শিশির কুমার নাথ
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১২:২১ পিএম
বাঙালির উৎসবে ঢাক বাজানো প্রথাসিদ্ধ রীতি
বাঙালির উৎসব পার্বণ বাদ্যের ঝংকার ছাড়া পূর্ণতা পায় না। যার মধ্যে অন্যতম ঢাক। কাঁধে ঢাক তুলে নিয়ে আপন তালে বাজিয়ে চলেন ঢাকি। আমাদের সাহিত্য, লোকগাথা ও লোকায়ত বিশ্বাসেও জড়িয়ে আছে ঢাক। সুপ্রাচীন এ বাদ্যযন্ত্র প্রসঙ্গে বিস্তারিত...
‘এমন সুন্দর পক্ষী দুধে ভাতে খায়/ ছিটকি দিয়া বাড়ি দিলে/ রাজ্যের দূরে যায়।’ কার্তিকের অমাবস্যায় কালী মন্দিরগুলোয় ঢাক বেজেছে স্বমহিমায়। কাঠ-চামড়ার আদি কাঠামোতে কোনো বহুদর্শী বাদক দেখিয়েছেন শব্দ-ছন্দের মুন্সিয়ানা। কাঁসরধ্বনিতে যুগলবন্দী হয়ে সে শব্দ পৌঁছে গিয়েছে দিক-দিগন্তরে। শাস্ত্রে এ ধ্বনি মঙ্গলধ্বনি হিসেবে আদৃত। বাঙালির উৎসবে ঢাক বাজানো প্রথাসিদ্ধ রীতি। ঢাক মূলত আনদ্ধ শ্রেণির লোকবাদ্যযন্ত্র। গঠনশৈলী, শব্দ-ছন্দ ও বাদনে এ বাদ্য তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।
ঢাকের উৎসকথা
লোকবাদ্যযন্ত্র ঢাকের প্রাচীনত্বের কথা গবেষকরা স্বীকার করে নিয়েছেন। আদিম মানুষ লৌকিক বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে যেমন আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করত তেমন গগনবিদারী আওয়াজসম্পন্ন বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে হিংস্র বন্য পশুদের তাড়ানো এবং বিপক্ষীয় গোষ্ঠীর আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঢাক, দুন্দুভি জাতীয় লোকবাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করত। প্রাচীন সাহিত্য ও বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন থেকে ঢাকের প্রাচীন উৎসের বিষয়টি সহজে অনুমেয়। গবেষকদের মতে, এ বাদ্যটিকে পুরাকালে ডঙ্কা বলা হতো। ধ্বনি থেকে শব্দ ও ভাষা, এ সূত্র ধরেই সম্ভবত ঢাকের নামকরণ। ডং ডং করে শব্দ হয় বলে ডঙ্কা, তা থেকে ঢক্কা; পরে ঢাক। বস্তুত ডঙ্কা মাটির হাঁড়ি নির্মিত। নাট্যশাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী পূর্ববঙ্গে ঢাকের ব্যবহার অত্যাবশ্যক ছিল।
প্রাচীনকালে যুদ্ধমাত্রেই ঢাক ব্যবহৃত হতো। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার এবং প্রাচীন ভারতের বৌদ্ধ শাস্ত্র ও সংস্কৃতির চর্চাকেন্দ্র ময়নামতীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত প্রত্ননিদর্শন ফলক চিত্রগুলোয় রয়েছে নানা বাদ্যযন্ত্র। সেখানে ডঙ্কা নামক আনদ্ধ বাদ্যযন্ত্র লক্ষ করা যায়। বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে জড়িত এসব বাদ্যযন্ত্র দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর প্রভাবে স্থান করে নিয়েছে বলে মনে করা হয়।

ঢাকের গড়ন, প্রস্তুত পদ্ধতি ও উপকরণ
