প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম
ইউআইইউ বাংলাদেশের প্রথম কোনো দল যারা আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘অ্যাপোক্যালিপস’ টিম ইন্টারন্যাশনাল ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড-২০২৩ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
প্রতিযোগিতাটির ফাইনাল রাউন্ড ১৭ নভেম্বর, ২০২৩-এ নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। যেটি অত্যাধুনিক ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
এ বছর প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, কাজাখস্তান, মেসিডোনিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামের ৪৫টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি দল বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের তুলে ধরে।
ইউআইইউর টিম অ্যাপোক্যালিপস প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ স্কোর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক লাভ করেছে। ইউআইইউর টিমকে কৃতিত্বের জন্য একটি প্রশংসাপত্রসহ ২ হাজার ৪০০ ইউরো প্রাইজমানি অর্জন করে। টিম অ্যাপোক্যালিপস সদস্যরা হলেন ইউআইইউর কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আহমেদ, এসএম জিসানুল ইসলাম, সহিদ হোসেন মুস্তাকিম ও আদিবা তাসনিম আনাম।
উল্লেখ্য, ইউআইইউ প্রথম কোনো দল যারা ইন্টারন্যাশনাল ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় ইউআইইউর আরও একটি দল ‘টিম আনচেইনড’ আধুনিক ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য মেরিট পুরস্কার পেয়েছে। এ ছাড়া GreyDevs, Beecrypt, Cuet Unanimous, Team Block-Bit বাংলাদেশ থেকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ পেয়েছে।
ব্লকচেইন কী?
ব্লকচেইন হলো এমন এক ধরনের ডিজিটাল প্রযুক্তি যা মূলত লেনদেন সংরক্ষণ করে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তথ্য পরিবর্তন কিংবা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সহজ কথায়, ব্লকচেইন এমন একটি ডিসেন্ট্রালাইজড ব্যবস্থা যেখানে সবকিছুর রেকর্ড থাকে, কিন্তু কেউই তা পরিবর্তন করতে পারে না। যা একে করে তোলে নিরাপদ এবং বিশ্বস্ত একটি প্রযুক্তি। কোনো কেন্দ্রীয় অথরিটি না থাকায় এ প্রযুক্তির স্বচ্ছতা আকাশচুম্বী। বিশ্বে ব্লকচেইন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিকভাবে এ আয়োজনটি করা হয়। যার প্রতিপাদ্য, ‘অনুপ্রেরণামূলক ক্ষমতায়ন ও উদ্ভাবন’। বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে।