শত দেশের শত গল্প
রেজাউল বাহার
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:০৭ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৫৫ এএম
সাত মহাদেশের শততম দেশ ভ্রমণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে রেজাউল ও শারমীন দম্পতি। শত দেশের শত গল্প প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন রেজাউল বাহার। আজ থাকছে সিঙ্গাপুর, জ্যামাইকা, বার্বাডোস, ত্রিনিদাদ, গায়ানা, ইউএই, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, রোমানিয়া, ট্যুরস ভ্রমণ নিয়ে অষ্টম পর্ব।

আমাদের সংক্ষিপ্ত সফর, লম্বা ফ্লাইট। ২০১৯-এর শুরুর দিকে ঠিক করলাম দুনিয়ার সবচেয়ে লম্বা নন-স্টপ ফ্লাইটে ট্রাভেল করব। ফ্লাইট অরিজিন আর ডেস্টিনেশন : নিউজার্সি (ইউএস) থেকে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। দূরত্ব : ১০ হাজার মাইল; সময় : ১৮-১/২ ঘণ্টা; জ্বালানি তেল : ১০৮ টন; ফ্লাইট : এয়ারবাস ৩৫০ লং-রেঞ্জ। সিঙ্গাপুরে দুই দিনের ট্রিপ, শহর দেখা, হাঁটাহাঁটি করা। এই শতাব্দীর আধুনিক শহর বলতে যা বোঝায়, সিঙ্গাপুর তাই। কংক্রিট আর স্টিলের ইমারতের ফাঁকে ফাঁকে প্রকৃতিকে ঢুকিয়ে দেওয়ার সফল চেষ্টা।

৯ দিন ৮ রাত ক্যারিবিয়ান থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি বার্বাডোস-ত্রিনিদাদ-গায়ানা পর্যন্ত। চারপাশে নীল সমুদ্র, এখানে দাঁড়িয়ে তীরে ভাঙা ঢেউ দেখছি। বার্বাডোস একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।

ত্রিনিদাদ ও গায়ানা এখনও বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য গন্তব্যের সীমার বাইরে রয়ে গেছে। তার অনুন্নত এবং নিরাপত্তা একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ। ভারতীয় (দক্ষিণ এশিয়া) বংশধররা ত্রিনিদাদ ও গায়ানার প্রাথমিক জাতিগোষ্ঠী। প্রায় ২০০ বছর আগে স্বাধীন আফ্রিকান ক্রীতদাসদের প্রতিস্থাপনের জন্য দক্ষিণ এশিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক ভারতীয়কে এখানে আনা হয়েছিল।তাই আমরা যখন এখানে ভ্রমণ করি, তখন আমরা স্থানীয়দের মতো খুব ভালোভাবে মিশে গিয়েছিলাম। বার্বাডোস মোটামুটি ব্যয়বহুল, আমরা এখানে Airbnb ব্যবহার করেছি।


তুরস্কের স্বপ্নের শহর ‘কাপাডোসিয়া’। তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলের কাপাডোসিয়ার সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। বিশ্বের অনেক শহরই আকাশ থেকে খুব সুন্দর দেখালেও কাছে গেলে সেই মুগ্ধতা কেটে যায়। কাপাডোসিয়া মোটেই সে রকম নয়। এখানে বেলুন রাইড খুবই জনপ্রিয়।

জ্যামাইকা ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাজ্যের স্বশাসিত অঞ্চল। ফকল্যান্ডের রাজধানী ও সবচেয়ে জনবহুল শহর হলো স্ট্যানলি, যেটি পূর্ব ফকল্যান্ডে অবস্থিত। ফকল্যান্ডের আবিষ্কার ও পরে এতে ইউরোপিয়ানদের উপনিবেশ স্থাপন নিয়ে নানা সমালোচনা আছে। বিভিন্ন সময়ে দ্বীপগুলোতে ফরাসি, ইংরেজ, স্প্যানিশ ও আর্জেন্টাইন বসতি ছিল। ব্রিটেন ১৮৩৩ সালে পুনরায় শাসন প্রতিষ্ঠা করলেও আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৮২ সালের এপ্রিল মাসে আর্জেন্টাইন সামরিক বাহিনী দ্বীপপুঞ্জটিতে আক্রমণ করে। ইতিহাসে এই আক্রমণ ফকল্যান্ড যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ প্রশাসন এই আক্রমণের দুই মাস পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। ২০১৩ সালের একটি গণভোটে সব ফকল্যান্ড অধিবাসী ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চলে থাকার পক্ষে ভোট দেয়। আমাদের অ্যান্টার্কটিক ভ্রমণ যাত্রাপথে আমরা অ্যান্টার্কটিকা ছেড়ে যাওয়ার পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে দুই দিনের সফর অন্তর্ভুক্ত করেছি। ফকল্যান্ডে আমাদের প্রথম যাত্রা ছিল ব্লেকার দ্বীপ। ফকল্যান্ডের জীববৈচিত্র্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

