× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংগ্রামী উদ্যোক্তা হ্যাপি আক্তার

সোহেল রানা সবুজ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৪২ পিএম

নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজে ব্যস্ত হ্যাপি আক্তার

নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজে ব্যস্ত হ্যাপি আক্তার

গাজীপুরের বাসন থানার ভোগড়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা হ্যাপি আক্তার। পাঁচ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার বড়। বাবার স্বল্প আয়ে বড় সংসার চালানো ছিল কঠিন, অভাব-অনটনের মধ্যে প্রাথমিকের গণ্ডিও পার হতে পারেননি হ্যাপি।

জীবন সম্পর্কে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। স্বামী আফরোজ কামাল পেশায় ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বিয়ের পরও অভাব যেন পিছু ছাড়েনি হ্যাপি আক্তারের। জীবনযাপনেও ছিল না বৈভবের সুযোগ। এসবের মাঝেই স্বামীর পুঁজির বড় একটা অংশ ঢাকা থেকে ফেরার পথে ছিনতাই হয়ে যায়।

তবু ভেঙে পড়েননি হ্যাপি আক্তার। চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর। ২০০৬ সালে শুরু করেন স্থানীয় কারখানার শ্রমিকদের জন্য খাবার সরবরাহের কাজ। ধীরে ধীরে পরিধি বাড়তে থাকে কাজের। ছোট্ট সেই কাজ থেকে আজ হ্যাপি আক্তার একজন সফল উদ্যোক্তা।

জীবনের সাফল্যের গল্প শোনান হ্যাপি আক্তার নিজের মুখে, ‘বাবার পরিবারে সচ্ছলতা ছিল না। স্বামীর ঘরে এসেও তার দেখা পাইনি। নানা ঝড়ঝাপটা এসেছে কিন্তু মনোবল হারাইনি। নিজেই কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম সব সময়। সেই চিন্তা থেকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার টাকা সহজ ঋণ নিয়ে স্থানীয় গার্মেন্টস, গ্যারেজ ও কারখানায় ২০-২৫ জনের তিন বেলা খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করি। নিজে বাজার করে নিজেই রান্না করতাম। ধীরে ধীরে আমার তৈরি খাবারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এরপর আরও কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়াই।’

দুই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন হ্যাপি। ছোট ছেলেটি পড়ছে পঞ্চম শ্রেণিতে। স্বামীর একসময়কার খানাখন্দে ভরা জমি ভরাট করে পাঁচটি দোকান ও তিন তলা বিল্ডিং করেছেন। হ্যাপি বলেন, ‘ব্যবসা ও বাড়ি নির্মাণের জন্যও গৃহঋণ নিয়েছিলাম। সে টাকায় পাঁচটি দোকান ও বিল্ডিং করেছি। রান্না ও খাবার সরবরাহের কাজ এখন ছেড়ে দিয়েছি। চারটি দোকান ভাড়া দিয়ে একটি দোকানে নিজেই ব্যবসা করি। দোকান ও বাড়ির একটি অংশ মিলিয়ে মাসে আয় ২০ হাজার টাকার বেশি। আর নিজের দোকান তো আছেই। ইচ্ছে আছে ব্যবসার পরিধি আরও বড় করার। ভবিষ্যতে অন্য কোনো নতুন ব্যবসা শুরু করার চিন্তা করছি।’

অভাব আর দারিদ্র্য ছিল যার নিত্যসঙ্গী, সেই মানুষটি আজ পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পেয়েছেন অদম্য মনোবল আর পরিশ্রমের কল্যাণে। আজ তিনি অনেক অনেক অসহায় নারীর জন্য আলোকবর্তিকা। হ্যাপি আক্তার আজকের অবস্থানে আসতে পেরে আনন্দিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা সময় খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেছিলাম ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। সেই জায়গা থেকে আজ আমি অনেক দূর এগোতে পেরেছি বলে মনে করি। এর পেছনে আছে আমার পরিশ্রম আর মনোবল। আমার মতো এমন অনেক নারী আছেন যারা সুযোগের অভাবে সমাজের পেছন সারিতে পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের উন্নতি আর প্রতিষ্ঠার জন্যও ভবিষ্যতে কিছু করতে চাই।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা