× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংসদে নারী, নারীর সংসদ

আহমাদ শামীম

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:৫০ পিএম

সংসদে নারী, নারীর সংসদ

অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুলপ্রতীক্ষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনের জয়পরাজয়ের হিসাব টানার জন্য এ লেখা নয়। এ লেখা সংসদে নারী সদস্যদের উপস্থিতি বিষয়ে।

নির্বাচনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে রেকর্ড ৯৫ নারী অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন ১৯ জন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারীর সংখ্যা ছিল ৬৮। যার মধ্যে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বাধিক ২২ জন সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ী নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত জানার আগে দেখে নেওয়া যাক এর আগের নির্বাচনগুলোয় নারী সদস্যদের উপস্থিতি কেমন ছিল।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৫ জন নারী প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩০-এ। সেবার দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী সংদস্য ছিলেন তৎকালীন খুলনা-১৪ আসন থেকে সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ।

১৯৮৬ সালের পাঁচজন, ১৯৮৮ সালে চারজন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন। এ দুই নির্বাচনে কতজন নারী প্রার্থী ছিলেন তার সংখ্যা জানা যায়নি। ১৯৯১ সালে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন, ১৯৯৬ সালে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে আটজন, ২০০১ সালে ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন, ২০০৮ সালে ৫৯ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৯ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নারী নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আগেই বলেছি, দেশে জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন সর্বোচ্চসংখ্যক নারী; যা গত নির্বাচনের তুলনায় ৩৮ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। এবার ভোটের লড়াইয়ে ৩০০ আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৮৯৫ প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ৯৪ জন। এর মধ্যে ২৬ জন লড়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। আর নির্বাচনে আসা ২৭ রাজনৈতিক দলের ১৪টি মনোনয়ন দিয়েছে ৬৮ নারীকে। যদিও পুরুষ প্রার্থীর তুলনায় নারীর সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ।

এ ৯৪ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ২০ জন নারীকে মনোনয়ন দেয়। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি নয়জন করে, তৃণমূল বিএনপি ছয়জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ তিনজন করে এবং গণফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি দুজনকে মনোনয়ন দেয়। এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম, কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি একজন করে নারী প্রার্থী দেয়।

অংশগ্রহণের দিক থেকে সংখ্যা বাড়লেও গতবারের তুলনায় এবার নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা কমেছে। গতবার এ সংখ্যা ২২ হলেও এবার ১৯।

এবার বিজয়ী নারী প্রার্থীদের ফলাফলে চোখ বোলানো যাক। প্রথমেই আসি গোপালগঞ্জ-৩ আসনে। এ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। মোট ১০৮ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম এনপিপির শেখ আবুল কালাম আম প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬০ ভোট।


রংপুর-৬ আসনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আবার বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নৌকা নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৩৫টি। নিকটতম স্বতন্ত্র সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৩২।

চাঁদপুর-৩ আসনেও বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ আসনে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮ হাজার ১৬৬। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া পেয়েছেন ২৪ হাজার ১৯৭ ভোট। শেরপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী পেয়েছেন ২ লাখ ১২ হাজার ১৪২ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র সৈয়দ মুহাম্মদ সাঈদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

বাগেরহাট-৩ আসনে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ৭৫ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র ইদ্রিস আলী ইজারাদার পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২০৪ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নিজের আপন বড় ভাই স্বতন্ত্র অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলামকে হারিয়ে নৌকার মাঝি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। লিপি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৬২ আর সাফায়াতুল ইসলাম ৭৩ হাজার ৯৯৮ ভোট।

বরগুনা-২ আসনে সুলতানা নাদিরা নৌকা প্রতীকে ৪৬ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আবদর রহমান খোকন ১ হাজার ২৭ ভোট।

গাজীপুর-৪ আসনে নৌকার সিমিন হোসেন রিমি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭২৯ ভোট। নিকটতম স্বতন্ত্র কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলম আহমেদ পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫ ভোট।

গাজীপুর-৩ আসনে রুমানা আলী ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র মো. ইকবাল হোসেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৪ ভোট পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট। নিকটতম স্বতন্ত্র হোসাইন মো. আবু তৈয়ব পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৮৭ ভোট।

এ ছাড়া কক্সবাজার-৪ আসনে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের শাহীন আক্তার। তিনি ৬০ হাজার ৬৬৪ এবং তার নিকটতম স্বতন্ত্র নুরুল বশর পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৯ ভোট। বগুড়া-১ আসনে ৫১ হাজার ৫৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাহাদারা মান্নান। নিকটতম স্বতন্ত্র শাহাজাদী আলম লিপি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৪ ভোট।

গাইবান্ধা-৩ আসনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি ২০ হাজার ৪২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র মফিজুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৪৯৯ ভোট।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকা প্রতীকের ড. জান্নাত আরা হেনরী জয় লাভ করেছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়ে। বিপরীতে জাতীয় পার্টির আমিনুল ইসলাম ঝন্টু পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৮০ ভোট। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৪ ভোট। নিকটতম ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র সোহানা তাহমিনা পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৯৬।

২৯৮ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলে এই ১৯ জন বিজয়ী ছাড়াও ময়মনসিংহ-৩ আসনের একটি কেন্দ্রে আবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে বিধায় এখানে নির্বাচনের ফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও অন্যান্য কেন্দ্রের ভোটের হিসাবে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের নিলুফার আঞ্জুম। ১৩ জানুয়ারি এ কেন্দ্রে ভোট হবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নারী প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী এবারের নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেননি। এ ছাড়া ২৬ জন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছেন চারজন। 

স্বতন্ত্রদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন গাইবান্ধা-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার, মাদারীপুর-৩ আসনে তাহমিনা বেগম, সুনামগঞ্জ-২ আসনে জয়া সেনগুপ্তা এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন ছাড়াই হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র কেয়া চৌধুরী। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৫২ ভোট। নিকটতম জাতীয় পার্টির এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু ৩০ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়েছেন।

এ ছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি আবদুস সোবহান গোলাপকে ৩৪ হাজার ৬৬২ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তাহমিনা বেগম। ঈগল প্রতীকে তাহমিনা পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৩৩ ভোট। সোবহান পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭১ ভোট।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত নৌকার প্রার্থী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রায় ৮ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। নৌকা প্রতীকে মাহমুদ পেয়েছেন ৪২ হাজার ৭৫ ভোট। কাঁচি প্রতীকে জয়া পেয়েছেন ৫০ হাজার ২৯৫ ভোট।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে হারিয়েছেন স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার। ঢেঁকি প্রতীকে নিগার পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৯ ভোট। শামীম হায়দার পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৪৯১ ভোট।

গতবারের তুলনায় এবার বিজয়ীর সংখ্যা কমলেও অংশগ্রহণ বাড়ার দিক থেকে এ পরিস্থিতি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। রাষ্ট্র পরিচালন কাঠামোয় যত বেশি নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে, ততই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা