সুস্থ ও ফিট থাকতে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলে দিতে হবে নজর। দেখুন পুষ্টিবিদ নিগার সুলতানার পরামর্শ-
একজন সুস্থ মানুষ ৭০০-৮০০ ক্যালরির ডায়েটে ওজন কমাতে পারলেও অনেক সময় স্ট্রেসে ভোগেন। সেখান থেকে রাগ, অস্থিরতা, নিদ্রাহীনতার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। কম ক্যালরিযুক্ত ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে নারীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। আবার পুরুষের ক্ষেত্রে হয় উল্টো। অধিক ক্যালরিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পুরুষের মেদ বাড়িয়ে দেয় (বিশেষ করে পেটের মেদ) এবং উপরোক্ত নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।
আমরা মনে করি ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এসবই মূলত নানা রোগের সূত্রপাত। কিন্তু শুরুটা আসলে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, নিদ্রাহীনতা, অকারণ রাগ এগুলো থেকেই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এগুলো ঠিক করতে কোনো ওষুধ নয় শুধু শৃঙ্খল জীবনযাপন ও হেলদি ডায়েটই যথেষ্ট।
অভ্যাস করে ফেলুন
- প্রতিদিন নিজের জন্য ৩০ মিনিট-১ ঘণ্টা সময় বের করুন। সপ্তাহে ভাগ করে হাঁটুন, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। বডি শেপ ঠিক করতে ওয়েট ট্রেনিং করতে পারেন।
- প্রতিদিন নিজের ওজন না মেপে ১৫ দিন অন্তর একদিন ওজন মাপুন ও বডি মেজারমেন্ট নিয়ে রাখুন।
- চিনি ও চিনিজাতীয় সব খাবার বর্জন করুন।
- রিফাইন্ড তেল, ময়দার তৈরি খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, টিনজাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। এর মধ্যে পাউরুটি, বিস্কুট, কর্নফ্লেক্স অন্যতম।
উপরোক্ত খাবারগুলো বাদ না দিলে পুষ্টিকর খাবার যোগ করলেও উপকার পাওয়া যাবে না। বরং হিতে বিপরীত হবে।
শুরু করবেন যেভাবে : লো ক্যালরিযুক্ত ডায়েট না করে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং থেরাফিউটিক ডায়েটে চলে যান।
- খাবারকে দুই থেকে তিনটি মিলে সীমাবদ্ধ রাখুন। বারে বারে অল্প করে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- প্রতি বেলার খাবার পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে সাজান। তাহলে সুগার লো হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
খাবার মেনুতে যা রাখতে হবে
- সাদা চাল ও আটার বদলে বাদামি চাল, আটা, রোলড ওটস, বাদামি কিনোয়া, যবের আটা, রাগি আটা খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন রঙের সবজি রাখার চেষ্টা করুন।
- দিনে দুটি ডিম রাখবেন। একটি কুসুম অবশ্যই খেতে হবে।
- সপ্তাহে এক দিন ৮০ গ্রাম কলিজা রাখুন।
- সপ্তাহে এক দিন বোন ব্রথ রাখুন। (অনেক সময় ধরে জ্বাল করা হাড়সহ যেকোনো মাংস)।
- সপ্তাহে দুই দিন ৬০ গ্রাম করে ছোট মাছ খেতে চেষ্টা করুন।
- প্রতি বেলার খাবারে অবশ্যই প্রোটিন রাখতে হবে।
- প্রতি বেলায় খাবারের সঙ্গে সালাদ খেতে হবে। সালাদের সঙ্গে চেষ্টা করুন আদা, রসুন কুচি খেতে।
- দিনে এক বেলা ডালের তৈরি খাবার রাখতে পারেন। যেমন বুটের ডালের সালাদ, মুগ ডালের ঘন স্যুপ।
- ভালো ফ্যাটের উৎস হিসেবে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে ঘি, মাখন, সরিষার তেল, অলিভ অয়েল, নারকেল তেল ব্যবহার করুন।
- দিনে কাঁচা হলুদ ১ চা চামচ ও ১ চিমটি গোলমরিচের শরবত পান করুন।
- প্রতিদিন ১ চা চামচ কালিজিরা চিবিয়ে খান।
- আদা, হলুদ, দারুচিনি, লবঙ্গ, রসুন, গোলমরিচ জ্বাল করে চা তৈরি করে পান করুন।
- দিনে ১ মুঠো বাদাম খান।
- সপ্তাহে দু-তিন দিন ১ টুকরো ডার্ক চকলেট খেতে পারেন।