ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৪৭ পিএম
প্রতিদিনই স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে শিশু শিক্ষার্থী নাইম
স্কুল চলাকালীন সময়ে শিশু শিক্ষার্থী নাইম উর রহমান স্কুলের বন্ধ প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তার যমজ ভাই ক্লাস করলেও নাইম নিষিদ্ধ। সে স্কুলের উপযোগী নয়। কারণ, সে ঠিক মতো কথা বলতে ও পেনসিল ধরতে পারে না, দুষ্টামি করে; এমন অজুহাতে তাকে অবাঞ্ছিত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কলেজ রোডের দি বাডস্ রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের।
নাইমের বাবা মো. আবদুর রহমান, মা ডা. নাদিরা খানম। সন্তানকে স্কুলে ফিরিয়ে নিতে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। সম্প্রতি তার টিসি নেওয়ার জন্য পত্র পাঠিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
নাইমের বাবা আবদুর রহমান জানান, তার দুই পুত্রকে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওই স্কুলের নার্সারি ওয়ানে ভর্তি করান। একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্কুলের উপযোগী নয় বলে নাইমকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর থেকে অদ্যাবধি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে স্কুলের পোশাক পরে ব্যাগ নিয়ে স্কুলের গেট পর্যন্ত আসে। সহপাঠীরা যখন ক্লাশ করে তখন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে নাইম।

আবদুর রহমান বলেন, ‘নাইমের শ্রেণিশিক্ষক কৃষ্ণা সূত্রধর তার ডায়েরিতে নেতিবাচক মন্তব্য লিখেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান নাইম পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। তার দুষ্টামির কারণে অন্যদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়াও নাইমকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন। গত ৫ মে স্কুল কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিস প্রেরণ করি। স্কুল কর্তৃপক্ষ ২২ মে লিগ্যাল জবাব দেয়। এরপর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করি। আমার আবেদনের কথা জানতে পেরে স্কুলের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ২৫ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত পত্রে নাইমের টিসি নেওয়ার কথা বলেন। ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করে পত্র দেওয়া হয়েছে।’
জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বক্তব্য রেকর্ড না করার শর্তে বলেন, ‘শিশুটির কথা অস্পষ্ট। সে পেনসিল ধরতে অক্ষম। তার কারণে অন্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। আমরা কিছুদিন তাকে অবজারভেশনে রেখেছিলাম। এরই মধ্যে তার বাবা লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন এবং যথানিয়মে জবাব দেওয়া হয়েছে। টিসি নেওয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্তকতা দীলিপ কুমার বর্ধন বলেন, ‘আবদুর রহমান নামে বাডস্ স্কুলের একজন অভিভাবকের লিখিত আবেদন পেয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’