× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কর্মস্থল নারীর জন্য নিরাপদ হবে কবে

আজহার মাহমুদ

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৩৪ পিএম

কর্মস্থল নারীর জন্য নিরাপদ হবে কবে

শতকরা ৮৪ দশমিক সাত শতাংশ পোশাকশ্রমিককে মৌখিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। শতকরা ৭১ দশমিক তিনজনের ওপর মানসিক নির্যাতন করা হয়

বর্তমানে আমরা আধুনিক হলেও নারীদের প্রতি আমাদের মানসিকতা এখনও আধুনিক হয়নি। এখনও প্রতিটি নারী কর্মস্থলে কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার। অফিসে ইভ টিজিং, সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্টের শিকার হতে হয় নারীদের। এ যন্ত্রণা সহ্য করেও অনেকে চাকরি করে আসছে দিনের পর দিন। নীরবে মুখ বুজে সহ্য করে আসছে। প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু কেন সহ্য করছে তারা? বর্তমানে দেশে চাকরির বাজার কতটা কঠিন। এমন আরও অনেক ভয়ে চাকরিতে এসব অন্যায়, অমানবিকতা সহ্য করে থাকে নারীরা। চাকরি হারানোর ভয়ে অভিযোগটাও করে না। শুধু কি তাই? এ সমাজ কী বলবে? সমাজের মানুষের কথার ভয় আছে, আছে পরিবার। এসবের সঙ্গে পেরে ওঠাও যে বড় মুশকিল!

প্লান ইন্টারন্যাশনাল ও গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সহায়তায় একটি জরিপ পরিচালনা করে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। তথ্যানুযায়ী জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৩৫ নারীর শতভাগই নিজ কর্মস্থলে কোনো না কোনো ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ৪১ দশমিক ৪৮ শতাংশ দু-তিন বার, ২৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ চার-পাঁচ বার এবং ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ একবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জন শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে (৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ), ৮০ জন মৌখিকভাবে (৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ), সরাসরি যৌন আবেদনের শিকার হয়েছে ৬৪ জন অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৪১ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ৬০ জন (৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ) সুপারভাইজার দ্বারা, ৮৮ জন (৬৫ দশমিক ১৯ শতাংশ) ম্যানেজার/বস কর্তৃক, আটজন (৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ) তাদের নিয়োগকর্তার দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছে।

এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট ৪২ লাখ ২০ হাজার পোশাকশ্রমিকের মধ্যে নারী ২৪ লাখ ৯৮ হাজার। এ খাতে নিয়োজিত নারী কর্মী শিল্প খাতে নিয়োজিত মোট নারী কর্মীর ৭০ ভাগ। তবে এখানেও যে তারা অন্যায়-অবিচারের শিকার হয় না তা কিন্তু নয়। ৭৪ শতাংশ নারী পোশাকশ্রমিক কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজে বাধ্য হয়। তৈরি পোশাকশিল্পে নারী বেশি নির্যাতিত। শতকরা ৮৪ দশমিক সাতজনকে কারখানার ভেতর মৌখিক নির্যাতন ও গালাগালের শিকার হতে হয়। শতকরা ৭১ দশমিক তিনজনের ওপর মানসিক নির্যাতন করা হয়। শতকরা ২০ জন শারীরিক নির্যাতন অর্থাৎ মারধরের শিকার হওয়ার কথা বলেছে। যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছে শতকরা ১২ দশমিক সাতজন। কর্মজীবী নারী ও কেয়ার বাংলাদেশের সদ্যসমাপ্ত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বর্তমানে মামলা করেও সুবিধা পাওয়া যায় না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অপরাধের সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। আর এত লম্বা সময় লাগে যে এ মামলার ফল আপনি দেখে যেতে না-ও পারেন। এমন আরও অনেক জরিপ ও গবেষণা হয়েছে এ দেশে। এসব জরিপ বা গবেষণায় নারীদের খুব বেশি উপকার হয়েছে এমনটা বলা যাবে না। দিন দিন এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। নারীর প্রতি যৌন হয়রানি, ইভ টিজিং এমনকি ধর্ষণের মতো নোংরামিও চলছে রোজ। এর কিছু গণমাধ্যমে আসছে, বাকিটা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। 

নারীর নিরাপত্তায় আইন করে প্রতিটি কর্মস্থলে তাদের জন্য অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে। সেখানে তারা তাদের অভিযোগ জমা দেবে। সেই সঙ্গে শ্রমজীবী নারীর চাকরির নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। 

তবেই অভিযোগ করার সাহস পাবে নারী। এ ছাড়া কর্মস্থলে সহকর্মীর সঙ্গে আচরণের বিষয়ে একটি নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন। নারী কোনো যানবাহনে চড়লে সে পরিবহনের ছবি তুলে রাখতে পারে। তাহলে কোন গাড়িতে কখন হয়রানির শিকার হয়েছে, জানা সহজ হয়। এভাবে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপে বিষয়টা গুরুত্বসহকারে নজরে আনা জরুরি মনে করছি। আমরা জানি বর্তমান সরকার নারীবান্ধব। তাই সরকারের উচিত বিষয়টার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নারীর নিরাপদ কর্মস্থলের সুযোগ করে দেওয়া।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা