× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রচ্ছদ

শরতের শুভ্রতায়

শাহিনা নদী

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৩৮ পিএম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৪৪ পিএম

মডেল : আয়শা ও আসিব; পোশাক : লা রিভ; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন; ছবি : ফারহান ফয়সাল

মডেল : আয়শা ও আসিব; পোশাক : লা রিভ; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন; ছবি : ফারহান ফয়সাল

নীল আকাশে সাদা মেঘের লুকোচুরি আবার বৃষ্টির পরের সজীবতা, সব মিলিয়ে প্রকৃতি এখন বেশ সতেজ ও শুভ্র। প্রকৃতির এ শুভ্রতার দেখা মেলে পোশাকেও। ফ্যাশনপ্রেমীরা এ সময় বেছে নিচ্ছেন আরামদায়ক এবং শরতের রঙ ও মোটিফের পোশাক। 

আকাশে সাদা মেঘের ঘনঘটা সেই সঙ্গে হুটহাট বৃষ্টি, বাতাসে হালকা আর্দ্রতা। কাশবনে সাদা কাশফুল আর শিউলি ফুলের সুবাস জানান দেয় শরৎ ঋতুর আগমনী বার্তা। শরতের প্রকৃতি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা জীবন্ত ক্যানভাস। গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত এ তিন ঋতুর সংমিশ্রণে শরতের প্রকৃতি সেজে ওঠে আপন রূপে। সব মিলিয়ে সময়টাও যেন ফিউশনের। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে ফ্যাশনসচেতন মানুষের পোশাকেও আসে ভিন্নতা।

রঙ বাছাই

রঙ, রূপ ও বৈচিত্র্যে শরতের প্রকৃতি হয়ে ওঠে রঙিন ও শান্ত। সেজন্য পোশাকের রঙ আর নকশায় থাকে বিভিন্ন রঙের খেলা। মূলত শরতের স্নিগ্ধতা ফুটিয়ে তোলা হয় প্রধান দুটি রঙ সাদা ও নীলের মাধ্যমে। বেশিরভাগ পোশাকে তাই সাদা ও নীলের সংমিশ্রণ দেখা যায়। এ ছাড়া শরতে হালকা রঙের পোশাক পরাই ভালো। হালকা রঙের পোশাকে গরমও কম অনুভূত হয়। সাদা রঙের পোশাক পরলে গরমও কম লাগে। কারণ সব বস্তুর তাপ বিকিরণ শোষণ করার ক্ষমতা সমান নয়। সাদা রঙের তাপ বিকিরণ শোষণ করার ক্ষমতা সবচেয়ে কম। এ কারণে সাদা রঙের পোশাক কম উত্তপ্ত হয় এবং গরম কম লাগে। এ ছাড়া পোশাকে শরতের উজ্জ্বল আবহাওয়ার প্রতিচ্ছবি ও প্রকৃতির রূপ আরও গাঢ়ভাবে ফুটিয়ে তুলতে ডিজাইনাররা ব্যবহার করেছেন আকাশি, ইন্ডিগো ব্লু ও প্যাস্টেল গ্রিন কালার। পাশাপাশি পোশাকে দেখা মেলে লাল, মেরুন ও হলুদ রঙের ছড়াছড়ি।

মোটিফ

শরৎ মানেই স্নিগ্ধতা, আর তাই পোশাকের মোটিফে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নকশা করছেন ডিজাইনাররা। ফ্লোরাল মোটিফ ব্যবহার করে প্রিন্টের মাধ্যমে ফুল, পাতা, পাখির ডিজাইন দেখা যায়। পাশাপাশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে প্রাকৃতিক ও ট্র্যাডিশনাল মোটিফ। এ ছাড়া দেখা মেলে জিওমেট্রিক মোটিফের ব্যবহার।

ডিজাইন ও প্যাটার্ন

শরতের পোশাকের প্যাটার্নে ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে এবার। বেশিরভাগ পোশাকে হ্যান্ড প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, টারসেল ইত্যাদির ব্যবহারে নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন নকশাকাররা। খুব বেশি চাকচিক্যময় পোশাক নয়, বরং সাদামাটা পোশাকই এ সময়ের জন্য উপযোগী। তবে শরৎ কেন্দ্র করেই যেহেতু দুর্গাপূজার আয়োজন, তাই উৎসবের উপযোগী পোশাকও তৈরি করছেন ডিজাইনাররা। উৎসবকে কাভার করতে ভারী মোটিফে কারচুপি ও এমব্রয়ডারির মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে শাড়ি, টিউনিক, সালোয়ার-কার্মিজ, পাঞ্জাবি।

