বিয়ের মতো আনন্দ উৎসবে হাত ভর্তি মেহেদি না হলে কি চলে? শুধু কনেই নয়, বরের হাতে এবং বরকনের বাড়ির সব মেয়ে হাত রাঙাতে দেওয়া হয় মেহেদি। বিশেষ দিনে কেমন হবে ডিজাইন, সঙ্গে মেহেদির রঙ গাঢ় ও সুন্দর রাখতে কী করবেন দেখে নিন-
বিয়ে মানেই নানান সাজসজ্জা আর প্রস্তুতি। এসবের মধ্যে কনের হাতে সগৌরবে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় গাঢ় খয়েরি রঙের মেহেদি। আমাদের উপমহাদেশের মেয়েরা যেকোনো অনুষ্ঠানেই মেহেদি দিতে পছন্দ করে। তবে বিয়েতে এর গুরুত্বই অন্যরকম। সাজসজ্জার পাশাপাশি মেহেদির কিছু শাস্ত্রীয় গুরুত্বও আছে। এ সময় কনেকে অকারণ মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতা থেকে দূরে রাখতে, শরীর ঠান্ডা রাখতে মেহেদি ব্যবহৃত হয়। মেহেদি ন্যাচারাল অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিফাঙাল তাই কনেকে ছোঁয়াচে কোনো ফ্লু থেকে রক্ষা করার জন্যও মেহেদি দেওয়া হয়। প্রাচীনকালে বউকে অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করতে মেহেদি দেওয়া হতো। কিন্তু এখন বিয়েতে ফ্যাশন ও সাজসজ্জার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ মেহেদি।
বিয়ের পাকা কথা দেওয়া শেষ, পানচিনি, আংটিবদল শেষে শুরু হয় বিয়ের জোরশোর প্রস্তুতি। বিয়ের আগে গায়েহলুদ। আর গায়েহলুদের ঠিক আগের রাতেই ধুম পড়ে মেহেদি উৎসবের। মেয়ের হাত সাজানো হয় নান্দনিক সব ডিজাইনে। আগে গাছের কাঁচা মেহেদির পাতা বেটে কাঠির সাহায্যে ফুল বা বৃত্ত এঁকে, নখ ভরাট করে মেহেদি দিয়ে সাজানো হতো কনের হাত। এখন কত শত প্রকার রঙবেরঙের আর্টিফিশিয়াল মেহেদি, ইনস্ট্যান্ট রঙ হওয়ার মেহেদি, হারবাল মেহেদি, অর্গানিক মেহেদি মেলে। বিভিন্ন এক্সপার্ট আর্টিস্ট ডাকা হয় এখন মেহেদি উৎসবে। ফুটিয়ে তোলা হয় দারুণ সব ডিজাইন।
হাতের আকৃতির ওপর নির্ভর করে নকশা
ডিজাইনের সময় হাতের ধরনের ওপর নজর রাখা উচিত। হাতের তালু বড় হলে ভরাট ও গোল আকৃতির নকশা করলে ভালো দেখায়। আবার একটু ছোট হাতের তালুতে লতাপাতা, ফুল বা লম্বা কোনো নকশা করলে মানায়। হাতের আঙুলে নকশা করার সময় অনেকে সব আঙুলেই নকশা করে। আবার কেউ একটা বা দুইটা আঙুলে নকশা দেয়। যদি কনুই থেকে তর্জনী পর্যন্ত লম্বা ডিজাইন হয়। সে ক্ষেত্রে তর্জনীতে ভরাট নকশা ভালো লাগবে। অন্য কোনো আঙুলে নকশা না করলেও চলবে।
হাতে মেহেদি দেওয়ার আগে
- মেহেদি লাগানোর আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। মলম, ক্রিম, লোশন ব্যবহার করা যাবে না।
- হাতে ওয়াক্স করার কমপক্ষে এক দিন পর মেহেদি লাগানো ভালো। কারণ ওয়াক্সিং করার পর মসৃণ ত্বকে মেহেদির রঙ ঠিকমতো বসে না।
- মেহেদি দেওয়ার সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন অতিরিক্ত নড়াচড়ার কারণে মেহেদির নকশা নষ্ট না হয়ে যায়।
হাতে মেহেদি দেওয়ার পর
- মেহেদি দেওয়ার পর তা শুকাতে সময় দিতে হবে। তাড়াহুড়া করে উঠিয়ে ফেললে রঙ হবে না।
- শুকনো নকশার ওপরে লেবু, চিনির ঘন সিরাপ তৈরি করে তুলা দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে রঙ গাঢ় হয় এবং শুষ্কতা থেকে হাত রক্ষা পায়।
- শুকিয়ে গেলে পানি লাগানো যাবে না। ঘষে ঘষে তুলতে হবে।
মেহেদির সুন্দর রঙ পাওয়ার জন্য
- হাতে মেহেদি লাগানোর পর চুলায় তাওয়া দিয়ে তাতে কিছু লবঙ্গ ছিটিয়ে হাত ছেঁকে নিলে মেহেদির রঙ গাঢ় হবে।
- হাত থেকে মেহেদি ওঠানোর পর পানিতে না ধুয়ে শুকনো হাতে সরিষার তেল লাগালে রঙ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- মেহেদি দিলে হাতে যতটা সম্ভব কম পানি লাগাতে হবে। তাহলে রঙ বেশিদিন স্থায়ী হবে।