মো. হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৫১ পিএম
সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি সবার কাছে পরিচিত ‘সবজি চাচা’ নামে
বয়স ৮০ বছরের কম হবে না। বয়সের ভারে দেহ নুয়ে গেছে। ভারী কাজও করতে পারেন না। বেঁচে থাকার জন্য বুনো সবজি ও কলার মোচা বিক্রি করেন ফেরি করে। বলছি,ত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের বৃদ্ধ তাহাজ মণ্ডল। বনবাদাড়ের বিভিন্ন রকমের সবজি তুলে বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান।
তাহাজ মণ্ডল ৪০ বছর ধরে কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কলার মোচা, কলাগাছের ভেতরের নরম শাঁসসহ (থোড়) বিভিন্ন প্রকারের বুনো সবজি বিক্রি করে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে অসুস্থ। বাকি তিনজন পরের জমিতে কামলা খাটেন।
তাহাজ মণ্ডল জানান, তিনি যা আয় করেন তাতে সংসারই চলে না, অসুস্থ ছেলের ওষুধের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়।এ বয়সেও তাই কাজ করতে হয়। সবজি বিক্রি করতে তাকে প্রতিদিন ১০-১৫ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। কাঁধে সাজিয়ে নিয়ে বাসাবাড়িতে সবজি বিক্রি করেন। প্রতিটি কলার মোচা ৫-৬ টাকায় বিক্রি হয়।
তাহাজ মণ্ডল আরও বলেন, প্রতিদিন তাকে অন্তত একশ বাড়ি ঘুরতে হয়। যেদিন সবজি বিক্রি কম হয় সেদিন তিন বেলা খাবার জোটে না। বর্ষা মৌসুমে বনবাদাড় এবং ডোবা থেকে কলমি, হেলেঞ্চা শাক ও শাপলা তুলে বিক্রি করেন। পাড়ায় ঘুরে সবজি বিক্রি করায় তাহাজ মণ্ডল শহরের অনেকের কাছে ‘সবজি চাচা’ হিসেবে পরিচিত। সদা হাস্যোজ্জ্বল তাহাজ মণ্ডল বলেন, জীবনের বাকি সময়টুকু সুস্থ শরীরে এভাবেই কাটাতে চাই।
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয় ঝিনাইদহের পুষ্টিবিদ ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, ‘মূল্যবান বিভিন্ন ধরনের সবজি বয়োবৃদ্ধ তাহাজ উদ্দীন দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ করে মানুষের উপকার করছেন। তাহাজ মণ্ডল পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি অবশ্যই ্রশংসার দাবিদার।’