মোহাম্মদ মহসীন
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:০৩ পিএম
ফলটি অঞ্চলভেদে চুকুর বা গুটগুইট্টা নামে পরিচিত
চুকুর একটি পরিচিত ফল। ফলটি দেখতে ঢেঁড়শ কিংবা জবা গাছের মতো যা মালবাসিই পরিবারের চুকুর সবজি বা ফুল বলা হয়। এ ফলটি অঞ্চলভেদে চুকুর, চুকুইর, টকফল, গুটগুইট্টা, খাটাফল নামে পরিচিত।
চুকুর প্রতি বছর একবার ফলন দেয় যা ঝোপজাতীয় গাছের ধরন। এটি ৬ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। গাছটি ডালপালা ছড়িয়ে ঝোপঝাড়ের মতো বেড়ে ওঠে। গাছের শাখাপ্রশাখার ধরন সবুজাভ বা লালচে বেগুনি রঙের। এ দেশে চুকুর দুই প্রকার- গাছের কাণ্ড ও ফল লাল রঙের, আরেকটি সবুজ রঙের। চুকুরের পাতা প্রথমে ডিম্বাকার থাকে, তিন খণ্ডে বিভক্ত হলেও কিনারে খাঁজকাটা করাতের মতো থাকে। ফলটি দেখতে হালকা হলুদ খয়েড়ি রঙের। ফুল ঢেঁড়শ ফুলের মতো, কাণ্ডের ফাঁকে ফোটে। বৃতিটি লাল বা সাদাটে। ফুল যখন ফোটে বৃতি ফল ঘিরে রাখে।
চুকুরের বৃতি থেকে জেলি ও চাটনি তৈরি করা যায়। শীতকালে বাড়ির আঙিনা থেকে চুকুরের বৃতি ও পাতা দিয়ে টক রান্না করে খাওয়ার প্রথা চলমান।
তাতে সাইট্রিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে গাছে ফুল আসে। ফুল ফোটার সপ্তাহ দুই পর কচি অংশ খাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus sabdariffa। ইংরেজি নাম Malvaceae। এছাড়াও ইংরেজিতে একে রোজেলা, রোজেল ও সরেল roselle, sorell বলা হয়।
চুকুরের আদিনিবাস ভারতবর্ষ ও মালয়েশিয়া। এটি আফ্রিকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও মধ্য আমেরিকায়ও চুকুর গাছ ভালো জন্মে।
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, মৌলভীবাজার, সিলেটে চাষ হলেও এ ফলটি কমবেশি দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। কিন্তু এটি বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় কি না জানা নেই।