শরীফ উদ্দিন সবুজ
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:০৩ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
শীতের দিনের একটা আলাদা গন্ধ আছে। সকাল সকাল উঠলে এ গন্ধটা পাওয়া যায়। বারান্দার গাছগুলোয় পানি দিচ্ছিল নদী। পানি দিতে দিতে বড় করে কয়েকটা শ্বাস নিল শীতের গন্ধটা নিতে। চড়ুই, কবুতর আর দোয়েল পাখি এসে কিচিরমিচির করছে ওদের বারান্দায়। খাবারের আশায়। নদী প্রতিদিন বারান্দায় চাল ছিটিয়ে দেয়। এ চালের আশায় ওরা ভিড় করে।
‘নদী মামণি, তোমার কি আজ পরীক্ষা আছে?’ বাবা জিজ্ঞেস করল।
‘আছে বাবা। বিকালে। আজকেই শেষ। বাবা
শর্ষে ফুলের দিন কি শুরু হয়েছে?’
‘সব জায়গায় শুরু হয়নি। তবে তোমার দাদার বাড়ির এলাকায় শুরু হয়েছে। তোমার ফুপুরা রাই শর্ষে করেন তো। রাই শর্ষে আগেই বড় হয়।
অন্য জায়গায় আর কয়েকটা দিন পরে শুরু হবে।’ বাবা বলল।
‘তুমি কিন্তু বলেছিলে শর্ষে ফুলের দিনে গ্রামের আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবে।’
‘আমিও যাব।’ পান্থ কখন এসে ওদের পেছনে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করেনি ওরা। পান্থ ক্লাস টুতে পড়ে। নদী ক্লাস সিক্সে। এ সময় ওদের মা-ও পেছনে এসে দাঁড়াল। ‘আমি যাব না। তুমি ওদের নিয়ে যেও।’
ওরা তিনজন হেসে উঠল। দুই ভাইবোন একসঙ্গে বলে উঠল, ‘যেতে হবে যেতে হবে। তোমাকে ছাড়া যাব না।’
‘তুমি গোছগাছ করে রাখো। ট্রেনের টিকিট পেলে কালই নওগাঁ রওনা হব। নইলে পরশু।’ বাবা বলে অফিসে রওনা হলো।
‘ইয়ে’ ওরা দুই ভাইবোন চিৎকার করে উঠল।
আজ বাবা ফিরল একটু তাড়াতাড়ি। এসেই বলল, ‘গোছগাছ শেষ হয়েছে? আমাদের সকাল সকাল বের হতে হবে। কালই আমরা রওনা হচ্ছি।’
বাসায় খুশির হল্লা বয়ে গেল। মা ব্যস্ত হয়ে গেল সবকিছু গোছগাছ করতে। ভোরে উঠতে হবে। তাই আজ একটু আগেই নদী আর পান্থকে জোর করে ঘুম পাড়িয়ে দিল।
স্বপ্নে নদী দেখল ওরা ট্রেনে রওনা হয়েছে। ট্রেন ছুটে চলেছে। ট্রেনের জানালা দিয়ে যতদূর চোখ যায় হলুদ শর্ষে ফুলের ক্ষেত। নদীর ইচ্ছে করছে ট্রেন থেকে বের হয়ে শর্ষে ফুলের ক্ষেতের ভেতর দৌড়ে যেতে। ক্ষেত থেকে শর্ষে ফুলের পাপড়ি উড়ে উড়ে এসে ওর চোখেমুখে পড়ছে। মা বলছে, ‘মুখটা বাইরে দিস না। সাবধান।’ কিন্তু নদী মাথাটা অল্প একটু বাইরে বের করে শর্ষে ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আহা কী সুন্দর ফুল! কী সুন্দর হলুদ রঙ! হলুদ হলুদ! আহা কী মায়াময় হলুদ!