আমরা আগেই ঠিক করেছিলাম এ বছর শীতের সময় বনভোজনে যাব। কারা কারা যাব, সে ব্যাপারে তেমন কোনো ভাবনা ছিল না। যেহেতু আমি, আমার ছোট ভাই এবং কাকাতো ভাই তূর্যসহ তিনজন তো আছিই। আর কেউ যদি সঙ্গে থাকতে চায় তাতেও কোনো আপত্তি নেই। ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।’ এমন একটা কথা তো আমরা সবাই জানি। যাই হোক এর মধ্যে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতেই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে আমার পিসাতো বোন প্রথমা তিথি, পৌলমী তিমা, স্নেহা, নিধি, স্নিগ্ধও এসেছে। এখনই উপযুক্ত সময় ভেবে আমিই উদ্যোগ নিই। আমাদের বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা ভিটা বাড়ি আছে, ঘাস লতায় জড়ানো। নানান ধরনের গাছগাছালি দিয়ে ঘেরা বাড়ি। আমরা সেখানেই চড়ুইভাতির আয়োজন করতে লাগলাম। তার আগে কী কী রান্না করব, সেসব ভেবে নিলাম। ডিম ভুনা, পেঁয়াজু আর সাদা ভাতের সঙ্গে সালাদ।
কিন্তু রান্না করতে ঝামেলায় পড়লাম। আমরা কখনও লাকড়ি দিয়ে কোনোদিন রান্না করিনি। মুশকিলে পড়লাম। আমাদের জুঁই মাসী এসে যোগ দিলেন। আসলে তার সহযোগিতা না থাকলে আমরা পেরে উঠতে পারতাম না। রান্নাবান্নার অধিকাংশ কাজ জুঁই মাসীই করলেন। আমার বন্ধু রিফা, শ্রেষ্ঠা, প্রমি, সুস্মিতা, অর্পিতা ও সুপ্রিয়াকে দাওয়াত করলাম। ছোট ভাইয়ের বন্ধু শুভ্র ও নিধির বন্ধু ঐশী। রান্নার ফাঁকে ফাঁকে চলল তুমুল আড্ডা আর হইচই। গান, গল্প, কবিতা আবৃত্তি। তখন হালকা শীতের আমেজ ছিল। রান্না শেষে সবাইকে মাদুর বিছিয়ে বসতে বলা হলো। সারি সারি করে সবাই বসে পড়ল। সবার সামনে কলাপাতা দেওয়া হলো। সেই কলাপাতার ওপরে পানি দেওয়া হলো। এরপর ভাত বেড়ে দিলাম। লবণ দেওয়া হলো। কী যে সুন্দর একটা দৃশ্য। সবাই খাবার সামনে নিয়ে বসে আছে। ওদিকে গাছগাছালির ভেতর থেকে কাক ডেকে যাচ্ছে। সবাইকে তখন সচেতন করে দেওয়া হলো। কোনো কাক যেন না উড়ে আসতে পারে। এজন্য বড় একটি শুকনো বাঁশের লাঠি নিয়ে আসা হলো। তারপর একজনে হাতে দিয়ে বললাম, খবরদার। কাক বা অন্য কোনো পাখি খাবারের ওপর দিয়ে যেন না যায়। তখন আমার বোন প্রথমা তিথি বলল, আরে পাখিদের বুঝি খেতে ইচ্ছে করে না। পাখিদের বাড়িতে এসে আমরা বনভোজন করছি। আর ওদেরকে কোনো খাবার দেব না। তা হয়! তখন আমার ভুল ভাঙল। সত্যি তো। পাখিদের জন্য তো আমরা কিছু খাবার রেখে দিতে পারি। তাহলে আমাদের সঙ্গে ওরাও আনন্দ করে খেতে পারবে। আমরা খাবার খাওয়ার আগে পাখিদের কিছু খাবার দিলাম। ওরা সেগুলো খুঁটে খুঁটে খেতে লাগল। পরে আমরাও তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষ, সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এলো। সবাই যার যার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। এরকম আনন্দপূর্ণ একটি দিনের কথা কি সহজে ভোলা যায়। একসঙ্গে এতজনের বনভোজন সত্যিই মজাদার।
অষ্টম শ্রেণি, হিরামিয়া গার্লস হাই স্কুল, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