নাজমুল হুদা, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৩০ পিএম
পঙ্গুত্বের জীবন থেকে মুক্তি চায় আইরিন
পঙ্গুত্বের জীবন থেকে সুস্থ হয়ে লেখাপড়া করে ব্যাংকার হতে চায় আইরিন আক্তার। স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গিয়েছে আইরিনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পাত্রখাতা মাস্টারপাড়ার দিনমজুর আবদুল আজিজ মিয়ার মেয়ে আইরিন আক্তার। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা করাতে অনেক টাকাপয়সার প্রয়োজন, যা তার দিনমজুর বাবার পক্ষে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয় পাত্রখাতা রিয়াজুল জান্নাহ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইরিন। মাদ্রাসায় যেতে না পারায় চলতি বার্ষিক পরীক্ষা ঘরে বসেই দিচ্ছে। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না সে। ফলে বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আইরিন। তার ইচ্ছা, লেখাপড়া শেষ করে ব্যাংকে চাকরি করে পরিবারের দুঃখ-দূর্দশা দূর করবে।
আইরিনের মা নাছিমা বেগম জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আইরিন ছোট। ছোটবেলায় বেশ স্বাস্থ্যবান ছিল আইরিন। পাঁচ বছর বয়সে হঠাৎ ডান পায়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে থাকে। মেয়ের অবস্থা দেখে বিচলিত হয়ে কবিরাজ ডেকে এনে ঝাড়ফুঁক করান।
ডান পায়ে খুঁড়িয়ে হাঁটলেও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলার ক্ষমতা ছিল। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। এরপর তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে প্রথমে রংপুর ও পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসা শেষে ডাক্তাররা সাভারের সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজডে (সিআরপি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। সিআরপিতে ২৪ দিন চিকিৎসাও নেওয়া হয়েছিল।
আইরিনের দিনমজুর বাবা ঋণ করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন; যা মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন। চিকিৎসক ছয় মাস পর আবারও যেতে বলেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে আর যাওয়া হয়নি।
অশ্রুসিক্ত নয়নে আইরিনের মা বলেন, টাকাপয়সা থাকলে হয়তো আজ আমার মেয়ে সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে পারত। সিআরপিতে চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আইরিনের বাবা ইটের ভাটায় কাজ করেন। তার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব।
সদ্য কৈশোর পেরোনো আইরিন সুস্থ হয়ে লেখাপড়া করতে চায়। লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের হাল ধরতে চায়। আইরিনের সুস্থতায় তার মা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।