ম্যাটেরিয়াল

শরতের শুরুর দিকে গরম ভাব থাকলেও শেষ দিকে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়তে থাকায় শীত অনুভূত হয়। এ বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে শরতের পোশাকের ম্যাটেরিয়ালে। ফ্যাব্রিকস হিসেবে সুতির পাশাপাশি আর্ট সিল্ক, কটন, জর্জেট, লিনেন, ভিসকোস, সিল্ক কটন ও জ্যাকারের মতো কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে শরতের পোশাক।

মূলত গরম এবং আরামের কথা মাথায় রেখে সুতি কাপড় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ও রঙের সুতি পোশাক যেকোনো স্থান বা আয়োজনে পরিধান করা যায়। হোক সেটা অফিস কিংবা কোনো অনুষ্ঠান। শরতের আকাশে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে ঘন সাদা বা কালো মেঘের। ফলে প্রায়ই বৃষ্টিরও দেখা মেলে। হঠাৎ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে জর্জেট ফ্যাব্রিক্সের পোশাক দারুণ সময়োপযোগী। এ ধরনের পোশাকের পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়।

সব বয়সি মানুষ এখন ফ্যাশনসচেতন। আর তাই ঋতুভেদে পোশাক নির্বাচন করছেন অনেকেই। শরৎ মানেই উজ্জ্বল প্রকৃতি। সেজন্য শরতের পোশাক সাদা, নীল, আকাশি, সোনালি ইত্যাদি উজ্জ্বল রঙেই রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। কটনের ওপর স্ক্রিন প্রিন্টে প্রাকৃতিক মোটিফে ফুল, লতাপাতায় বেশিরভাগ পোশাকের ডিজাইন করেছি আমরা। সুতির পাশাপাশি আরামদায়ক ফেব্রিককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যাতে এ সময়ে তা সারা দিন ক্যারি করতে কষ্ট না হয়। 
মারুফা শিল্পী
ডিজাইনার, লা রিভ

ছেলেদের পোশাক

শরতে ছেলেদের পোশাক হিসেবে মেইন ফোকাস পাঞ্জাবি। বাজারে এখন তিন ধরনের পাঞ্জাবির চল রয়েছে- স্কিন ফিট, লুজ ফিট ও রেগুলার ফিট। ছেলেদের ক্ষেত্রে সব সময় পাঞ্জাবি পরার সুযোগ সীমিত। কারণ যারা চাকরি করেন তাদের নির্দিষ্ট ড্রেসকোড রয়েছে। ফরমাল পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন শার্ট বা পোলো টি-শার্ট। ক্যাজুয়াল লুকের জন্য ফতুয়া হতে পারে ইউনিক ফ্যাশন আইডিয়া। তবে যে পোশাকই বেছে নিন না কেন, রঙটি হতে হবে উজ্জ্বল।

মেয়েদের পোশাক

বাঙালি নারী মানেই শাড়ি। শরতের এই সময়ে নারীদের জন্য প্রথম পছন্দ তাই শাড়ি। ট্র্যাডিশনাল মোটিফে সাদা ও নীল রঙের সংমিশ্রণে তৈরি সুতির শাড়ি আভিজাত্য প্রকাশ করে। যারা শাড়ি পরতে চান তারা বেছে নিন হালকা রঙের শাড়িগুলো। ফিকে নীল শাড়িতে জরিপাড় দেওয়া, চাঁপাফুল রঙ, ধানি রং, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি এবং এর সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ। ব্লাউজের হাতা থ্রি কোয়ার্টার হলে ভালো মানাবে। শুধু শাড়িই নয়, শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ, টিউনিক, কুর্তি, পালাজ্জো স্কার্ট, পালাজ্জো কার্মিজ সবকিছুতেই রঙের বাহার। টিউনিকের ক্ষেত্রেও কিন্তু ভ্যারিয়েশন রয়েছে। লং টিউনিক, শর্ট টিউনিক ও টিউনিক উইথ শার্ট। পোশাকটা যদি কামিজ হয় তাহলে সঙ্গে মানানসই রঙ ও ডিজাইনের সালোয়ার ও ওড়না নিন। প্রচণ্ড গরমের কারণে আরামদায়ক কুর্তি ও ফতুয়ার প্রতিও ঝুঁকছে অনেকে।

