বিয়ে জীবনের একটি বহুলপ্রতীক্ষিত বিষয়। সবারই প্রত্যাশা থাকে বিয়ের দিনটি হবে ধুমধাম ও জাঁকজমকপূর্ণ। তাই বিয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠান স্মরণীয় করতে চাই পূর্বপরিকল্পনা। মধ্যবিত্তের বাজেটের মধ্যে কীভাবে নির্বিঘ্নে একটি বিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন-
প্রস্তুতি
সবার আগে ব্যাংকের একটা আলাদা অ্যাকাউন্টে বিয়ের বাজেটের পুরো টাকা পাঠিয়ে নিন। আর সিদ্ধান্ত নিন ওই বাজেটের বাইরে চলবেন না, যতই প্রলোভন আসুক।
বিয়ের স্থান
নিজের বা পরিচিত কারও বড় বাড়ি থাকলে অনায়াসে সেখানে বিয়ের আয়োজন করে ফেলা যায়। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার, ম্যারেজ হল, হোটেল, সরকারি সম্পত্তি তো রয়েছেই। এসবের মধ্যে যেকোনো একটি বুক করতে পারেন বাজেটের ভিতরে। নিজের বাড়ি হলে ছাদ থেকে শুরু করে, বাড়িবারান্দা, বাগান, গ্যারাজ সবখানেই প্যান্ডেল করে নিন। বাড়িভাড়া পুরোটাই বেঁচে যাবে।
অনুষ্ঠান সাজানো
বিয়ের অনুষ্ঠান সাজানো না হলে তো চলবে না। সাজানোর ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি মাথায় রাখুন। খরচ কমাতে থিম বেছে নিতে পারেন। যেকোনো একটি রং বেছে নিন। সেই রঙের ফুল, কাপড়, ইন্টেরিয়র বেছে নিন। আসল ফুলের দাম বেশি মনে হলে নকল ফুল কিনে নিন। আর পরিচিত ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে দিয়ে সাজগোজগুলো করে নিতে পারেন।
আলোকসজ্জা
বিয়েকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে ডেকোরেশনের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। অতিথি আপ্যায়ন ও সুন্দর ছবি ওঠার জন্য যতটা প্রয়োজন ততটা করুন।
বিয়ের কার্ড
বিয়ের আমন্ত্রণ কার্ডের ব্যবহার অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য। বিয়ের দিনের পরে এই কার্ড আর কোনো কাজে আসে না। তাই কার্ডের পেছনে অযথা খরচ করার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ এবং রুচিসম্মত বিয়ের কার্ড করুন। বড় দোকান বা ডিজাইনার কার্ড শপে গেলে দাম বেশি পড়বে। নিজে ডিজাইন করে কাস্টমাইজড কার্ডও বানাতে পারেন।
অতিথিদের তালিকা
বিয়ের অনুষ্ঠানে অযথা লোক বাড়িয়ে তালিকা বাড়াবেন না। যাদের সঙ্গে আসলেই সুসম্পর্ক এবং যাদের নিমন্ত্রণ না করলেই নয়- এমন অতিথির তালিকা করে নিন। মনে রাখবেন, যত সংক্ষিপ্ত তালিকা, খরচ আর ঝামেলা তত কম।
খাবার পরিবেশন
বিয়েবাড়িতে অতিথিদের সন্তুষ্ট করার প্রধান উপায় ভালো খাবার পরিবেশন। ভালো খাবার মেন্যু সব সময়ের জন্য অতিথিদের মনে থেকে যায়। বর্তমানে ট্রেন্ডের কথা মাথায় রেখে নানা রকম প্ল্যাটার, কন্টিনেন্টাল রাখেন মেন্যুতে। একদিনে অনেক রকমের খাবার খাওয়া সম্ভব নয়, তাই অল্প পদের মধ্যে সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করুন। এতে অতিথিরা তৃপ্তি করে খাবে, খরচও নিয়ন্ত্রণ হবে।
ওয়েডিং ফটোগ্রাফি
বিয়ের অন্যতম একটি বিষয় হলো ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। নামকরা সংস্থা বা ফটোগ্রাফারকে দিয়ে কাজটি করালে খরচ বেশি হবে। এক্ষেত্রে নতুন ফটোগ্রাফার, ফ্রেশারদের দিয়ে ফটোগ্রাফি করালে খরচ কমবে। পরিচিত কারো ফটোগ্রাফি জানলে তাকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
পোশাক ও গয়না
নিজের বিয়েতে সুন্দর করে সাজবেন না, সেটা তো হয় না। প্রফেশনাল ডিজাইনারের থেকে পছন্দের পোশাক, শাড়ি কিনতে গেলে বেশি খরচ হবে। তাই ব্র্যান্ডেড দোকান থেকে কেনাকাটা করলে কম দামে ভালো মানের পোশাক পাবেন। আর গয়নার ক্ষেত্রে পরিচিত দোকানে সব গয়না একসঙ্গে বানাতে দিন।