে অন্যের সঙ্গে প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে গেম খেলে লড়াই করেছিলেন। প্রতিটি গেম শেষে অটোমেটিক জাজিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের একটি স্কোর প্রদান করা হয় এবং সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক কোনো আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথম অংশগ্রহণ। এ প্রাপ্তি আমাকে ভবিষ্যতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে গেম খেলার এ আয়োজন আরও জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু অনলাইনে প্রতিযোগিতার আয়োজন না করে অফলাইনেও আয়োজনের আহ্বান জানান মেহেদী। কোড ব্যাটেল প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হন শাবিপ্রবির সিএসই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফজলে রাব্বি।

ডিপ লার্নিং অ্যানিগমায় সেরা বুয়েট

‘সাস্ট সিএসই কার্নিভাল’ নামে এ আইটি উৎসবে নতুন সংযোজন ‘ডিপ লার্নিং অ্যানিগমা’ প্রতিযোগিতা। এতে প্রতিযোগীদের মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে তাৎক্ষণিক সমাধান বের করতে হয়েছে। এ টেক ইভেন্টে ছয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতাটিতে জয় লাভ করেছে বুয়েট শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম কোয়ার্টি’।

ডিপ লার্নিং অ্যানিগমা ইভেন্টে জয় পেয়েছে বুয়েটের টিম কোয়ার্টি

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য বুয়েট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উ মং সাইন চাক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আসিব রহমান ও অভি দেওয়ান।

জয়ী দলের সদস্য মো. আসিব রহমান বলেন, ‘আয়োজকরা বাংলাদেশের নয়টি জেলার রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টের ছবির ওপর ভিত্তি করে একটি ডাটা সেট দিয়েছিলেন। সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে একটি স্বয়ংক্রিয় যানে ব্যবহারোপযোগী মডেল তৈরি করতে হয়েছে, যেটি ছবি দেখে আপনাআপনি নিজের অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে।’ ভবিষ্যতে এ মডেলটি নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আসিব।

ডিপ লার্নিং প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয়েছে ‘টিম জার্নি বাই নিউরন’। এ দলের চার সদস্য শাবিপ্রবির সিএসই বিভাগের ফজলে রাব্বি ও এমএম কাবিদ হাসান এবং বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নিয়াজ মোহাইমেন ও আবরার জাহিন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা