ঘর সাজাতে পর্দা, কুশনকভার, আয়না, প্লান্টস কিংবা লাইট কত কিছুই তো ব্যবহার করা হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন এনেও পাল্টে দেওয়া যায় ঘরের আবহ। শতরঞ্জি ও কার্পেটের ব্যবহার শীতকালে ঘরের ভেতরটা আরও আরামপ্রদ ও নান্দনিক করে তোলে। শতরঞ্জি ও কার্পেটের মধ্যে কার্পেট কিছুটা ভারী ধাঁচের হলেও শীতে ঘর উষ্ণ রাখার এটি অন্যতম উপায়। এ ছাড়া ঘর সাজানোর জন্যও অনেকেই ডিজাইনভেদে ছোটবড় বিভিন্ন ধরনের কার্পেট ব্যবহার করেন। যদিও শোবার ঘরের তুলনায় বসার ঘরে বড় আকৃতির কার্পেটের ব্যবহার বেশি হয়। শীতকালে ঘর সাজাতে কার্পেটের ব্যবহার হিসেবে অনেকে বসার ঘরের সম্পূর্ণ ফ্লোর কার্পেট দিয়ে ঢেকে রাখতে পছন্দ করেন।
শোবার ঘরের জন্য ছোট কিংবা মাঝারি আকৃতির কার্পেট রুমের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে কয়েক গুণ।
এ ক্ষেত্রে বিছানার পাশে, ইজিচেয়ারের পাশে, ব্যালকনি অথবা ড্রেসিং টেবিলের সামনে কার্পেট কিংবা শতরঞ্জি রাখতে পারেন। অন্যদিকে বারান্দা কিংবা ছাদবাগানের জায়গায় কৃত্রিম ঘাসের কার্পেট বা গ্রাস কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাজারে বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালের গ্রাস কার্পেট রয়েছে। এর মধ্যে পাট, রেক্সিন, প্লাস্টিক, পাতলা রাবার ও সিনথেটিকের কার্পেট অন্যতম।
শীতকালে ঘর সাজাতে কার্পেটের ব্যবহার এমন হওয়া উচিত যেন ঘরের ভেতরের উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে। অন্যদিকে ঘরে কেমন কার্পেট মানানসই তা নির্ভর করে ঘরের আকার এবং রুমে রাখা আসবাবের ওপর। এর মধ্যে গোলাকৃতি, চার কোনা, আয়তাকার বা ডিম্বাকৃতির কার্পেটের ব্যবহার বরাবরই বেশি হয়। সাধারণত এসি ছাড়া রুমের ক্ষেত্রে সিনথেটিক কিংবা রাবারের কার্পেট ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বসার ঘরের জায়গাটা যেহেতু প্রশস্ত হয়, সেখানে পুরো রুমের ফ্লোর আবৃত করে এমন কার্পেট অথবা দুটি সমান সাইজের কার্পেটও রাখা যেতে পারে।
শীতকালে প্রকৃতি যেহেতু মলিন রূপ ধারণ করে, তাই এ সময়ে উজ্জ্বল রঙ যেমন লাল, সবুজ, বাদামি, নীল, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদির কার্পেট ব্যবহারে ঘরের ভেতর আরও উজ্জ্বল দেখাবে।
সঠিক ধরন বেছে নেওয়া
ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রের মতো কার্পেটরও বিভিন্ন ধরন রয়েছে। ঘরের জন্য হুট করে কার্পেট না কিনে ঘরের আবহের সঙ্গে মানানসই কার্পেট বাছাই করুন। অ্যাজটেক কার্পেটগুলো ঘরে একটি বোহেমিয়ান ভাব যোগ করে। ঘরের অন্দরসজ্জায় এগুলো অত্যন্ত দারুণ। কালজয়ী কিছু নকশা ও ডিজাইনের কারণে এ ধরনের কার্পেটগুলো বিখ্যাত। হালকা আসবাবপত্রের সঙ্গে এ কার্পেটগুলো খুব সুন্দর মানিয়ে যায়। ছিমছামভাবে ঘরকে ফুটিয়ে তুলতে হালকা ধূসর, বেইজ কিংবা সাদা রঙের মতো নিউট্রাল কিছু রঙ বেছে নিতে পারেন।
সঠিক আকৃতি বেছে নেওয়া
ঘরের আকার এবং আসবাব অনুযায়ী সঠিক কোনটি হবে তা বুঝে কার্পেট নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত আয়তাকার ধাঁচের কার্পেটগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। বৈচিত্র্য আনতে নতুন আকৃতির কার্পেট বেছে নিতে পারেন। বৃত্তাকার কার্পেট ঘরের পরিবেশে নতুনত্ব আনে। এটি ব্যবহারে ঘরের ছোট জায়গা বড় দেখায়। এটি ঘরে যেকোনো জায়গায় ব্যবহারের চেয়ে ঘরের মাঝে রাখার জন্য বেশি উপযোগী। পাটের বৃত্তাকার কার্পেটগুলো ঘরে একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। ঘরের ইন্টেরিওরে নতুনত্ব আনতে ডাইনিং টেবিলের নিচে অসম আকৃতির কার্পেট রাখতে পারেন।
কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা ও যত্ন
কার্পেট প্রতিনিয়ত ভ্যাকুয়াম করার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে ভারী ধাঁচের কার্পেটগুলো পরিষ্কার করা একটু কঠিন। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাঝে মাঝে প্রফেশনাল কিংবা পেশাদারেরও প্রয়োজন হয়। বাসায় বাচ্চা থাকলে সাদা কিংবা একরঙা কার্পেটগুলো এড়িয়ে চলুন। খাবার পড়ে কিংবা রঙ লেগে সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে কার্পেটটি।
কার্পেটে ধুলাবালি অনেক বেশি আটকায়। এজন্য সব ঘরে কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে রান্নাঘর ও ডাইনিং এরিয়ায় কার্পেটের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে পারেন।