× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেখে এলাম সুন্দরবন

লেখা ও আঁকা : ইয়ালিনা তাসিফা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:২৭ পিএম

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৫১ পিএম

দেখে এলাম সুন্দরবন

ডিসেম্বর মাস। এ সময়টাকে অবশ্য ঘুরে বেড়োনোর মৌসুম বলা চলে। কিন্তু এবার আমাদের কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। থাকবেই বা কী করে! আমার ছোট ভাই রাতুল যে অসুস্থ। আমি তাই প্রার্থনা করতে লাগলাম, রাতুল যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে। রাতুল যখন মোটামুটি সুস্থ হলো, ঠিক তার পরদিন বাবা জানালেন, আমরা সুন্দরবন বেড়াতে যাব। দিন তারিখ ঠিক করা হলো। যথারীতি নির্দিষ্ট দিনে আমরা খুব ভোরে বাসে উঠলাম। বাসে যেতে যেতে পথ যেন ফুরায় না। সবাই অনেকটা ক্লান্ত। তারপরও সুন্দরবনের পশুপাখি দেখার জন্য মনটা ছটফট করতে লাগল। বাস থেকে নেমে তারপর বড় স্টিমারে চড়ে যেতে লাগলাম সুন্দরবন। সেবার আমাদের মোট তিন দিনের সফর ছিল। প্রথম দিন দুপুরবেলা আমাদের নামানো হলো যে জায়গায়, সেখানে শুধু হরিণ। যদিও শুনেছিলাম সুন্দরবনে বাঘ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু যে জায়গায় বাঘের দেখা মেলে ততদূর পর্যন্ত আমরা যাইনি।

দোকান থেকে আমরা বাদাম কিনলাম। সেগুলো হরিণকে দিলাম। ওদের কচকচ করে খাওয়া দেখে অনেক মজা পেলাম। পরিবারের সবাই মিলে অনেক ছবিও তুললাম। তারপর আবারও ফিরে গেলাম আমাদের স্টিমারে। প্রথম দিন রাতের বেলা আমাদের রুমের বারান্দা দিয়ে অপরূপ এক দৃশ্য নজরে পড়ল। আকাশের চাঁদটা দেখতে পেলাম। চাঁদের আলো পানিতে পড়ছে। ঢেউয়ে ঢেউয়ে চাঁদ যেন ছলকে ছলকে উঠছে। মনে হচ্ছে পানিতে মাছ নড়াচড়া করছে। তখন সেখানে যাওয়ার খুব ইচ্ছে হলো। মাছগুলো মনে হয় ওঠানামা করছে। দ্বিতীয় দিন আমরা সুন্দরবনের গভীরে পৌঁছালাম। কেউ কেউ বলাবলি করছিল এখান থেকে নাকি বাঘ দেখা যায়। দেখলাম সবার হাতে লাঠি। তাই আমরাও হাতে লাঠি নিলাম। যদিও বাঘের কথা শুনে একটু ভয় ভয় করছিল। তারপরও সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গলকে দেখার কৌতূহল। আমাদের দলের কেউ নন, এমন একজন বললেন, তিনি নাকি বাঘ দেখেছেন এর আগে। উনি বললেন, বাঘ বসে থাকা দেখেছেন। আমরা বাঘ দেখার অপেক্ষা করতে লাগলাম। দেখি হরিণ ছোটাছুটি করছে। তখন মনে হয় গভীর অরণ্যের ভেতর থেকে বড় কোনো প্রাণী হরিণদের তাড়া করছে। হরিণদের প্রতি মায়া হতে লাগল। এত সুন্দর দুটি হরিণ। ওদেরকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে জুম করে ছবি তুললাম। এ ছাড়া সেখানে আমরা নানা রকম গাছগাছালি দেখলাম যেগুলোর নাম বইয়ে পড়েছি।

ফেরার দিনে সবার মন খারাপ, কিন্তু তার সঙ্গে ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পরে সকলেই খুশি। রাতে সবাই মিলে লুডো খেলার মধ্য দিয়েই শেষ হলো আমাদের আনন্দ। পরের দিন বাড়িতে পৌঁছে খারাপ লাগলেও এটি ছিল আমার জীবনের আনন্দদায়ক ভ্রমণ।

দশম শ্রেণি, দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা