নারীর সাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ গয়না। অফিস কিংবা ক্যাম্পাসে প্রিয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না দেয় ক্লাসিক লুক। হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলতে তাই মিনিমালিস্ট জুয়েলারি হতে পারে আপনার নিত্যদিনের অনুষঙ্গ
‘মেঘ মেঘ চুল তার/অভ্রের গয়না/নদী পাতা জল চোখ/ফুলসাজ আয়না’, রুদ্র গোস্বামীর এই কবিতাটির মতো আরও শত শত কবিতা গানের উপজীব্য হয়েছে নারীদের গয়না। নারীর সাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ গয়না। সাজের পরিপূর্ণতা গয়না ছাড়া সম্ভব নয়। প্রাচীন কাল থেকেই শোভাবর্ধনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে নানা উপকরণের গয়না। সোনা-রুপা থেকে পিতল বা ব্রাস, হিরে থেকে শুরু করে শিলার পাথর শিল্পীর ছোঁয়ায় যেকোনো বস্তু দিয়েই তৈরি করা যায় নানান ধাঁচের গয়না। প্রিয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়নায় নারীর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।
বর্তমানে নারীরা পার করছেন কর্মব্যস্ত সময়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাই করে নিতে হয় সারা দিনের পরিকল্পনা। অফিস কিংবা ইউনিভার্সিটির ক্লাস সব জায়গায় নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গয়নার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। একেবারে গয়না ছাড়া বের হলে যেমন খালি খালি লাগে আবার অতিরিক্ত বা ভারী গয়নার ব্যবহার পুরো লুক নষ্ট করে দিতে পারে। তাই গয়না হওয়া উচিত পরিবেশ, সময় ও স্থানের সঙ্গে মানানসই। এজন্য গয়না নির্বাচনের সময় হতে হবে সতর্ক।
বর্তমানে সাজ পোশাক নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কথাটি হলো লেস ইজ মোর। অর্থাৎ যত সাধারণ থাকা যাবে তত সুন্দর দেখাবে। গয়নার ব্যবহার যেমন আপনার রুচির পরিচয় বহন করবে সেই সঙ্গে জানান দেবে আপনার ফ্যাশন সেন্স। সকালে বের হওয়ার সময় গয়না হওয়া উচিত হাল্কা। ভার্সিটি কিংবা অফিসের জন্য নির্বাচিত গয়নাটি হতে হবে মানানসই এবং ছোট আকৃতির। যাতে তা চোখকে পীড়া না দেয়। গয়না আপনার নিজস্ব সৌন্দর্যকে যেন ঢেকে না দেয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলতে তাই মিনিমালিস্ট জুয়েলারি হতে পারে আপনার নিত্যদিনের অনুষঙ্গ।
সময়ের ট্রেন্ডি গয়না
হিরে কিংবা সোনার চাহিদা রয়েছে সব সময়। হালকা কাজের সোনার গয়না কিংবা ডায়মন্ডের কানের দুল, পেন্ডেন্ট পরা যেতে পারে অফিসে কিংবা ভার্সিটিতে। তবে প্রাত্যহিক ব্যবহারের জন্য বর্তমানে তামা, পিতল, রুপাসহ বিভিন্ন রকম ধাতু, পাথরের গয়না এমনকি প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি গয়নার চাহিদা বেড়েছে। হালকা নকশার দুল, গলার নেকলেস, চেন, পেনডেন্ট, আংটি, ছোট ঝুমকা ইত্যাদি; শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ প্রায় সব পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। যারা নিয়মিত অফিস করেন তাদের সাজ পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যাবে নানা ডিজাইনের হালকা গড়নের ফিউশন ও ট্র্যাডিশনাল গয়নাগুলো। অ্যান্টিক বা অক্সিডাইজ করা গয়নাও বেছে নিতে পারেন নিত্যদিন পরার জন্য।
অফিস কিংবা ক্যাম্পাসে নিত্যদিন পরার মতো বেশ কিছু ডিজাইনের জুয়েলারি আছে আমাদের। যা ওয়েস্টার্ন কিংবা কুর্তি-কামিজÑ মানিয়ে যায় সবকিছুতে। গয়নাগুলো ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজাইন করেছি। মেটাল, রুপায় তৈরি এসব গয়নায় মুক্তা কিংবা স্টোনের ব্যবহার দেখা যাবে। কিছু আছে শুধুই মেটাল দিয়ে তৈরি। মিনিমাল এই গয়নাগুলো দেখতে সুন্দর ও ক্লাসিক।জেরিন তাসনিম খান লোরা স্বত্বাধিকারী, সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি
পোশাকের সঙ্গে গয়না
কেমন পোশাকে কেমন গয়না মানানসই সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। অফিসের ফর্মাল পোশাকের সঙ্গে সোনালি কিংবা রুপালি রঙের এক লেয়ারের চেইন পরা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতের হবে চেইনের লকেট কিংবা চার্মটি যাতে বড় আকৃতির না হয়। গলায় চেন পরলে কানের দুল বাছাই করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। কানের দুল এক্ষেত্রে ছোট হওয়াই শ্রেয়। আপনার বাছাইকৃত কানের দুলটি হতে পারে পাথর কিংবা মুক্তার। তবে গলায় পরা ধাতুর তৈরি গয়নার সঙ্গে কানের দুলটি ধাতুর তৈরি হলে বেশি মানাবে।
গয়না নির্বাচনের সময় পোশাকের ধরন, রঙ ও ম্যাটেরিয়েলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়। পোশাক যদি সিল্ক বা সাটিনের হয় তবে ধাতু কিংবা ক্রিস্টালের তৈরি গয়না ভালো মানাবে। দেশীয় লুকের জন্য সুতি সালোয়ার কামিজ কিংবা কুর্তির সঙ্গে পরে নিতে পারেন কাঠের গয়না। ওয়েস্টার্ন কিংবা ফর্মাল পোশাকের সঙ্গে পরতে পারেন জ্যামিতিক মোটিফের গয়না। মেটালের মিনিমাল গয়নাও বেছে নিতে পারেন। হাতে পরতে পারেন ব্রেসলেট ও আংটি। অফিসের কোনো অনুষ্ঠানে শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজের সঙ্গে মুক্তার মালা ও দুল এনে দিবে এলিগ্যান্ট লুক।
আপনার পোশাকের রঙ যদি সাদা অথবা হালকা ন্যুড হয় তবে পরতে পারেন গাড় নীল, সবুজ, বেগুনি কিংবা আকাশি রঙের গয়না। স্টোনের গয়না দিয়ে সহজেই আনা যায় ক্লাসি লুক। সাদা পোশাকে নীলকান্ত মনি, এমেথিস্ট কিংবা এমারেল্ড এর গয়না মানিয়ে যায় দারুণ সঙ্গে দেখায় আকর্ষণীয়। আর স্টোনের এমন মিনিমাল গয়না মানিয়ে যাবে যেকোনো জায়গায়। অফিসে যেমন পরতে পারবেন তেমনি অফিস শেষে যেকোনো অনুষ্ঠানে ক্লাসিক একটা লুক দিবে। ধূসর রঙের পোশাকের সঙ্গে সাদা কিংবা নীল রঙের গয়না ভালো মানাবে। নীল কিংবা আকাশি রঙের পোশাকের সঙ্গে কন্ট্রাস্ট হিসেবে সাদা, কালো, হলুদ কিংবা ফ্যাকাশে সবুজ রঙ তৈরি করবে মানানসই কনট্রাস্ট।
হালের জনপ্রিয় গয়না
ফ্যাশন সচেতন নারীরা বর্তমানে স্টেটমেন্ট গয়না পরতে বেশ পছন্দ করেন। এ ক্ষেত্রে যেকোনো একটি গয়না হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ। হতে পারে তা কানের দুল, ব্রেসলেট, আংটি কিংবা নেকলেস। তবে অফিসে ভারী গয়না এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। মিনিমালিস্ট গয়না থেকেই নির্বাচন করতে পারেন আপনার স্টেটমেন্ট গয়না। একরঙা জামার সঙ্গে পরে নিতে পারেন বড় কানের দুল। কামিজের সঙ্গে কাচ, পুঁতি কিংবা বিডস এর সমন্বয়ের ঝুমকা বেশ প্রচলিত। ছোট আকৃতির ঝুমকাও বেছে নিতে পারেন। এ ছাড়া জ্যামিতিক প্যাটার্ন ও বোহেমিয়ান ঘরানার দুল বেছে নেওয়া যেতে পারে। বড় দুল পরতে না চাইলে তার পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন আংটি বা ব্রেসলেট। আফগানি বোহেমিয়ান নকশার আংটি ট্রেন্ডি বর্তমান সময়ে। এ ছাড়াও কাঠ, রেজিন, ব্রাস, জার্মান সিলভার কিংবা রুপার আংটি বেছে নিতে পারেন। আংটির নকশার ক্ষেত্রে অর্ধ বৃত্ত, ত্রিভুজ আকৃতির জ্যামিতিক প্যাটার্ন বেশ আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয়। এ ছাড়াও কাঠ গোলাপ, শিউলি ফুলের নকশা, নারীর মুখের আদল, মানচিত্র, টিয়ার ড্রপ ইত্যাদি নকশা এখন ট্রেন্ডি।
বর্তমান তরুণীরা বিভিন্ন সিম্বলিক চার্ম ও প্যাটার্নের গয়নায় বেশ ঝুঁকছে। এর মধ্যে ইন-ইয়াং, মেডুসা সাইন, দি ইভিল আই, স্বস্তিকা, হর্স শু, ক্লোভার, হামসা হ্যান্ড, এংকর বেশ জনপ্রিয়। এসব সিম্বলিক চার্মের লকেট, দুল ও ব্রেসলেট ওয়েস্টার্ন লুককে পরিপূর্ণতা দেয়।