দীপু মাহমুদ
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৪১ পিএম
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৪৬ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
মা ডাকলেন, টয়া! এক লাফ দিয়ে সে এসে মায়ের সামনে হাজির হলো। খুশি মুখে বলল, মা, আমি এখানে। টয়া আছে বিশাল আনন্দে। তার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সে এবার ক্লাস থ্রি থেকে ক্লাস ফোরে উঠবে। মা বলেছিলেন পরীক্ষা শেষ হলে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন। মা চাকরি করেন। আজ ছুটির দিন। তারা চিড়িয়াখানায় যাচ্ছে। সারা দিন থাকবে সেখানে। চিড়িয়াখানায় বাঘ আছে, সিংহ আছে, বানর, ময়ূর, জিরাফ, জেব্রা, হাতি অনেক কিছু দেখার আছে।
মা বললেন, সারা দিনের জন্য যাচ্ছি, ঘরগুলো গুছিয়ে রাখো। বিছানা গোছাও, ঘর ঝাড়ু দাও।
টয়া প্রতিদিন নিজের কাজ নিজে করে। ঘরের কাজও করে। সে ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখে। টেবিলে বইপত্র গোছায়। জামাকাপড় গোছায়। ঘর ঝাড়ু দিতে মাকে সাহায্য করে। তবে আজ তার কিছু করতে ইচ্ছে
করছে না। তার কেবল মনে হচ্ছে, কখন যাব চিড়িয়াখানায়! টয়া বলল, মা, আজ ঘরের কাজগুলো ফিরে এসে করব। মা বললেন, ফিরে এসে রাঁধতে হবে। রান্নায় আমাকে সাহায্য করবে তখন। ঘরের এত কাজ কখন করবে তাহলে?
টয়া বলল, তোমাকে রাঁধতে সাহায্য করতে করতে সেরে ফেলব, দেখো মা। মা হাসলেন। হেসে আদর করে বলেন, ঠিক আছে। শুধু ময়লা কাপড়গুলো এক জায়গায় গুছিয়ে রাখো। রাতে ভিজিয়ে রাখলে সকালে কেচে ফেলতে পারব। আজ ঘরের কাজগুলো করতে না পারলে এক সপ্তাহ করা হবে না। টয়া তাই করল। যে কাপড়গুলো কাচতে হবে সেগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে রাখল। তারপর তারা দুজনে বাসায় তালা লাগিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে চলে গেল।
কাঠের ঘোড়া। দেশের রাজা। লাল ঝুঁটি মোরগ। হুলো বিড়াল। ওরা টয়ার খেলনা বন্ধু। ছিল শোকেসের ভেতর। সেখান থেকে বেরিয়ে এলো। তারা বলল, শুধু বসে থাকি কেন? ঘরের কাজ করি সবাই মিলে। যেমন করে টয়া।
ঘরের ময়লা কাপড়গুলো নিয়ে ঘোড়া গেল কাচতে। কাপড় কেচে করল ঝকঝকে। তারপর সেগুলো মেলে দিল। রাজা গেল রাঁধতে। কুটেবেছে ধুয়ে রাখল সব। ভাত রাঁধল রাজা। তরকারি রাঁধল। সেই খাবার খেতে মজা হলো খুব।
মোরগ ঝেড়েমুছে সাফ করল ঘরের জিনিস। ঝাড়ু দিল পুরো বাড়ি। পানি দিয়ে ঘর মুছল। ঘর হলো তকতকে। কেচে শুকিয়ে রাখা কাপড় ছিল ঘরে। বিড়াল সেগুলো নিয়ে এলো গুছিয়ে। সব কাপড় ভাঁজ করল একে একে। তুলে রাখল থরে থরে সাজিয়ে। কাজ শেষে ওরা আবার উঠে পড়ল শোকেসে। চুপটি করে বসে রইল আগের মতো। টয়া আর মা বাড়িতে ফিরে অবাক। টেবিলে ঢাকা হরেকরকম খাবার। কাচা কাপড় রোদে দেওয়া। সব ঝকঝকে। ঘরবাড়ি ঝাড়ামোছা। একেবারে তকতকে। ঘরের কাপড়গুলো গুছিয়ে ভাঁজ করে তুলে রাখা। ভেবে পেল না, কে করল এত কাজ! মা বললেন, নিশ্চয় এসব করেছে তোমার খেলনা বন্ধুরা। যে নিজের কাজ নিজে করে সবই তাকে ভালোবাসে। কাঠের ঘোড়া, দেশের রাজা, লাল ঝুঁটি মোরগ, হুলো বিড়াল ভীষণ খুশি হলো। তারা ভাবল, ঘরের কাজ করা অনেক আনন্দের।