মো. ফখরুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৯ এএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:০৭ পিএম
বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে উচ্ছসিত এক শিশু ছবি : লেখক
বই উৎসবের প্রসঙ্গ এলেই মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। নতুন বছরের শুরুতেই প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত এত এত শিক্ষার্থী নিয়ে নতুন বইয়ের উৎসব, বিশ্বে এর তুলনা নেই। প্রতি বছর বই উৎসবের দিনটিতে নগর বা শহরের কোনো না কোনো স্কুলে যাওয়া হয়। ইচ্ছা ছিল গ্রামের বই উৎসব দেখার। কেমন হয় সেখানকার বই উৎসব সেটাই দেখে আসার।
তাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে রওনা দিই মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পথে। ঢাকা ছেড়ে মানিকগঞ্জের দিকে যতই এগোই, কুয়াশার ঘনত্ব ততই বাড়তে থাকে। মনটা একটু খারাপ হয় ছবির মান কেমন হয় তা ভেবে। ঘণ্টা দুয়েক পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ১৪ নম্বর বাষ্টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছালাম। পথের দুই ধারে দিগন্তছোঁয়া হলুদ শর্ষে ক্ষেত দেখে চোখ-মন দুটোই জুড়িয়ে গেল। তখনও কুয়াশার আড়মোড় কাটেনি। অথচ নতুন বই পাওয়ার উৎসবে যোগ দিতে স্কুলপ্রাঙ্গণ মুখরিত। হঠাৎ আগন্তুক দেখে আমাকে ঘিরে ধরল শিশুর দল। যখন জানল আমি তাদের বই উৎসবের ছবি তোলার জন্য ঢাকা থেকে এসেছি, তাদের আনন্দের মাত্রা মুহূর্তে দ্বিগুণ হয়ে যায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয় হলো। তারাও বেশ খুশি হলেন।

সাড়ে ১১টায় শুরু হলো বই বিতরণ। শুরুতেই সব শিক্ষার্থী ঘাসে ঢাকা মাঠটির ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে। তারপর শ্রেণি অনুযায়ী লাইন ধরে দাঁড়িয়ে পড়ে সবাই। আমন্ত্রিত জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় বই বিতরণ। নতুন বই পেয়ে শিশুদের উল্লাস ও খুশি ছিল দেখার মতো। উপস্থিত অভিভাবকরাও ছিলেন খুশিতে উল্লসিত। স্কুলটির পাশেই বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতের মেঠো পথ ধরে বাড়ি ফিরে যাওয়ার দৃশ্যও ছিল বেশ মধুর।

প্রধান শিক্ষক জানালেন বিদ্যালয়টিতে মোট ছাত্রছাত্রী ১৮০ জন, যার মধ্যে ৯২ জন মেয়ে। মোট সাতজন শিক্ষিকা রয়েছেন। স্কুলটির পড়াশোনার রেজাল্টও বেশ ভালো। খেলাধুলায় রয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। জানতে পারলাম, এ বছর সারা দেশে ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭ কপি নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে। সরকার ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর মাঝে ৪৬৪ কোটি ৭৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৩ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।

২০১৭ সাল থেকে সরকার সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের তাদের মাতৃভাষায় অধ্যয়নের জন্য চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষায় বই বিতরণের পাশাপাশি অন্ধ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বই বিতরণ করছে। পৃথিবীতে অষ্টম আশ্চর্য বলে যদি কিছু থাকত, তা হতো এ বই বিতরণ উৎসব।