নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৮ পিএম
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকেও পরিবর্তনের ছাপ পড়ে। মেছতা, বলিরেখার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। হারিয়ে যায় ত্বকের উজ্জ্বলতা। ত্বক সজীব রাখতে প্রয়োজন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, নিয়মিত যত্ন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম। পুষ্টিবিদ নিগার সুলতানার পরামশে লিখেছেন নুসরাত খন্দকার
দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে সঠিক খাবার থাকলে ত্বকের বাহ্যিক সমস্যা কমে যায় অনেকটাই। প্রসেস খাবার, জাঙ্ক ফুড আমাদের ত্বকের সেলগুলোকে পরিমিত পুষ্টি এবং অক্সিজেন পাওয়া থেকে থামিয়ে রাখে। কিছু খাবার আছে, যা খাদ্য তালিকায় যোগ করলে শরীর ও ত্বক পুষ্টি পাবে এবং সজীব থাকবে- এমনই বলছিলেন লাইফস্পিংয়ের পুষ্টিবিদ নিগার সুলতানা। তিনি বলেন- বলিরেখা, দাগ-ছোপ, মেছতা যতটা না বয়সের প্রভাব, তার চেয়েও বেশি হয় ক্ষতিকারক সূর্যরশ্মির থেকে। এই রশ্মি ত্বকের কোলাজেনের মাত্রা দুর্বল করে দেয়। ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। এ ছাড়া শরীরে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতিও ত্বকের ক্ষতির আরেকটি কারণ। বাহ্যিক এসব ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ত্বকের প্রয়োজন নিয়মিক অভ্যন্তরীণ পুষ্টি। তাই ত্বক সুন্দর ও সজীব রাখতে নিত্যদিনের খাবারে বিশেষ নজর দিতে হবে।
কত তাড়াতাড়ি বলিরেখা পড়বে, ত্বকের রং মলিন হবে, চুল রুক্ষ হবে, শরীরের চামড়া ঝুলে যাবে সেটা নির্ভর করে আমাদের ডায়েটের উপর। ব্যালেন্স ডায়েট বা সঠিক খাবার শরীর ভালো রাখার পাশাপাশি ত্বক সজীব করতেও সাহায্য করে। খাবারের তালিকায় রাখুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার এতে ত্বকে বয়সের ছাপ সহজে পড়ে না।
নিগার সুলতানা
পুষ্টিবিদ, লাইফস্পিং
ত্বকের সজীবতা বাড়াতে
খাবার তালিকায় লেবু, হলুদ, বিট থাকলে তা ভেতর থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে। হলুদে আছে কার কিউমিন; যার কোষ বিশিষ্ঠ শক্তিশালী বৈশিষ্ঠ্য সেলকে দুর্বল হতে দেয় না। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ, শসা, আদা ব্লেন্ড করে ছেঁকে ডিটক্স জুস হিসেবে খালি পেটে পান করতে পারেন। এতে বয়সের ছাপ দূর হয় এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া রঙিন সবজি, দই, অ্যালোভেরার শরবত ইত্যাদি খাবারও ত্বক প্রাণবন্ত রাখে।
পলিফেনাল সমৃদ্ধ খাবার আমাদের শরীরের কিছু প্রয়োজনীয় এনজাইমকে একটিভ করে। যা চুলের রুক্ষতা দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে, বলিলেখা রোধ করে এমনকি চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর করে। কিছু পলিফেনাল সমৃদ্ধ খাবার হলো আঙ্গুর, আপেল ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, বিডস, বাদাম, বীজ, রসুন, ডাল জাতীয় খাবার, সুগার ফ্রি ডার্ক চকলেট, গ্রিন টি প্রভৃতি। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন পাঁচ ছয়টি আঙ্গুর, ২ স্লাইস আপেল, এক মুঠো বেরি জাতীয় ফল, কয়েক টুকরো বিটস। বিকালের নাস্তায় যোগ করতে পারেন কিছু বাদাম, বীজ ও ডার্ক চকলেট। সকালে ও রাতে এক কাপ গ্রিন টি পান করলে শরীর তো বটেই মনও সতেজ থাকবে।
ত্বক টান টান রাখতে
লাইকোপেন সমৃদ্ধ খাবার কে ন্যাচারাল সানস্ক্রিন বলা হয়। যা আমাদের
ত্বকের টিস্যুকে সুরক্ষা করে, ঝুলে যেতে দেয় না ও বলিরেখা প্রতিরোধ করে। টমেটো, জাম্বুরা,
তরমুজ প্রভৃতিতে লাইকোপেন পাওয়া যায়। প্রতিদিন সালাদে এক দুইটি টমেটো রাখুন বা টমেটোর
স্যুপ করেও খেতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন দুই চা-চামচ পরিমাণ
জলপাই তেল খাবার তালিকায় থাকলে ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে।
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখীর বীজও ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। সালাদ, সকালের নাশতা,
সবজি হিসেবেও এই বীজ খেতে পারেন। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন পাওয়া যায় ডিম
ও বিভিন্ন মাছ থেকে। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এই ফ্যাটি অ্যাসিডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
আছে। এ ছাড়া চিয়া বীজ ত্বকে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। চিয়া ওমেগা-থ্রি ফ্যাট, ভিটামিন
এ এবং সি সমৃদ্ধ। এগুলো ত্বকে বলিরেখা পড়া ধীর করে, সংক্রমণ কমায় এবং উজ্জ্বলতা দেয়।
সারা রাত চিয়া বীজ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পান করতে পারেন।