ঢাক অপেক্ষা ছোট ঢোল। এর কাঠের খোলের দুই দিকে দুটি মুখ থাকে। একটি মুখের ব্যাস দেড় হাত পরিমাণ। ঢাক তৈরির উপকরণ হিসেবে লাগে খাসির চামড়া, কাঠের খোল, বাঁশ বা লোহার চাক, পিতলের কড়া, চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি। পিপার মতো কাঠের খোলবিশেষের দুই পাশে বাঁশ অথবা লোহার চাকাসহযোগে চামড়ার ছানি দেওয়া হয়। চামড়ার চিকন দোয়ালি বা বেল্ট লাগিয়ে প্রস্তুত করা চামড়াকে টানা দেওয়া হয়। কড়ই, মান্দার কাঠে ঢাক হলেও আম কাঠেই বেশি ভালো হয়। হাতে খোদাই করা কাঠের খোলের এক পাশে লাগানো হয় গরু বা মহিষের মোটা চামড়া, অন্য প্রান্তে থাকে ছাগলের পাতলা চামড়া। ঢাকের খোলটির পিঠে চামড়ার দড়ির টানা থাকে। এ টানায় পিতলের কড়া লাগানো থাকে। কড়া সামনে বা পেছনে টেনে ঢাকের সুর বাঁধা হয়।
প্রকারভেদ
ঢাক, জয়ঢাক, বীরঢাক বা বীরকালী। আওয়াজ ও আকৃতির তারতম্য অনুসারে এ প্রকারভেদ ও নামকরণ হয়। ঢাকের অতি বৃহৎ সংস্করণকে জয়ঢাক বলে। জয়ঢাক অনেক সময় লৌহপাত দিয়ে নির্মিত হয়। ঢাকের মতোই জয়ঢাকের প্রস্তুতপ্রণালি। বাংলাদেশে সাধারণত বৃহৎ পরিসরের উৎসবে জয়ঢাক ব্যবহৃত হয়।
বাংলা একাডেমির মানিকগঞ্জ অঞ্চলের ফোকলোর সংগ্রাহক আবদুর রহমান ঠাকুর জয়ঢাকের ভিন্নতর বর্ণনা দিয়েছেন। তার বিবরণমতে, ‘জয়ঢাকের গাত্র থাকে টিনের। ইহা প্রায় পৌনে দুই হাত লম্বা। দুই প্রান্তের ছাউনির চর্মের কিনারায় উপর দিয়া দুইটি কাষ্ঠের গোলক থাকে। গোলক দুইটি চর্মের প্রান্তভাগকে টিনের প্রান্তদ্বয়ের সঙ্গে আঁটিয়া রাখে। কাঁচা চর্মের ফিতা দিয়া দুই প্রান্তের কাষ্ঠ গোলক দুইটির সঙ্গে টানা বুলেট করিয়া দেওয়া হয়।’ বীরঢাক বা বীরকালীর গঠনপ্রকৃতিও ঢাকের মতোই। বাজানোর পদ্ধতিও ঢাকের মতো। এটি দণ্ড বা হাত দিয়েও বাজানো যায়।

ঢাকের শব্দ, ছন্দ ও বাদন
ঢাকিরা সাধারণত ঢাককে বাঁ কাঁধে ঝুলিয়ে ডান হাতে একটু মোটা কাঠি এবং বাঁ হাতে চিকন কাঠি নিয়ে শব্দশৈলী সৃষ্টি করেন। ঢাকের ‘বোল’ প্রাণকে ছুঁয়ে যায় এবং এক অদ্ভুত মাদকতা সৃষ্টি করে। চড়া শব্দেও যে মাধুর্য থাকে, ঢাকের বোলেই তা সপ্রমাণ। বিভিন্ন উৎসব ও তার বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ বিশেষ তালে ঢাক বাজানো হয়।
দুর্গোৎসবে যে ঢাক বাজানো হয় সে ক্ষেত্রে দেবীর বোধন, ঘুম ভাঙানো, পূজা, আরতি এবং সবশেষ বিসর্জন- প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। ইদানীং সে বাজনায় আর তেমন ভিন্নতা দেখা যায় না। কারণ, ঢাকের বাজনা বংশপরম্পরায় পাওয়া। অভ্যাসের মাধ্যমে প্রচলিত। তার কোনো সংরক্ষণ নেই। তাই কালস্রোতে তা লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ঢাকের বোল মহাদেবের সৃষ্টি বলে বিশ্বাস করেন ঢাক বাজানোর সঙ্গে বংশপরম্পরায় যুক্ত শিল্পীরা। ঢাকের বোল শব্দসাজুয্যে বাঙালির ঘরে যেভাবে উচ্চারিত হয় তার চমৎকার নমুনা হলো- ঢেমকুড়া কুড় কুড়, চড়াম চড়াম। এ ছাড়া ছড়ার ঢঙে ঢাকের বোলের অনুরূপ শব্দবন্ধÑ টেট্টে না টেং, টেট্টে না টেং।
ঢাকের আওয়াজের সঙ্গে সুর ও ছন্দমূর্ছনা তৈরির জন্য অনুগামী হিসেবে ঢোল ও কাঁসি বাজানোর প্রচলন রয়েছে।
বাংলা সংস্কৃতিতে ঢাক
ঢাক বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পূজা-অর্চনা, উৎসব-পার্বণ, নববর্ষ, বিয়ে, শোভাযাত্রা বিভিন্ন উপলক্ষে ঢাক বাজানোর রীতি প্রচলিত। শারদীয় দুর্গোৎসবে ঢাকের আবেদন থাকে তুঙ্গে। পূজার প্রতিটি পর্বেই ঢাকের বাদন অপরিহার্য। আবার এই আনন্দ উল্লাসের বিপরীতে পূজায় দেবদেবীর সামনে বলি দেওয়ার মুহূর্তে ঢাক বাজানোর রীতি বহুকালের। বলির নৃশংসতা ঢেকে দিতে ছিল ঢাকের বাদ্যির প্রয়োগ। একই ভাবে সতীদাহের সময় বহু সদ্যোবিধবার করুণ আর্তচিৎকারকেও ছাপিয়ে যেত শঙ্খ-ঘণ্টা ও ঢাকের আওয়াজ। অতীতে ঢাক-ঢোল-সহরত করে সরকারি নির্দেশ জারি করা হতো। সাড়ম্বরে প্রচার অর্থে ডক্কা মারা, ঢক্কানিনাদ শব্দগুলো তাই ভাষায় স্থান করে নিয়েছে।
বাংলা নববর্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রায়ও ঢাকের ব্যবহার লক্ষণীয়। বাঙালির এক বিশেষ লোকোৎসব চৈত্রের গাজন। গাজনের দল যখন বাড়ি বাড়ি গাজন গান করে ফেরে তখন তাদের সঙ্গের বাদ্যযন্ত্রের প্রধান উপকরণ থাকে ঢাক। ঢাকের এক বিশেষ ধরনের বাজনার তালে গাজনের গানগুলো গাওয়া হয়। এ গাজনের গানের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের জন্মকথা, শঙ্খের জন্মকথা, সিঁদুরের জন্মকথা ইত্যাদি বারোমাসি গান গাওয়া হয়। এ-জাতীয় সংগীতের লক্ষণীয় বিষয় হলো, সব গানের শুরু ‘শোনো শোনো ইন্দ্রসভা শোনো দিয়া মন’ পদ গেয়েই হয়। প্রাজ্ঞ গৃহকর্তা প্রশ্ন করেন, ‘ঢাকি ঢাকি ভাই/একটু বইয়া যাও/ঢাকেরঅ জর্মকথা খানিক কইয়া যাও।’
ঢাক নিয়ে বহু লোককথা, লোকবিশ্বাস, প্রবাদ, ধাঁধা, ছড়া, কবিতা প্রচলিত।

ঢাক থেকে ঢাকা
অনেকেই মনে করেন, সুবাদার ইসলাম খাঁ নতুন রাজধানীর সীমানা নির্ধারণ করার জন্য এই মর্মে আদেশ দেন : যতক্ষণ না পর্যন্ত ঢাকের শব্দ শোনা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত যেন তারা চলতে থাকেন। যেখানে গিয়ে ঢাকের শব্দ আর শোনা যাবে না সেখানেই হবে নতুন রাজধানীর সীমানা। ঢাকের শব্দের ভিত্তিতে জায়গা নির্বাচন হয়েছে বলে নতুন রাজধানীর নাম হয়ে যায় ঢাকা। এ কিংবদন্তি নিয়ে মতভেদ থাকলেও আমাদের সংস্কৃতিতে ঢাকের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না।
সাহিত্যে ঢাক
বাংলা সাহিত্যে ঢাকের প্রসঙ্গ এসেছে নানাভাবে। বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগত’ কাব্যে জয়ঢাক, বীরঢাকের উল্লেখ রয়েছে এভাবে- ‘জয়ঢাক, বীরঢাক, মৃদঙ্গ কাহাল/পটহ, দগড়, শঙ্খ, বংশী, করতাল।’ রণসজ্জায় ঢাক জানান দিত বীরত্বের ও বিজয়ের আভাস। যেমন দেখা যায় হরিদেবের ‘রায়মঙ্গল’ কাব্যে- ‘মাহুত কুঞ্জর আর পদাতি বিস্তর/ঢাক ঢোল সিংহা কাড়া বাজে বহুতর।’ মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধেও দেখা যায় যুদ্ধারম্ভে মহারথীদের শঙ্খধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে বেজে উঠেছিল ডঙ্কাধ্বনিও। আমাদের শিশুপাঠ্যেও ঢাকের কথা এসেছে এভাবে, ‘আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে। ঢাক মৃদং ঝাঁঝর বাজে॥’ ঢাক কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি প্রবাদও বাংলা লোকসাহিত্যে প্রচলিত আছে। যেমন, ধর্মের ঢাক বাতাসে বাজে, ঢাকিসহ বিসর্জন, ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রি, নিজের ঢাক নিজে পেটানো/ঢাক পেটানো, ঢাক ঢাক-গুড়গুড়, ঢাকের বাঁয়া, ঢাকে কাঠি দেওয়া ইত্যাদি।
লোকবিশ্বাসে ঢাক
ঢাক নিয়ে লোকবিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। সেরকম দুয়েকটি লোকবিশ্বাসের উদাহরণ হলো, চৈত্র মাসে গাজনের ঢাকে কাঠি পড়লে শিমুল তুলোর সুপক্ব ফলগুলো পাকে এবং সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। চৈত্র মাসে গাজনের গানে ঢাক বাজালে নতুন বছরে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঝড়-তুফানের সময় ঢাক বাজালে ঝড়ের তাণ্ডব কমে।
ঢাকের লড়াই
দুর্গোৎসব কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের নানা জায়গায় ঢাকের লড়াইয়ের আয়োজন হয়। ঢাকিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় শারদ ঢাকি বাদ্যি প্রতিযোগিতা। নানা এলাকা থেকে ঢাকিরা যোগ দেন প্রতিযোগিতায়। প্রদর্শন করেন ঢাক বাদনের কসরত। লড়াইয়ে বিজয়ী ঢাকিদের পুরস্কৃত করা হয়।

ঢাকের হাট
প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্য মেনে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় বসে ঢাকের হাট। বাদকরা তাদের বাদ্যযন্ত্র বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বাজিয়ে বায়নাকারীদের আকর্ষিত করে পূজার দিনগুলোয় চুক্তিবদ্ধ হন। শতাধিক ঢাকি বংশপরম্পরায় প্রতি বছর এ হাটে ঢাক-ঢোল নিয়ে উপস্থিত হন। জনশ্রুতি আছে, ষোড়শ শতাব্দীতে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। একবার রাজা সেরা ঢাকির সন্ধান করতে বিক্রমপুর পরগনার (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ) বিভিন্ন স্থানে আমন্ত্রণ জানিয়ে বার্তা পাঠালে অসংখ্য ঢাকি দল পুরোনো যাত্রাঘাটে সমবেত হন। রাজা নিজে দাঁড়িয়ে একে একে বাজনা শুনে সেরা দলটি বেছে নেন এবং পুরস্কৃত করেন। সেই থেকে শুরু ঢাকের হাটের প্রচলন।
ঢাক বিশ্বজনীন
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাক বাজছে ভিনদেশের নানা অনুষ্ঠানে। চেষ্টা করা হচ্ছে ধ্রুপদি যন্ত্রসংগীতের কঠিন বোলগুলো ঢাকের বাজনায় রূপ দেওয়ার; যাতে কোনো সংগীতানুষ্ঠানে সঙ্গত হিসেবে ঢাকও ব্যবহার করা যায়। ঢাক-ঢোল সাধারণত পুরুষরাই বাজান। তবে এ বৃত্ত ভেঙে গড়ে উঠছে মহিলা ঢাকির দলও। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে ঢাক প্রশিক্ষণের বিষয়টিও।
কিন্তু পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম নামক শব্দদানব ঢাকসহ দেশি বাদ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে, তা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। নিজেদের শুদ্ধ-সংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজে অগ্রসর হতে হবে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে। আত্মপরিচয় রক্ষায় নিজের ঢাক নিজে পেটানোর বিকল্প নেই।