নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৪৫ পিএম
ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ স্কার্ফ। একটা সময় স্কার্ফ ব্যবহার হতো শুধুই প্রয়োজনে। সময় বদলের সঙ্গে এখন স্কার্ফ ব্যবহার হয় প্রয়োজনে এবং ফ্যাশনে। কখনও গলায় জড়িয়ে নেওয়া যায় ফতুয়ার সঙ্গে, কখনও টি-শার্টের সঙ্গে। কেউ আবার স্টাইলের মাত্রা বাড়াতে ব্যাগেও ঝুলিয়ে রাখে স্কার্ফ। একই সঙ্গে শীতের শুরুতে এ সময়টাতে হিমেল হাওয়া, রোদ ও ধুলাবালির হাত থেকে বাঁচার জন্যও স্কার্ফ ব্যবহার করে অনেকে
ফ্যাশন
দুনিয়ায় স্কার্ফের নানা রকম ব্যবহার
এনেছে বৈচিত্র্য। স্কার্ফপ্রেমীরা তাদের ফ্যাশনে যোগ করছেন নানা
ঢঙ ও রঙের স্কার্ফ।
কখনও একই স্কার্ফ বিভিন্ন
পোশাকের সঙ্গে পরে আনছেন ভিন্ন
লুক। কখনও বা সেই
স্কার্ফই বেঁধে নিচ্ছেন বাতাসে উড়তে থাকা দুরন্ত
চুলগুলোকে। তা ছাড়া এই
হেমন্তের শুরুতে দিনে গরম ও
সন্ধ্যার পর হালকা শীত
শীত আমেজ থাকায় এ
হিমেল হাওয়া থেকে বাঁচতে ব্যবহার
করতে পারেন স্কার্ফ।
গত ৩০-৩৫ বছরে
পোশাকে বাঙালি নারীর ফ্যাশনসচেতনতা বহুগুণ বেড়েছে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি পশ্চিমা পোশাকে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে অনেক
বাঙালি নারী। পশ্চিমের মেয়েদের মতো অত ছোট
পোশাকে অভ্যস্ত না হলেও, জিন্স-টি-শার্টের মতো
পোশাককে বাঙালি নারীরা প্রিয় করে। একই সঙ্গে
এখনকার ফ্যাশনপ্রেমী তরুণীদের একটি বড় অংশের
কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্কার্ফ।
আগে
বাঙালি নারীরা সাধারণত ধর্মীয় কারণ কিংবা রোদ,
ধুলাবালি থেকে রক্ষার্থে স্কার্ফ
পরত। এখন শুধু ধর্মীয়
কারণ কিংবা ধুলাবালি থেকে রক্ষার জন্য
নয়, বরং ফ্যাশনের অন্যতম
অনুষঙ্গ হিসেবে স্কার্ফ অধিক জনপ্রিয়।
ইতিহাসের
দিকে তাকালে দেখা যাবে, সর্বপ্রথম
স্কার্ফের প্রচলন হয় প্রাচীন রোমে।
গরমকালে ঘাম মোছার জন্য
ব্যবহার করা হতো স্কার্ফ।
পুরুষরা শার্টের কলারে এই কাপড়ের টুকরো
জড়িয়ে রাখত। অন্যদিকে চীনা যোদ্ধারা সৈনিকদের
র্যাংকিং বোঝাতে নানা রঙের স্কার্ফ
ব্যবহার করত। তখনও স্কার্ফ
ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠেনি; বরং
তখন ছিল এটি শুধু
প্রয়োজন।
তারপর
উনবিংশ শতকের দিকে এসে ইউরোপের
বিভিন্ন দেশে স্কার্ফের প্রচলন
বেড়ে যায়। তখনকার চলচ্চিত্রে
এবং পপ তারকাদের মাঝে
স্কার্ফ বেশ জনপ্রিয় হয়ে
ওঠায় এটি ধীরে ধীরে
ফ্যাশন হিসেবে জায়গা করে নেয়।
বর্তমানে
স্কার্ফ যেমন প্রয়োজনীয়, একইভাবে
অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাশন অনুষঙ্গও বটে। তাই এসব
বিষয় মাথায় রেখেই স্কার্ফের আকারে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কিছুদিন আগেও স্কার্ফগুলো আকৃতিতে
ছোট ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন
সুবিধার কথা মাথায় রেখে
স্কার্ফগুলো আকৃতিতে একটু বেড়েছে। যেকোনো
ধরনের কুর্তা, ফতুয়া বা টি-শার্টের
সঙ্গে মানিয়ে যাবে অনায়াসে। চাইলে
সুতির সাদামাটা ছোট ওড়না নিতে
পারেন; আবার কুঁচি দেওয়া
ওড়নাও নিতে পারবেন। বেশিরভাগ
স্কার্ফই তৈরি হয় জর্জেট
ও সিল্কের কাপড়ে। তবে সুতি, নেট,
ক্রেপ, এন্ডি, উল প্রভৃতি কাপড়ের
স্কার্ফও পাওয়া যাচ্ছে। ডিজাইন ও নকশায় ব্যবহার
হয় চুমকি, জরি, এমব্রয়ডারি, লেস
ও টারসেল।
নিজেকে
একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে সবাই চায়।
তাই আর একটু ফ্যাশনেবল
কিংবা ব্যতিক্রমী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করলে
হাতে বা ব্যাগের সঙ্গে
বেঁধে নিতে পারেন পছন্দের
স্কার্ফ। সাইজে ছোট স্কার্ফগুলো ভাঁজ
করে হাতে বা ব্যাগের
হাতলের সঙ্গে বেঁধে নিজেকে করে তোলা যায়
আরও বেশি আকর্ষণীয়।
ব্যতিক্রমী
নকশার স্কার্ফ পাবেন আড়ং, ইনফিনিটি, ইয়ালো
প্রভৃতি ব্র্যান্ডের শপে। সাধ্যের মধ্যে
দামে মিলবে এগুলোর। এ ছাড়া নিউমার্কেট,
ইস্টার্ন প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত স্কয়ার, বেইলি রোডেও পাবেন দেশি-বিদেশি নানা
ডিজাইনের ফ্যাশনেবল স্কার্ফ।