পল্লী মজুমদার
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:৫৪ পিএম
বিয়ে মানেই দুটি পরিবারের নিজস্ব উৎসব। এই সামাজিক রীতির মাধ্যমে দুজন মানুষের জীবন বাঁধা পড়ে একই গ্রন্থিতে। এই দিনটি প্রতিটি মানুষের জন্যই বিশেষ কিছু। স্পেশাল দিনটি স্মৃতিতে অমলিন রাখতে ছবি তো থাকতেই হবে
বিয়ের ছবি তোলা আজকাল দক্ষযজ্ঞের মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ফটোগ্রাফারের। বর্তমান সময়ের বিয়েতে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির পাশাপাশি সিনেমাটোগ্রাফিও করা হয়। যার পরিচালক থাকেন ফটোগ্রাফার খোদ।
ওয়েডিং ফটোগ্রাফার বর-কনেকে নির্দেশনা দিতে থাকেন কখন হাসবে, কীভাবে হাসবে। কনে কখন লজ্জা পাবে কিংবা কখন বর-কনে কাছাকাছি বসবে। পাশাপাশি বসলে ঠিক কতটুকু কাছাকাছি বসবে। ফটোগ্রাফার খুঁজতে থাকেন কাঙ্ক্ষিত পোজের ছবি। মনের মতো ছবি না পাওয়া পর্যন্ত একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তিও করতে বলেন তিনি। বলা যায়, বিয়েবাড়িতে ফটোগ্রাফারের ভূমিকার শেষ নেই। বিয়েতে বর-কনের সুন্দর ছবি পাওয়ার জন্য অনুষ্ঠানের শেষদিকেও বাড়ির পরিবেশ থাকে আনন্দমুখর। কনের কান্না করা নিষেধ থাকে। তার ঠিক রাখতে হয় মুখের মেকআপ, চোখের কাজল, চুলের সাজ। বিয়েবাড়িতে আসা অন্য আত্মীয়স্বজনও নিজের দিকে খেয়াল রাখতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।
স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বিয়ের আগে থেকেই কিছু পরিকল্পনা করতে পারেন-
ফটোগ্রাফার নির্বাচন
ফটোগ্রাফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে না চাইলে প্রথমেই খোঁজ নিন কার রেকর্ড ভালো। এ ছাড়া আর্থিকভাবে সমন্বয় আছে কি না। সব ঠিক থাকলে তবেই ফটোগ্রাফার নির্বাচন করুন।
ভালো ছবির জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি
স্মৃতির অ্যালবামে ঝলমলে সব ছবি ধরে রাখার জন্য পরিপূর্ণ ওয়েডিং ফটোগ্রাফি হতে পারে প্রি-ওয়েডিং, গায়েহলুদ, বিয়ের মূল অনুষ্ঠান, বউভাত (পোস্ট ওয়েডিং) ফটোশুটের মাধ্যমে। ভালো ছবি পাওয়ার জন্য ফটোগ্রাফারের সঙ্গে সখ্য প্রয়োজন। কেননা ছবি তোলার সময় যদি অস্বস্তি হয় তাহলে ছবিতেও তা ফুটে উঠবে। ফটোগ্রাফারের সঙ্গে একটা ভালো বোঝাপড়া যদি থাকে তাহলে ছবি তুলতে দুইজনেরই সুবিধা হবে। ফটোগ্রাফির লোকেশন নিয়ে আলোচনা করে নিতে হবে এবং কোন ছবির জন্য কেমন সাজ-পোশাক রাখতে চান তাও ফটোগ্রাফারকে জানাতে হবে। ফটোগ্রাফার নির্বাচন করার পর শুধু বর-কনে পরিচিত হলেই হবে না। মনে রাখতে হবে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি মানে দুইটি পরিবারের আনন্দ ধরে রাখার মহামূল্যবান ফ্রেম। তাই পরিবারের নিকটজনদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সাজের প্রস্তুতি
কনে একটি ভালো মানের পারলার থেকে ব্রাইডাল প্যাকেজে সাজতে পারেন। আর বরের জন্যও প্রয়োজন চুল ও ত্বকের যত্ন। রূপবিশেষজ্ঞরা বরকে বিয়ের দুয়েক দিন আগে ব্রাইটনিং ফেসিয়াল করার পরামর্শ দেন। আর হ্যাঁ, চুলে দিতে হবে মুখের সঙ্গে মানানসই কাট। তাই বলে মেকআপ করার উদ্যোগ নিতে যাবেন না। বরের মুখে মেকআপ থাকলে মুখে অস্বস্তিকর আভা দেখা দিতে পারে।
বিয়ের স্টেজ নিয়ে আলোচনা
স্টেজের পেছনে কি টুনিবাতি থাকবে? থাকলে কতটুকু দূরত্বে রাখতে হবে, ফটোগ্রাফারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে নিতে হবে। ওয়েডিং ফটোগ্রাফার সঠিক নির্দেশনা দিতে পারবেন। ছবি তোলার সঙ্গে লাইট ও শেডের সরাসরি প্রভাব আছে। বিয়েবাড়ির ডেকোরেশনের রং আর পোশাকের রং ম্যাচ না করলে মনের মতো ছবি পাবেন না। বিয়েবাড়ি ডেকোরেশনের দায়িত্ব যাকে দিচ্ছেন, ফটোগ্রাফারের নির্দেশনা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
কয়টি ছবি চান
অ্যালবামে কয়টি ছবি থাকবে সেটা ঠিক করে নিন। এটা আপনার বাজেটের সঙ্গে যুক্তিযুক্ত। সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ ছবির অ্যালবাম থাকে প্যাকেজে। তবে এ ক্ষেত্রে একটা সুবিধা রয়েছে। ছবি তোলার পর প্রতিটা ছবির সফট কপিই ফটোগ্রাফার আপনাকে দিয়ে দেবেন। পছন্দমতো বেছে দিলে শুধু সেই ছবিগুলো প্রিন্ট করে নিন। তারপর সাজিয়ে রাখুন অ্যালবামের পাতায়।
ওয়েডিং ফটোগ্রাফির খোঁজ
ড্রিম ওয়েভার, শাটারবাগ, মেট্রো ওয়েডেং, আর্টল্যান্ড, ওয়েডিং ডায়েরি বাংলাদেশ, চিত্রকল্প, ব্রাইডাল হারমোনি, ওয়েডিং কালারস, পেনোরোমা, কে’নাসিফ ফটোগ্রাফি, ছায়াছবি, সাজ্জাদ সাজু ফটোগ্রাফি, সাকিয়াম’স ফটোগ্রাফি, ক্লিকার’স ল্যাব, সেবা এক্সওয়াইজেডসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক অনেক ভালো ওয়েডিং ফটোগ্রাফার রয়েছে। তাদের থেকেও পেয়ে যাবেন কাঙ্ক্ষিত ছবি।
ওয়েডিং ফোটোগ্রাফির খরচ ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এক দিনের শুট, মোটামুটি ২০০ থেকে ৩০০ পৃষ্ঠার ডিজিটাল প্রিন্টের অ্যালবাম ও ভিডিওগ্রাফির খরচ ১৫ হাজার থেকে শুরু। তিন দিনের জন্য ৪৫ হাজারে পেয়ে যাবেন প্যাকেজ। ক্যামেরা, অ্যালবামের মান অনুযায়ী এক দিনের খরচ ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।