আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
হবিগঞ্জের জলবায়ু ও শিশু অধিকারকর্মী যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস
শিশুদের নোবেল খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২১-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন হবিগঞ্জের জলবায়ু ও শিশু অধিকারকর্মী যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস।
পুরস্কারের আয়োজক নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন ‘কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন’-এর ওয়েবসাইট বিষয়টি প্রকাশ করেছে। ২০০৫ সালে রোমে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক শীর্ষ সম্মেলন থেকে এ পুরস্কার চালু করে কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন। শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতি বছর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ৪৬ দেশ থেকে ১৭৫ শিশুকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২০ পেয়েছিলেন বাংলাদেশি কিশোর সাদাত রহমান।
দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা বাড়ছে। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ভয়াবহতা যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাসকে ভাবিয়ে তোলে। বয়স অল্প হলেও জলবায়ু নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএএফ শাহীন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি জলবায়ু নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নে তার বাড়ি।
যুধিষ্ঠির ইয়ুথনেট গ্লোবালের গ্লোবাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যুক্ত আছেন। ২০ দেশে সংগঠনটির মোট ৩০০ বৈশ্বিক ইয়ুথ কাজ করছেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সুবিচার আদায়ের জন্য। ইতোমধ্যে যুধিষ্ঠির জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন। UNICEF, UN Women, UNFPA, UNESCO, UNDP-এর মতো সংস্থার ডায়ালগে অংশ নিয়ে তিনি জলবায়ু বিষয়ে কথা বলেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রেটা থুনবার্গের ফ্রাইডেস ফর ফিউচারের সাউথ এশিয়ার রিজিওনাল চ্যাপ্টারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং ফাউন্ডার হিসেবে কাজ করছেন যুধিষ্ঠির। Mock COP সংস্থার ন্যাশনাল ফোকালপয়েন্টও তিন। Mock COP হলো জাতিসংঘ-স্বীকৃত একটি জলবায়ুভিত্তিক যুবসংগঠন।
যুধিষ্ঠির জলবায়ুকর্মীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ একজন; যিনি ন্যাশনালি ও গ্লোবালি এর মোকাবিলায় নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বৈশ্বিক প্রভাব সৃষ্টি ও জলবায়ুর বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশের ৪৫ জেলায় একযোগে কাজ করছেন ৪৫টি ইউনিটের মাধ্যমে। তাদের কাজের সঙ্গে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, ট্রান্স প্রতিবন্ধীসহ সব লিঙ্গের মানুষ সম্পৃক্ত। কাজ করতে গিয়ে নানা রকম কটাক্ষ শুনতে হয় যুধিষ্ঠিরকে। যদিও এসব পাত্তা দেন না। বরং মানুষকে বুঝিয়ে জলবায়ু বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিপর্যয় সম্পর্কে সচেতনতা কম। তাদের অনেকেই বুঝতে চান না বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান যুধিষ্ঠির। পড়াশোনার পাশাপাশি জলবায়ু নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা তো হয়ই। তবু সব ম্যানেজ করে নেন। পরিবার তাকে সাপোর্ট দেয়। এ বিষয়ে যুধিষ্ঠির বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমার প্রজন্ম, আমার পরবর্তী প্রজন্ম ধ্বংস হতে চলেছে৷ আমি কীভাবে বসে থাকি? জলবায়ু ন্যায়বিচার, যুবদের ক্ষমতায়ন এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করব। এ ছাড়া নিরাপদ ধরিত্রী, সবুজ অরণ্য তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই। এটাই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।’