নিঝুম নিসর্গ
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:২১ পিএম
আঁকা : নিঝুম নিসর্গ
আমার দাদুভাই আব্দুল খালেক হাওলাদার। তিনি ১৯৪০ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। আমি তার মুখে শুনেছি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা। তিনি নিজেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাই যুদ্ধের নানান ঘটনা নিয়ে গল্প করতেন। দাদুভাই ৯ নম্বর সেক্টরের যোদ্ধা ছিলেন। তার সেক্টর কমান্ডারের নাম এমএ জলিল। দাদুভাই বেশ কয়েকবার পাকিস্তানি মিলিটারির মুখোমুখি হয়েছেন। বুদ্ধি ও সাহস দিয়ে দাদুভাই বেঁচে যান। এমনকি আমার দিদাও মুক্তিযুদ্ধের সময় দাদুভাই ও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেন। আমার দিদা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন। বীর যোদ্ধাদের জন্য খাবার রান্না করে দিতেন। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার পরে দাদুভাই সরকারি চাকরি করেন। ফুড ইন্সপেক্টর হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। আমার সৌভাগ্য আমি দাদুভাইকে তার শেষ দিনগুলোতে কাছে পেয়েছি। দাদুভাই আমাকে অঙ্ক করাতেন। আর আমাকে যুদ্ধের গল্প বলতেন। ২০২২ সালের আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে দাদুভাই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু দাদুভাইয়ের দেশের প্রতি ভালোবাসা আর মুক্তিযুদ্ধের সাহসের কথাগুলো আমি সব সময় মনে করি। আমার আরও মনে হয়। দাদুভাই থাকতে আমার বয়স যদি আরও একটু বেশি হতো, তাহলে দাদুভাইয়ের যুদ্ধের ঘটনাগুলো লিখে রাখতে পারতাম। বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসে আমার
দাদুভাইয়ের কথা মনে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশের যোদ্ধাদের কথা যখন বলা হয়। তখন আমার মনের ভেতর দাদুভাইয়ের বলা কথাগুলো ভেসে ওঠে। আমিও বড় হয়ে দাদুভাইয়ের মতো দেশের জন্য কাজ করতে চাই।
চতুর্থ শ্রেণি, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা