বাকৃবি উইমেন সাইক্লিং ক্লাব
ফাতেমা তুজ্জোহরা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৩:২২ পিএম
২০১৭ সালে যাত্রা করে বাকৃবি উইমেন সাইক্লিং ক্লাব
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ক্যাম্পাসে সাইকেলে ছুটে চলছে মেয়েরা। বাধাহীনভাবে পাড়ি দিচ্ছেন ৫-৭ কিলোমিটার দূরত্ব। বলছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রীদের সাইক্লিং শেখানোর সংগঠন বাকৃবি উইমেন সাইক্লিং ক্লাবের কথা।
‘মেয়ে হয়ে সাইকেল চালাবে! কেমন মেয়ে ও!’ এরকম নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে নারী সাইক্লিস্টদের। কোনো মেয়ে সাইকেল চালিয়ে গেলে তার দিকে একটু আলাদাভাবে তাকাত আশপাশের মানুষ। অনেকে লজ্জাবোধ থেকে সাইকেল চালাতে আগ্রহী ছিলেন না। হেঁটে সময়মতো ক্লাস ধরা অসম্ভব হতো মেয়েদের। এত বড় ক্যাম্পাসে চলাচলের জন্য মেয়েদের রিকশার ওপর ভরসা করে থাকাটা মেনে নিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। তাদের মধ্যে অন্যতম পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস। তার উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা করে বাকৃবি উইমেন সাইক্লিং ক্লাব।

পথপরিক্রমায় পেরিয়ে গেছে প্রায় ছয় বছর। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মেয়েক সাইকেল চালানো শিখেছেন। এখন তার ফলও দৃশ্যমান। বাকৃবির প্রতিটি ছাত্রী হলে এখন সাইকেল স্ট্যান্ড ভর্তি সাইকেল দেখা যায়। সাইকেলে ভর দিয়ে গিয়ে ছাত্রীরা ক্লাস করছেন। পাঁচটি হলেই রয়েছে উইমেন সাইক্লিং ক্লাবের হল প্রতিনিধি এবং অনুষদভিত্তিক রয়েছে অনুষদ প্রতিনিধি। প্রতিটি ছাত্রী হলে উইমেন সাইক্লিং ক্লাবের নিজস্ব সাইকেলও রয়েছে। আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের সাইকেল চালানো শেখানো হয়। যেকোনো প্রয়োজনে দিনপ্রতি ৫ টাকা দিয়ে নিতে পারেন সাইকেল ভাড়া। প্রতি শুক্রবার বাকৃবি হেলিপ্যাডে সাইকেল চালানো শেখানো হয়। আবাসিক, অনাবাসিক সব ছাত্রীই সাইকেল চালানো শিখতে পারেন।
চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী রাজিয়া ইসলাম রাখি বলেন, ‘রক্ষণশীল পরিবার হওয়ায় শখ থাকা সত্ত্বেও সাইকেল চালানো শেখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ভার্সিটিতে এসে সাইকেল চালানো শিখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব জায়গায় চলে যেতে পারি দ্রুতই।’ দিবসকেন্দ্রিক নানা কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে ক্লাবটি। এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসে চারজন অনুপ্রেরণাময়ী সফল নারী শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষককে প্রদান করা হয় ‘স্পার্কেল অ্যাওয়ার্ড’।
উইমেন সাইক্লিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস বলেন, ‘বাকৃবিতে ক্লাস, ল্যাবসমূহ অনেক দূরে হওয়ায় ছাত্ররা খুব সহজেই সাইকেলের মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারলেও ছাত্রীরা পড়েন দুর্বিপাকে। চিন্তা করেছিলাম ছাত্রীদের এ ব্যাপারে সংঘবদ্ধ হওয়া উচিত। কালের পরিক্রমায় এখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মেয়েদের সাইক্লিংয়ের সাবেকি ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে এসেছে। এখন ক্যাম্পাসে মেয়েরা সুন্দরভাবে সাইকেল চালাতে পারেন, সাইকেল কেনার হারও অনেক বেড়েছে।’