শরতে এই রোদ তো আবার বৃষ্টির দেখা মেলে। সঙ্গে যেহেতু বেশ গরম তাই মেকআপ করতে হবে একদম সাধারণভাবে। বাইরে যদি রোদের দেখা না মেলে তবুও সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। এরপর ফাউন্ডেশন বা বিবি ক্রিম লাগিয়ে নিতে পারেন। শরতে পোশাকের সঙ্গে স্নিগ্ধ লুক করতে চোখে কাজল দেওয়া যেতে পারে। এরপর মাশকারা ব্যবহার করলে চোখ দেখতে সুন্দর লাগবে। মেকআপের প্রোডাক্ট বেছে নিতে হবে ওয়াটার প্রুফ। যাতে বৃষ্টির পানিতে তা ছড়িয়ে না যায়।
আফরোজা পারভিন
রূপ বিশেষজ্ঞ,  রেড বিউটি সেলুন 

সাজগোজ

শরতের সাজে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। সেজন্য পোশাকের রঙ খুব বেশি উজ্জ্বল কিংবা গাঢ় হলে হালকা সাজাই ভালো। অন্যদিকে যদি পোশাকের রঙ হালকা হয় তাহলে সাজতে পারেন একটু জমকালোভাবে। হালকা সাজের জন্য মুখে ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্কিন ক্রিম লাগিয়ে নিন। এরপর বিবি ক্রিম মেখে নিতে পারেন। কম্প্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে পিচ রঙের ব্লাশন দিতে পারেন। এত দেখতে সুন্দর লাগবে। ডার্ক ব্রাউন শ্যাডো দিয়ে আইব্রো শেপ করে নিন। চোখে চিকন করে লাইন টেনে আইলাইনার দিতে পারেন। না চাইলে শুধু মাশকারা ব্যবহার করুন। এতে চোখের পাপড়িগুলো দেখতে কিছুটা ঘন লাগবে এবং চোখ জোড়াও বড় দেখাবে। ঠোঁটের সাজে প্রথমে লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট ভালো করে এঁকে নিন। তারপর ঠোঁটে স্কিন কালার লিপস্টিক দিন। কপালে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ছোট টিপ পরলে দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগবে। যেহেতু সাজটা স্নিগ্ধ, তাই জমকালো গয়না না পরাই ভালো। কানে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সাদা বা সোনালী রঙের দুল বেছে নিতে পারেন। হাতে পরুন ঘড়ি কিংবা ভারী ব্রেসলেট। চাইলে বড় একটি আংটিও পরতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের গয়না ভালো মানায়। শাড়ি ছাড়া অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে একজোড়া কানের দুল ও গলার চেনে ছোট লকেট পরতে পারেন।

চুলের সাজ

স্নিগ্ধ, সুন্দর আউটলুকের জন্য পোশাক ও সাজের সঙ্গে মিল রেখে চুলের সাজও গুরুত্বপূর্ণ। শরতের পোশাক অধিকাংশ ক্ষেত্রে হালকা উজ্জ্বল রঙের হয় বিধায় মেকআপও করা উচিত সাধারণভাবে। আর তাই চুলের স্টাইলের ক্ষেত্রে সামনের দিকে একপাশ সিঁথি করে চুল হালকা পাফ করে রাখতে পারেন। অথবা চুলগুলো একদম খোলাও রাখতে পারেন। এ ছাড়া সামনের দিকে টুইস্ট করে পেছনে চুল খোলা রাখতে পারেন। আবার পেছনের চুলগুলো চিকন বেণি করে পেঁচিয়ে খোঁপা করে নিতে পারেন। মূলত হেয়ার স্টাইল যেমনই করা হোক না কেন, তার সঙ্গে পোশাক ও সাজ কেমন লাগবে সে দিকটি খেয়াল রাখতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা