রাইদাহ গালিবা ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। সাত বছর বয়স থেকে সে গল্প লিখত। ওর প্রথম বই ‘পিটুর জাদু জুতা’ ২০২০ সালে প্রকাশ হয়। গালিবার লেখা চারটি বই প্রকাশ পেয়েছে। সে আরও বই লিখতে পারত। কিন্তু বন্ধুটি মাত্র বারো বছর বয়সে দূর আকাশের তারা হয়ে গেল। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর তাকে ডেঙ্গু কেড়ে নেয়। তোমাদের জন্য আজ গালিবার একটি গল্প প্রকাশিত হলো-

এক দেশে ছিল একটি মেয়ে। নাম ইমা। সে ছিল খুব গরিব। থাকত নদীর তীরে একটি ছোট্ট ঘরে। নদীর পাশে ছিল একটি জঙ্গল। ইমা যখন খুব ছোট তখনই ইমার মা মারা যায়। তার বাবা একজন জেলে। ইমা লোভী ও হিংসুটে ছিল। যা দেখত তাই কিনতে চাইত। একদিন ইমার এক বন্ধু একটি কলম কেনে। কলমটি দেখতে অনেক সুন্দর। ইমার খুব লোভ হয়। বাবার কাছে সেও বায়না ধরে ওরকমই একটি কলম কিনে দেওয়ার। কিন্তু ইমার বাবার কাছে ওই ধরনের কলম কেনার টাকা ছিল না। তাই সে ইমাকে বলে, আমার কাছে ওরকম কলম কেনার টাকা নেই। কিন্তু ইমা কিছুতেই মানতে চায় না। সে অনেক রাগারাগি করে এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ইমা হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। কিন্তু ইমার খেয়াল ছিল না সেদিকে। হাঁটতে হাঁটতে দুপুর হয়। দুপুর পেরিয়ে রাত। ইমার হঠাৎ মনে পড়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু সে দেখে চারপাশে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। ইমা বুঝতে পারে সে পথ হারিয়েছে। কিন্তু বুঝতে পারছিল না এখন কী করবে? পরে ঠিক করে ওখানেই রাত কাটাবে।
ইমা জানত না সেই জঙ্গলেই থাকত এক দৈত্য। ইমা জঙ্গলে এসেছে এটা দৈত্যটা টের পায়। দৈত্য ইমার পিছু নেয়। দৈত্য ঠিক করে ইমা যখন ঘুমাবে তখন তাকে নিয়ে যাবে। তাই কিছু সময় পর ইমা যখন ঘুমিয়ে গেল তখন দৈত্যটা ইমাকে নিয়ে যায় তার মস্ত বড় প্রাসাদে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ইমা দেখে, সে মস্ত বড় খাঁচার ভেতরে। ইমা খুব ভয় পায়। তখন দৈত্যটা হাসতে হাসতে বলে, ‘তোমাকে এখন খাব না। একটু আগেই দুটো বাঘ খেয়েছি। এখন আমি ঘুমাব, রাতে তোমাকে খাব।’ এ কথা শুনে ইমা আরও ভয় পায়। দৈত্যটা চলে গেলে ইমা বুঝতে পারে সে অনেক বড় বিপদে। তার মনে হয় যে করেই হোক রাতের আগেই জঙ্গল থেকে বেরোতে হবে। তখন ইমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। সে দেখে খাঁচার সামনে একটা ছোট্ট লাঠি। অনেক কষ্টে লাঠিটি দিয়ে সে খাঁচার তালা খোলার চেষ্টা করে। একসময় তালা খুলে যায়। কিন্তু এ প্রাসাদের ভেতর থেকে বের হওয়ার পথ ইমা জানত না। তাই সে পা টিপে টিপে হাঁটতে থাকে এবং বের হওয়ার রাস্তা খোঁজে। একসময় রাস্তা খুঁজে পায়। কিন্তু যেই বের হবে, অমনি শোঁ শোঁ শব্দ। সেই শব্দে দৈত্যটা জেগে ওঠে। তখন ইমার মাথায় আরেকটা বুদ্ধি আসে। সে একটি গাছের লতায় নিজেকে জড়িয়ে আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। দৈত্যটা খুব রেগে ছিল। কিন্তু দৈত্য তো আর ইমার বুদ্ধির কথা জানত না। তাই যেই দৈত্যটা তার প্রাসাদের ভেতর থেকে বের হলো অমনি ইমা লতা দিয়ে দৈত্যের পা বেঁধে দিল। দৈত্যটা আবার যেই পা বাড়াল তখনই ধপাস করে পড়ে গেল। দৈত্য পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো জঙ্গল কেঁপে উঠল। তখন ইমা দৈত্যের সামনে এলো। এসে দৈত্যকে বলল, ‘দৈত্যমশাই, দৈত্যমশাই তোমার কোনো ক্ষতি করব না শুধু তুমি আমায় বাড়ি যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দাও।’ এ কথা শুনে দৈত্য বলল, ‘ঠিক আছে তোমাকে বাড়ি যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেব।’ এ বলে দৈত্য কী একটা মন্ত্র পড়ে তার হাতে ফুঁ দেয়, সঙ্গে সঙ্গেই জঙ্গলের মাঝখানে একটি রাস্তা তৈরি হয়। তখন দৈত্য বলে, ‘এ রাস্তা দিয়ে গেলেই তোমার বাড়ি পৌঁছে যাবে।’ এ কথা শুনে ইমা একটুও দেরি না করে ওই রাস্তা ধরে দৌড় দেয়। দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ থামে। তারপর আস্তে আস্তে চোখ খোলে আর চোখ খুলে দেখে সে সত্যি সত্যিই বাড়িতে।
এদিকে ইমা সারা রাত বাড়ি না ফেরায় ওর বাবা খুব চিন্তা করছিল। ইমাকে দেখে বাবা খুশিতে দৌড়ে এসে ইমাকে জড়িয়ে ধরে। ইমাও খুশি হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে।
ইমা বুঝতে পারে লোভ ও হিংসা করা উচিত নয়। এর পর থেকে ইমা আর কোনো দিনও লোভ ও হিংসা করেনি। ইমা তার বাবার সঙ্গে সুখে শান্তিতে থাকতে লাগল।