× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খিরু নদী গিলে খাচ্ছে এক প্রতিষ্ঠান

হুমায়ুন কবির, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৩ পিএম

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৬ পিএম

পাকা দেয়াল তুলে বালু ফেলে দখল করা হচ্ছে নদী

পাকা দেয়াল তুলে বালু ফেলে দখল করা হচ্ছে নদী

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে অতিবাহিত খিরু নদী গিলে খাচ্ছে অর্গানিক ডেইরি খামার ও সবজি বাগান নামে এনআর গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এদের বিরুদ্ধে ৩৬ ফিট সড়কের সরকারি হালট দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নে খিরু নদী দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে অর্গানিক ডেইরি খামার ও সবজি বাগান নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের কাছে আরিফ কোম্পানি নামে পরিচিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চেলের ঘাট ব্রিজের ওপর থেকে পূর্ব দিকে তাকালেই দেখা যাবে নদীর বেশিরভাগ অংশই ওই কোম্পানি দখল নিয়ে নদীর ওপর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে। সীমানার ভেতরে মাটি ভরাট করে পাহাড়ের মতো তৈরি করেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবেÑ নদীর সীমানা ওই পর্যন্ত শেষ। তারপর নদী যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। এতে খিরু নদী হারিয়েছে তার নব্যতা। অপরদিকে ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই ৩৬ ফিটের সরকারি হালটের একটি সড়ক ছিল। ওই সড়কের আধা কিলোমিটার দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয়রা জানায়, অর্গানিক ডেইরি খামার ও সবজি বাগান নামে এনআর গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর ধরে এখানে বিশাল প্রজেক্ট গড়ে তুলেছে। খামারের জন্য কেনা জমির সঙ্গে সরকারি খাসজমি ও নদীর জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট করে প্রজেক্টের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে। আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে প্রজেক্টের ভেতর দিয়ে চান্দের টিকি বাজার পর্যন্ত আধা কিলোমিটার একটি সড়ক ছিল। তা এখন তাদের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে নিয়ে উধাও করে দিয়েছে। আগে যে নদী ছিল তা দখল করে খালের মতো বানিয়ে ফেলেছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় এসব দখল করেছে এ কোম্পানি। 

তারা আরও জানায়, আরিফ কোম্পানি (এনআর গ্রুপ) সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকালে বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে স্থানীয় এলাকাবাসী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে আবারও তারা প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় সীমানাপ্রাচীরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।

ময়মনসিংহ জনউদ্যোগ আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এক রিটের আদেশে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশের সব নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দখল ও দূষণ করার অর্থই হলো নদ-নদীর জীবন্ত সত্তাকে হত্যা করা। প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকেও ভূমিকা রাখতে হবে। খিরু নদী দখলের দুঃসাহসিক দৃশ্যটি যে কারও নজরে পড়বে। নদীর অর্ধেকেরও বেশি জায়গাজুড়ে পাকা দেয়াল নির্মাণ করে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদী দখলরোধ সম্ভব হবে না। দখলদারদের হাত থেকে নদীগুলো রক্ষা না পেলে বোরো আবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকরা। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি ও শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া খরস্রোতা নদীগুলো হারাবে তার আপন রূপ ও গতি।’ হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ  বলেন, ‘আরিফ কোম্পানি নদীর বেশিরভাগ অংশ দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে। মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলেছে। তাদের বাধা দিলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। আরিফ কোম্পানি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে মাটি ফেলে ভরাট করছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘এনআর গ্রুপের নদী দখলের বিষয়টি শুনেছি। এটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে। কিছু বিষয় আছে আরওআর, সিএসÑ এগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে অর্গানিক ডেইরি খামার ও সবজি বাগান নামে এনআর গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা