প্রচ্ছদ
অদ্রীকা ইসলাম
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:৪২ পিএম
ছবি : মেট্রো ওয়েডিংস
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আসে সবকিছুতেই। বিয়ের সাজ-পোশাকের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। কনের শাড়ি, গয়না, মেকআপ থেকে শুরু করে বরের পোশাক, আনুষাঙ্গিক সবকিছুতেই এখন পরিবর্তনের দেখা মেলে। তবে শুধু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নয়, ঐতিহ্য ঠিক রেখে অনেকেই ফলো করেন ট্রেন্ড। বেশ কয়েক বছর ধরে বিয়ের সাজে ফ্যাশনের এই পরিবর্তনগুলো বেশ চোখে পড়ছে। হাল ফ্যাশনের পোশাক, সাজগোজ, সবকিছুর পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নেও ভিন্নতা চোখে পড়ার মতো। এ সময়ের বিয়ের হালচাল নিয়ে দেখুন বিশেষ প্রচ্ছদ-

মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হলো বিয়ের দিন। বর-কনে দুজনেই চায় দিনটিতে সুন্দর লাগুক নিজেকে। এজন্য বেশ আগে থেকেই চলে প্রস্তুতি-

কনের পোশাক
বিয়ে বলতেই লাল বেনারসি শাড়ি চোখে ভাসে। তবে এখন এ ঐতিহ্য আছে ঠিকই তবে যুগের হাওয়াও লেগেছে। যেমন অনেকে লাল ছাড়াও অনান্যÑ সাদা, হালকা গোলাপি, বেগুনি, মেরুন, সবুজ রঙের বেনারসি পরে। আবার জামদানি শাড়ি এখন মেয়েদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিয়েতে। যেকোনো গাঢ় রঙের জামদানি কনেকে দেশীয় পোশাকের ধারক হিসেবেও গর্বিত করে। বিয়ের শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। এখন অনেক ফ্যাশন ব্র্যান্ডে নানান ধরনের ব্লাউজের দেখা মেলে। কনেরা সেখান থেকে পছন্দমতো ব্লাউজ শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারে। আবার নিজের পছন্দে কাস্টমাইজ করার সুযোগ থাকায় এক্ষেত্রে আরও নতুনত্ব লক্ষ করা যায়। অনেক কনেই বিয়েতে সিম্পল শাড়ির সঙ্গে গর্জিয়াস ব্লাউজ বেছে নেন।

শাড়ি ছাড়াও অনেকে পার্টি লেহেঙ্গা বা শারারা জাতীয় পোশাক পরতে পছন্দ করেন। নেট বেজের ওপর চুমকি পুঁতির সিকোয়েন্সের কাজ আপনাকে এনে দিতে পারে সহজেই জমকালো লুক। আবার মখমলের লেহেঙ্গাও পরলে সুন্দর লাগে বিয়েতে। আর এখন যে পোশাকেই হোক কনের ওড়না থাকে অনেক স্পেশাল। যেমনÑ ওড়নার পাড়ে বরের নাম বা গানের লাইন খুবই জনপ্রিয়। এ ছাড়াও নানা ধরনের টারসেল ও লেইসের সমন্বয়ে দারুনসব ওড়না কনেরা পরছেন বিয়েতে।

বরের পোশাক
আগে বরের পোশাক নিয়ে মাতামাতি যেন কিছুটা কম ছিল। সাদা, সোনালি কিংবা রুপালি শেরওয়ানি, তার ওপর লাল, খয়েরি জরির সুতার কাজÑ এমনই দেখা যেত বরের সাজপোশাকে। তবে সময়ে বদলেছে বরের পোশাকের এমন ধারা। বেশ কিছু বছর ধরেই কনের পোশাকের সঙ্গে মিল করে কিংবা কন্ট্রাস্ট করে বরের পোশাক পরতে দেখা যায়। যেমনÑ লাল, মেরুন রঙের বেনারসি বা জামদানির সঙ্গে বরকে অফহোয়াইট পাঞ্জাবি বা শেরওয়ানি পরতে দেখা যায়। সঙ্গে মাথায় হাতে বাঁধা চুন্দ্রী পাগড়ি। লেহেঙ্গা বা গাউন ধরনের কনের পোশাকের সঙ্গেও বরের এমন শেরওয়ানি সুন্দর মানিয়ে যায়। অনেক বর কনের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে শেরওয়ানি বেছে নিচ্ছেন। অনেক সময় আবার শুধু বর-কনের পোশাকে সামঞ্জস্য দেখা যায়। কনের পোশাক হয়তো লাল। সেই লালের ছিটা গিয়ে পড়ছে বরের পাগড়ি বা উত্তরীয়তে। এসব ট্র্যাডিশনাল ঘরানার বাইরে এখন বরদের কালো রঙের শেরওয়ানি পরতে দেখা যায়। শেরওয়ানির ইনার পাঞ্জাবির রঙ হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সাদা, পায়জামার সঙ্গে মিল রেখে।

শেরওয়ানি পছন্দ করার সময় বরের গায়ের রঙ বুঝে শেরওয়ানি বেছে নিতে হবে। ভিন্নতা আনবে ভিন্ন কাটের পাঞ্জাবির ওপর খাটো শেরওয়ানি। আরাম, আধুনিকতার দিকটাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ভারী কাজের শেরওয়ানি, মাথায় পাগড়ি, পায়ে চকচকে নাগরার চল এখনও আছে। তেমনি আবার নীল, কালো, ধূসর বা সাদা রঙ দেখা যাচ্ছে আজকালের বরের পোশাকে। এখন ছোট থেকে ছোট বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখেন বর। বনেদিয়ানা আর আধুনিক, বরের সাজে দেখা যাচ্ছে দুটি ধরনই। বরের সাজে এখন আবার দেখা যায় অলংকার। গলায়, হাতে কিংবা পাগড়ির ওপর অলংকার থাকতেই পারে।

অনুষঙ্গ
সাজগোজ পরিপূর্ণতা পায় জুতা ও অনুষঙ্গ দিয়ে। বিয়েতে কনের হাতে রাখি ছাড়া সাজই যেন অসম্পূর্ণ। আগে কনেদের সোনালি রঙের রাখি পরতে দেখা যেত। কালের আবর্তে রাখিতে এসেছে অনেক পরিবর্তন। এখন নানা রঙের ও ঢঙের রাখি কিনতে পাওয়া যায়। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এমনকি কন্ট্রাস্ট করেও রাখি পরার চল এখন। এদিন শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গা সব পোশাকের সঙ্গেই হাই হিল ভালো মানাবে। এ ছাড়াও পেশোয়ারি জুতা, নাগরাও পাটির ও জামদানি কাপড়ে একদম ম্যাচিং জুতা দারুণ লাগে। বিয়েতে কনের হাতে ক্লাচ ব্যাগ অনেক জনপ্রিয়। তবে বটুয়াও এখন চলে এসেছে ট্রেন্ডে।
বরের শেরওয়ানির সঙ্গে মানানসই নাগরা জুতা। এখন অনেক বরকে লোফার পরতেও দেখা যায়। এ ছাড়া অনুষঙ্গের মধ্যে আছে ঘড়ি, আংটি, চেন। আগেকার দিনে বরের ঘড়ি বলতে ছিল সোনালি রঙের ঘড়ি। তবে এখন সাদা, কালো রঙের ঘড়িও পরে অনেকে।

চুলের ট্রেন্ড
বিয়ের সাজে চুলের স্টাইল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চুলের সাজে মুখের আদল অনেকটা বদলে যায়। এখন কনেরা চুল ছেড়ে অনেক ধরনের স্টাইল করছে। এতে ক্যাজুয়াল লুক দারুণভাবে ফুটে ওঠে বলে জানালেন রেড বিউটি স্যালুনের সিইও ও বিউটি এক্সপার্ট আফরোজা পারভিন। তিনি আরও বলেন, শাড়ি নাকি লেহেঙ্গা সেই বুঝে চুলের সাজ নির্ভর করে। শাড়ির সঙ্গে চুলের খোঁপায় কাঁচা ফুল দিয়ে নানাভাবে সাজানোর ট্রেন্ড খুব চলছে। এমনকি এই হেয়ারস্টাইলে লেহেঙ্গার সঙ্গে মাথায় পাতলা ওড়না দিলে দারুণ দেখায়।

এ ছাড়াও মুখের গড়ন বুঝে সামনে চুল পাফ করা, কার্ল করে সামনে হালকা বেঁধে বাকিটা ছেড়ে দেওয়া, এমনকি লম্বা বেণিতে ফুল ও পুঁতির টারসেলও খুব চলছে। যাদের একটু লম্বা গড়নের চুল, তারা চুল খোলা রেখেও করতে পারেন নানা স্টাইল। এখন ছেলেদের জন্যও বিভিন্ন পার্লারে আছে বিশেষ দিনের সুব্যবস্হা। সেখানে চুলের স্পাইক, ব্যাক ব্রাশ বা নানা কাট দিয়ে পোশাকভেদে স্টাইল করে দেয়।

বিয়ের মেকআপে নিজস্বতা
এখনকার কনেরা আগের সময়ের মতো ভারী মেকআপ একদমই পছন্দ করছেন না। নিজেকে মেকআপ দিয়ে পরিবর্তন না করে বরং নিজস্বতাকে ফুটিয়ে তোলাই যেন এখনকার মেকআপ ট্রেন্ড। ন্যুড মেকআপের চলের পাশাপাশি লাটে মেকআপ, গ্লোয়ি-ডিউই মেকআপ বেছে নিচ্ছেন এখন। আটপৌরে সাবলীল মেকআপকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন অনেকে। হালকা কিন্তু অনেক লম্বা সময় থাকে এমন স্টাইলের গ্রহণযোগ্যতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, এখন মেয়েরা খুব ন্যাচারাল একটা লুক চাচ্ছে। লং ড্রেস বা লেহেঙ্গার সঙ্গে ন্যাচারাল মডার্ন লুকের চল অনেক। এখন চোখকেও খুব ন্যাচারাল রেখে সাজানো হয়। হালকা মেকআপে আইল্যাশে একটা সিন্ধ লুক আনে। এ ছাড়া মুখটা খুব ফ্রেশ সিম্পল রাখলে অর্নামেন্টগুলোও দেখতে ভালো লাগে বলে জানান তিনি।
সব সময় সিম্পল লুকের মধ্যে নিজেকে কতটা সুন্দর করা যায়, সেটাই ভালো লাগে একটা কনেকে, বলছিলেন রোজাস মেকওভারের স্বত্বাধিকারী ও বিউটি এক্সপার্ট সাইমা রোজা। তিনি আরও বলেন, এখন নো মেকআপ লুক একটা টেন্ড চলছে, তাই একেবারে স্কিন টোন পরিবর্তন করে আর্টিফিশিয়াল মেকআপ একেবারে চলে না এখন।
