রোজ কবির মায়শা
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, সপ্তম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
তখন
আমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। করোনাভাইরাসের জন্য
স্কুল বন্ধ। তাই আমরা সবাই
গ্রামের বাড়ি চলে যাই।
অনেক দিন পর সবাই
মিলিত হই। আমাদের গ্রামের
বাড়িটা দোতলা। একদিন রাতের খাবারের পর বড়রা নিচতলায়
বসে গল্প করছেন। ছোটরা
ফোনে মজার মজার ভিডিও
দেখছি। মোবাইলে হঠাৎ একটি ভিডিও
এলো। যেখানে আছে- রাত ৩টার
সময় কেউ মোমবাতি হাতে
নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালে এবং ভক্তি নিয়ে
ডাকলে জিন এসে দেখা
দেবে।
এ তথ্যের সত্য-মিথ্যা পরীক্ষা করার ইচ্ছা হলো। বড়দের গিয়ে বললাম আজ আমরা ছোটরা একসঙ্গে ঘুমাব। আমাদের সঙ্গে রিমি আপু ছিল। তার খুব সাহস। আপু বড়দের বলে রাজি করাল। একসঙ্গে শুয়ে আমরা রাত ৩টা বাজার অপেক্ষা করছি। যখন প্রায় ৩টা বাজল রিমি আপু মোমবাতি নিয়ে ওয়াশরুমের আয়নার সামনে গেল। আমরা ঘরের এক কোনায় গোল হয়ে বসে ছিলাম। সবাই মাথা নিচু করে আছি। অনেক সময় পার হওয়ার পর আপুর কোনো সাড়া নেই। তাই আমরা ভয়ে ভয়ে মাথা তুললাম। মাথা তুলে দেখি রিমি আপু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাকে ডাকলাম। সে আমাদের দিকে তাকাল। একটি বিধ্বস্ত মুখ। চোখ দুটি লাল, চুল দিয়ে তার মুখ ঢেকে আছে। কোনোমতে চোখ দুটি দেখা যাচ্ছে। পা দুটি উল্টা। মাটিতে পা নেই। একটু ওপরে। এ অবস্থা দেখে আমরা ভয় পেলাম।
একেবারে যারা ছোট তারা
চিৎকার শুরু করল। দরোজা
খোলার চেষ্টা করতে থাকি। সিটকিনির
নাগালও পাচ্ছি না ঠিকমতো। এরই
মধ্যে রিমি আপু ঘরের
সবকিছু এলোমেলো করে দিল। এ
ঘরের দেয়ালের এপাশ থেকে ওপাশ
ছোটাছুটি করছে। আবার আমাদের দিকেও
এগোতে থাকে। আমরা আরও জোরে
চিৎকার করতে থাকি। শব্দ
শুনে বাড়ির বড়রা আমাদের কাছে
আসেন। এর মধ্যে রিমি
আপু অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।
আমরা অনেক ভয় পেয়ে
যাই। হাসপাতাল থেকে আপু সুস্থ
হয়ে ফিরে আসে। কিন্তু
সেদিন রাতে কেন আপু
জ্ঞান হারিয়েছিল, তার সঙ্গে কী
ঘটেছিল এসব সে কিছুই
মনে করতে পারেনি।
ষষ্ঠ শ্রেণি, আকিজ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাভারণ, ঝিকরগাছা, যশোর