৩০০ বছরের পুরোনো
শিহাব আহমেদ
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:৩৯ পিএম
নয়নাভিরাম আউটশাহী গ্রামের ঐতিহাসিক মঠ। প্রবা ফটো
১০০ ফুট উচ্চতার প্রাচীন বিক্রমপুর জনপদের আউটশাহী মঠের বয়স অন্তত ৩০০ বছর। হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিজয় রাম কর ১৭৫৫ থেকে ১৭৫৭ সালে তার মায়ের মরদেহের ওপর মঠটি নির্মাণ করেন।
মঠের পাশেই দেবী দুর্গা এবং শিব ও দেবী পার্বতীর সংমিশ্রণে দুটি আলাদা মন্দিরও নির্মাণ করেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে নিয়মিত পূজা দেন। প্রাচীন বিক্রমপুরের অংশ বর্তমান মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের আউটশাহী রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে মঠটির অবস্থান। মুন্সীগঞ্জের যে মঠগুলো নিয়ে খুব একটা কথা হয় না বা অবহেলা করা হয়, তার মধ্যে এটি একটি। জরাজীর্ণ এলাকায় অনেকটা আড়ালে-আবডালে এর অবস্থান। বর্তমানে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মঠটি চারদিক থেকে গাছগাছালিতে ঢেকে গেছে। তবু এখানে বিভিন্ন জাতের পাখির বসবাস আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
আক্ষেপের বিষয়- আউটশাহীর এ মঠটির সঠিক ইতিহাস সংবলিত কোনো প্ল্যাকার্ডও নেই এর আশপাশে। ফলে দর্শনার্থীরা মঠটি পরিদর্শনে এলেও এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছেন না কিছুই। ছোট-বড় মিলিয়ে জেলার ৬টি উপজেলার ৫টিতেই ৩০-৩৫টি মঠ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী, সিরাজদিখান, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার প্রান্তিক এলাকায় মঠগুলোর অবস্থান। তবে সবচেয়ে বেশি মঠ টংগিবাড়ী উপজেলায়। আর ২৪১ ফুট উচ্চতার ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু শ্যামসিদ্ধির মঠের অবস্থানও শ্রীনগর উপজেলায়।
মুন্সীগঞ্জের এই একেকটি মঠ এই অঞ্চলের শত শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক মঠের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করলেও তাদের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে কোনো ব্যবস্থাই যেন নেই। মূল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নয়নাভিরাম আউটশাহী গ্রামের ঐতিহাসিক এ মঠটি স্থানীয় দখলদাররা যেকোনো সময় অপসারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যেই মঠের মাথাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক আঘাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মঠটির বাইরের অংশ।
হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের মা-বাবার মৃত্যুর পর যে স্থানে দাহ করা হয়, তাদের চিতার ওপর স্মৃতি রক্ষার্থে সেখানে মঠ নির্মাণ করেন তারা। মঠের চূড়ায় পিতলের কলসিতে রাখা হয় চিতার ছাই ও সামান্য পরিমাণ ধাতব মুদ্রা। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জে অসংখ্য মঠ ছিল। নদীভাঙন ও দখলদাররা ভেঙে ফেলার কারণে এ সংখ্যা প্রতিনিয়তই কমছে। প্রাচীন ও ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অংশ হিসেবে আউটশাহী মঠকে সংস্কার করে অস্তিত্ব রক্ষার দাবি স্থানীয়দের।