অমর্ত্য রুপাই
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:১০ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:১১ পিএম
অলংকরণ: জয়ন্ত সরকার
২০২৩ সাল চলে গেছে। একটা বছর মানে ৩৬৫ দিন। এ সময়ের মধ্যে কত ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিদায়ি বছরের অনেক স্মৃতি ও গল্প জমা আছে। পাওয়া-না পাওয়ার ব্যাপারও আছে। গত বছর নানান জায়গায় ঘুরেছি। নতুন অনেক কিছু দেখেছি। সেসব দৃশ্য এখন মনের ভেতর ছবির মতো ভাসছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে গিয়েছিলাম রাজধানীর আফতাবনগরে। যেন আনন্দঘন সময় কাটাতে পারি। আসলেই তাই হলো। এরপর পদ্মা সেতু, চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেল, মাওয়া ফেরিঘাট, উত্তরার দিয়াবাড়ী মেট্রোরেলের প্রথম স্টেশন; আরও কত জায়গায় গিয়েছি।
বিদায়ি বছরে কিছু দুঃখও ছিল। অনেক প্রিয় মানুষ দূর আকাশে চলে গেছে। তাদের মধ্যে রায়ীদ ভাইয়ার কথা ভুলতেই পারি না। বগুড়া গেলে সারা দিন রায়ীদ ভাইয়ার সঙ্গে ঘুরতাম, খেলতাম, গল্প করতাম। আমি এখনও মনে করতে পারি না তার চলে যাওয়ার কথা। বিশ্বাসই হয় না। মনে হয়, এই এখনই ভাইয়া ডেকে বলবে, এসো, খেলি! কী সুন্দর করে হাসত।
যা হোক, ২০২৩ সালের কিছু ভুল যেন নতুন বছরে শুধরে নিই। এ বছরটা প্রাপ্তির একটা বছর হোক। এ বছরটা কেমন চাই? এ বছরে চাই করোনা যেন একেবারেই চলে যায়। সেই ২০২০ সাল থেকে করোনা নিয়ে কী যে কষ্ট। গত বছরও ভীষণ খারাপ গেছে। স্কুলে যেতে পারি না, লেখাপড়া হয়নি ঠিকমতো। খেলতে যেতে পারি না। কখন কে অসুস্থ হয়ে যায়, সেই দুশ্চিন্তা হয়। মামণি বাইরে যায়। করোনা হয় কি না, খুব চিন্তা হয়। এ বছর থেকে কোনো মহামারি যেন না থাকে।
ডেঙ্গু অনেক জ্বালিয়েছে। বছরের শেষেও শেষ হলো না। এডিস মশা কামড়াবেÑতাই নিচে খেলতে যেতে পারিনি। স্কুলেও যেতে পারিনি। ঘুমাতে পারিনি ঠিকমতো, কখন মশা কামড়ায় সেই ভয়ে। বছরের পুরোটা সময় ডেঙ্গু নিয়ে অস্থির ছিলাম। কেন যে ডেঙ্গুটা কমাতে পারছে না কেউ!
সবাই চলে যেন আপন মনে, স্বপ্ন পূরণ হয়। কোনো যুদ্ধ যেন না থাকে এ পৃথিবীতে। এবার যুদ্ধ ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে। যখন দেখি শিশুরা মারা যাচ্ছে, রক্তাক্ত শিশুদের মুখ, শিশুরা কাঁদছে তখন আসলেই খারাপ লাগে। শুনেছি মসজিদ-উপাসনালয় কিছু বাদ যায়নি ইসরায়েলের হামলা থেকে। মানুষ মরেছে অনেক। ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন সেখানে রাস্তায় রাস্তায় বাতাসে শুধুই বারুদের গন্ধ, মানুষের কান্না। এ যুদ্ধের শেষ হোক। শান্তি ফিরে আসুক।
এ বছরে সবার যেন প্রত্যয় থাকে ভালো কিছু করার। যেন পড়ালেখায় ভালো করতে পারি। আরও বেশি বেশি ঘুরতে পারি। দেখতে পারি সুন্দর সুন্দর জায়গা, মানুষ, দৃশ্য। মানুষ যেন থাকে সুখে শান্তিতে। কারও যেন কোনো কষ্ট না থাকে।
আমরা একটা বড় ট্যুর দিয়েছিলাম। ভ্রমণটা ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ভারতের কলকাতায় বা পশ্চিমবঙ্গে। এটা আমার জীবনের প্রথম দেশের বাইরে যাওয়া। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। ওটা কলকাতার বোলপুরে। সঙ্গে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পার্ক, ইকো পার্ক, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, আরও কত জায়গায় যে ঘুরেছি, দেখেছি। এটা ছিল আমার জন্য একটা বিশেষ ট্যুর। এটা নিয়ে ২০২৫ সালে একটা গল্প লিখব।
২০২৩ সালের মাঝের সময়ে অনেক গরম ছিল। এত গরম যে খুব কষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছিল না। এবার চাই একটু ঠান্ডা আবহাওয়া। জলবায়ু পরিবেশ যেন কেমন বদলে গেল। বেশিদিন শীত থাকে না, বৃষ্টি হয় না। প্রচণ্ড গরম পড়ে, টেকা যায় না। মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়। ভয় লাগে। রাস্তায় বের হলে ধুলোর জন্য শ্বাস নিতে পারি না, কাশি হয়। গাড়িগুলো শুধু হর্ন বাজায়। শব্দ হয়। এরকম পরিবেশ কবে বদলাবে, জানি না। কবে হবে চারদিক শান্ত নিরিবিলি সবুজ!
অষ্টম শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল,কাকরাইল, ঢাকা