× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাচীন লোহাগড় মঠ

কেএম নজরুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৩০ এএম

ফরিদগঞ্জের ঐতিহাসিক লোহাগড় মঠ 	ছবি : লেখক

ফরিদগঞ্জের ঐতিহাসিক লোহাগড় মঠ ছবি : লেখক

প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন লোহাগড় মঠ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের লোহাগড় গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর পাশে অবস্থিত। লোহা ও গহড় নামে প্রভাবশালী অত্যাচারী দুই ভাই ছিলেন, যাদের নামানুসারে পরে এই গ্রামের নামকরণ হয় লোহাগড়।

লোহাগড় মঠ কে, কবে নির্মাণ করেছিলেন- এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস ও কিছু সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য, বাংলা বিহার ও ওড়িশার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার অর্থমন্ত্রী রাজবল্লভের দ্বিতীয় পুত্র কৃষ্ণবল্লভের ঢাকা লুণ্ঠনের সময় রত্নভান্ডার নিয়ে তারা এখানে পালিয়ে আসেন। এসে তারা ডাকাতিয়ার পাড়ে দুর্গাকৃতির একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। আর পাশাপাশি তৈরি করেন সুবিশাল মনোরম ভিন্ন ভিন্ন সাইজ ও আকৃতির পাঁচটি মঠ। বর্তমানে এখানে তিনটি মঠ অবশিষ্ট রয়েছে। লোহা ও গহড়দের মূল ভবনটি থেকে মঠের দূরত্ব আনুমানিক সিকি মাইল। বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে নেই অত্যাচারী জমিদারদের কোনো চিহ্ন। সেখানে বিরাজ করছে খা খা বিরানভূমি।

তবে একটি বাড়িকে সংস্কার করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার সেখানে বসবাস করছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে।আরেকটি রোমহর্ষক ঘটনার কথা লোকমুখে এখনও বর্তমান যে, লোহা এবং গহড়ের কাছে তাদের মা গরুর দুধ ও কলা খেতে চেয়েছিলেন। এটা নাকি তাদের কাছে অপরাধ ছিল। এই অপরাধে তারা তাদের মাকে বাড়ির কাছে অবস্থিত পুকুরে দুধে পরিপূর্ণ করে চুবিয়ে মেরে ফেলেছিল। মানুষের ধারণা, মায়ের অভিশাপে তাদের জমিদারি দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তার আগে তাদের জমিদারির বহর খুব অতিরঞ্জিত ছিল। জনৈক ব্রিটিশ পরিব্রাজক লোহাগড় গ্রাম পরিদর্শনে গেলে তার জন্য নদীর পাড় থেকে তাদের বাড়ি পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার রাস্তা স্বর্ণ ও রৌপ্যের সিকি-আধুলি দিয়ে বাঁধাই করেন।

প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর মঠগুলো স্থাপিত। বর্তমানে টিকে থাকা তিনটি মঠ ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার। ১৫০ ফুট উচ্চতার ও ১০০ ফুট পর্যন্ত চতুর্ভুজের সবচেয়ে লম্বা মঠটি সবচেয়ে সুন্দর, যেটির উপরিভাগ নিম্নভাগের চেয়ে অনেক বেশি নকশার কাজ রয়েছে। এই মঠটির উপরিভাগ দেখতে অনেকটা প্যাগোডার উপরিভাগের মতো। মঠটির ওপরে কয়েকটি গর্ত রয়েছে, যেখানে টিয়াপাখিরা বসবাস করে। এর পরেরটির উচ্চতা ১২০ ফুট এবং তৃতীয়টি ১০০ ফুটের মতো। কিছু কিছু অংশ ইতোমধ্যে মাটিতে দেবে গেছে। 

মানুষজন মঠগুলোর কাছে খুব কম যাওয়ায় অনেক বছর এগুলো জঙ্গলে ঢেকে ছিল। কিন্তু এখন এটি দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় একটি স্থান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে হরহামেশা ছুটে আসছে মানুষ।

কিভাবে যাবেন?

চাঁদপুর শহর থেকে লোহাগড়া মঠের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। চাঁদপুর শহর জেলা সদর থেকে বাস, সিএনজি বা মোটর সাইকেলে চান্দ্রা বাজার হয়ে লোহাগড়া মঠ পৌছাতে পারবেন।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা