লেখা ও আঁকা: মোমেনা জান্নাত ফ্লোরা
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
রঙিন স্বপ্ন। ছবি এঁকেছেন মোমেনা জান্নাত ফ্লোরা
সেদিন বিকালে খালামণি ফোন করে বললেন আমাদের বাসায় আসবেন। জানালেন, আমাকে নাকি কিছু একটা উপহার দেবেন। তার আসার কথাটি আম্মুকে যেন এখনি না বলি। আমি খালামণির কথায় সম্মতি জানিয়ে ফোনের লাইন কাটলাম। অপেক্ষা করতে লাগলাম। দু-তিন ঘণ্টা পর কলিংবেল বেজে উঠল।
আম্মু দরজা খুলেই তো অবাক। এরপর সবাই কুশলাদি বিনিময় করল। আমি খালামণির কাছে উপহার দেখতে চাইলাম। খালামণি বললেন, ‘উপহার আজ নয় কালকে।’ আমি আর কথা বাড়ালাম না। নিজের ঘরে এসে ভাবতে শুরু করলাম যে উপহার কি আর মুখে বলা যায়? তা তো হাতে দিতে হয়। কিন্তু আমি কোনোভাবেই খালামণির এই রহস্যময় কথার সমাধান খুঁজে পেলাম না। নিরুপায় হয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালবেলা খুব তাড়াতাড়ি ঘুমটা ভেঙে গেল। আম্মু, খালামণি, বাবা, আপু সবাইকে ব্যাগ গোছাতে দেখে বললাম, ‘তোমরা কোথায় যাচ্ছ?’ খালামণি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘উপহারের তো কেবল শুরু।’ খালামণির কথায় অনেক খুশি হলাম। কিন্তু মুখে প্রকাশ করলাম না। বুঝতে পারলাম আমরা কোনো ঐতিহাসিক জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছি। দুপুরে রওনা হলাম। আপুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’ আপু আমার কথার উত্তর না দিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে হাসল। দেখতে দেখতে আমরা ঢাকা এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম। আমার যে কী আনন্দ লাগছিল তা মুখে বলে প্রকাশ করা যাবে না। আমরা একটা বিমানে উঠলাম। আমি আর আমার আপু পাশাপাশি বসলাম। বিমান, টিকিট, ভিসা সবকিছু দেখে বুঝলামÑ আমরা কলকাতা যাচ্ছি। কলকাতা পৌঁছালাম। সেখান থেকে শ্রীনগর গেলাম। শ্রীনগর থেকে পৃথিবীর স্বর্গে পৌঁছে গেলাম। দিগন্তজোড়া উঁচু উঁচু পাহাড় আর মাঝে মাঝে দেখা মিলছিল সাদা বরফের খেলা। দেখেই মন ভরে যাচ্ছিল। কাশ্মিরে আসার সময় সবাই শ্রীনগরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলাম। কাশ্মিরে চারদিকে শুধু বরফ আর বরফ, সঙ্গে স্নোফল। আমরা বরফ নিয়ে খেলা করছিলাম, ছবি তুলছিলাম। তারপর আমরা খেলাম কাশ্মিরের তাজা ফল। যার স্বাদ কখনোই ভোলার নয়। অন্য খাবারগুলোও অনেক মজার ছিল, তবে মসলা বেশি ছিল। এরপর বরফ নিয়ে আমি আর আপু যখন খেলা করছিলাম, তখন বাবা আমাদের কুলফি এনে দিলেন। যখনোই কুলফিটা খেতে যাব তখনোই অ্যালার্মটা ডং ডং করে বেজে উঠল। আরে.......এটা কী হলো?
ষষ্ঠ শ্রেণি, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী