কার্টুন কমিকস
মাশরুর রহমান মুহিত
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০৭ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১০ পিএম
লিখেছে ও এঁকেছে : মাশরুর রহমান মুহিত, দশম শ্রেণি , বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা
দিনটি ছিল খুব সুন্দর। বনের মধ্যে থেকে থেকে এক বাঘের খুব একঘেয়েমি লাগছিল। সে একদিন শহরে এলো। হঠাৎ চোখে পড়ল একটি স্কুল। দেখে স্কুলের ভেতরে শিশুরা কিছু একটা দিয়ে খেলছে। আর একটু এগিয়ে দেখল, ওরা রঙতুলি দিয়ে ছবি আঁকছে। রঙবেরঙের কালিতে ওদের হাতমুখ মেখে একাকার। সবাইকে এত রঙিন দেখে বাঘের তো ভীষণ আনন্দ হলো। স্কুলের দেয়ালের ওপরের লেখা দেখে বাঘটি তখন বুঝতে পারল এটি একটি আর্ট স্কুল। শিশুদের ছবি আঁকা দেখে বাঘেরও ছবি আঁকার কৌতূহল হলো। তারও ছবি আঁকতে ইচ্ছা করছে...

তারপর
বাঘটি আর্ট স্কুলের ভেতরে
প্রবেশ করল। তাকে দেখে
তো শিশুরা রঙতুলি ফেলে চিৎকার-চেঁচামেচি
শুরু করল। বাঘ তখন
ওদের অভয় দিয়ে বলল,
‘ভয়ের কিছু নেই! আমি
কোনো ক্ষতি করব না।’ শিশুরা
তখন একটু শান্ত হলো।
কেউ কেউ সামনে এগিয়ে
এলো। বাঘ বলল, ‘আমাকে
তোমাদের মতো খাতা আর
রঙতুলি দাও না। আমিও
ছবি আঁকতে চাই।’ বাচ্চারা তখন ভয় পেয়ে
যার যার রঙতুলি, খাতা
সব সরিয়ে ফেলল।
শিশুদের
মধ্যে একজন বলে উঠল,
‘আমরা তো মানুষ। তাই
হাত দিয়ে ছবি আঁকি।
কিন্তু তুমি তো বাঘ।
তুমি কী করে ছবি
আঁকবে?’ এসব শুনে বাঘ
বলল, ‘আমি মানুষ নই
এ কথা ঠিক! কিন্তু
বাঘ হলে ছবি আঁকতে
পারব না এ কথা
কেন বলছ? আমিও তোমাদের
মতো চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই ছবি
আঁকতে পারব।’ এসব শুনে শিশুরা
অবাক হলো। বাঘ কী
বলছে এসব!
বাঘ আরও বলল, ‘আমি তো বাঘ! ছবি আঁকার জন্য যে রঙতুলি, পেনসিল, খাতা, ক্যানভাস এসব কিছুই তো আমার কাছে নেই! আমি তো এসব কিনতেও পারব না।’ এই বলে বাঘ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। আর ভাবতে লাগল কী করে সে ছবি আঁকা শিখবে। কী করে শিশুদের মতো সেও ছবি আঁকবে।

এমন সময় তুতুল নামে একটি মেয়ে বাঘের কাছে এসে বলল, ‘তুমি কি ছবি আঁকতে চাও?’ তুতুলের কথা শুনে বাঘ খুশিতে এক দৌড়ে তুতুলের কাছে এলো। বাঘ বলল, ‘তুমি আমাকে রঙতুলি দেবে? আমাকে একটু ছবি আঁকা শিখিয়ে দাও না।’ তখন তুতুল তার কাছে থাকা কিছু রঙ বাঘকে দেয় আর বলে, ‘তুমি এ রঙগুলো দিয়ে ছবি আঁকতে পারো।’ তখন বাঘের হাত ধরে ধরে তুতুল বাঘকে ছবি আঁকা শিখিয়ে দিল। একসঙ্গে ছবি আঁকতে আঁকতে বাঘ একদিন নিজেরই ছবি এঁকে ফেলল।

নিজের ছবি দেখে বাঘ ভাবে, ‘আমি তো দেখতে অনেক সুন্দর! হলুদের মধ্যে কালো ডোরাকাটা দাগ! অনেক পশুর মধ্যে আমাকে আলাদা করেই চেনা যায়। এজন্যই বুঝি বাংলাদেশের সবাই আমাকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামে ডাকে। সে আরও ভাবে, আমার বাসস্থান তো সুন্দরবনে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমার স্বজাতি আজ বিলুপ্তির পথে। যেভাবেই হোক আমাকে আমার স্বজাতিকে বাঁচাতে হবে।’

বাঘ তুতুলকে এসব কথা জানাল। তুতুল বাঘকে পরামর্শ দিল। বাঘ ছবি এঁকে মানুষকে সচেতন করতে পারে। বাঘ তুতুলের সঙ্গে একমত হলো। তাই বাঘ ছবি আঁকায় মন দিল। একপর্যায়ে বাঘ সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকতে আঁকতে বড় চিত্রশিল্পী হয়ে গেল। সে সুন্দরবনের সৌন্দর্য নিয়ে অনেক রকম ছবি আঁকে। সে তার ছবি এঁকে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করে যেন মানুষ বাঘদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে। সে ছবি আঁকতে আঁকতে ভাবতে থাকে, ‘স্বজাতিকে টিকিয়ে রাখতে আমি আজীবন ছবি এঁকে যাব। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা...’
