× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পথে পথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি

এলিজা বিনতে এলাহী

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৩ পিএম

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম

বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ

বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ

জাতির মুক্তির সংগ্রাম সংগঠিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে। স্মৃতিবিজড়িত সেইসব স্থানের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়ে আজকের আয়োজন। লিখেছেন এলিজা বিনতে এলাহী

টুঙ্গিপাড়া ও সমাধিসৌধ 

গোপালগঞ্জের ছোট্ট এই গ্রামের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এই গ্রামেরই এক আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চিত্তের উচ্ছল তরুণের চিন্তার ফসল আমাদের আজকের লাল-সবুজের বাংলাদেশ। তাঁর প্রিয় গ্রাম, জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ার মাটিতেই তিনি চিরশায়িত আছেন। তৎকালীন টুঙ্গিপাড়া সম্পর্কে জেনেছি বঙ্গবন্ধুর লিখিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে। সেখানে যাওয়ার পর টুঙ্গিপাড়ার শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে ভীষণ আপ্লুত করেছে। একবিংশ শতাব্দীর টুঙ্গিপাড়া যদি এত মায়াবতী হয়, তাহলে বিশ শতকের এই গ্রাম কতইনা মনকাড়া ছিল। প্রায় ৪০ একর জায়গা জুড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্সটি, সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র । 

গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়া। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা-ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা করে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধতে যাওয়া যায়। ২০০১ সালে নির্মিত হয় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯৯ সালের ১৭ মার্চ এই সমাধিসৌধ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ২৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাধিসৌধের উদ্বোধন করেন। মধুমতী বিধৌত বাইগার নদীর পাড়ে অবস্থিত এই সমাধিস্থল। দুই পাশে উদ্যান, মাঝে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সমাধি। স্থপতি এহসান খান সমাধিসৌধের নকশা করেন।

বঙ্গবন্ধুর সমাধি ডিজাইনের জন্য তিনি বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের বর্ষসেরা স্থপতি পুরস্কার অর্জন করেন ২০০১ সালে। সমাধি কমপ্লেক্সে ঢোকার দুটি গেট রয়েছে। আপনি মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, আবার শুধু সমাধিতে প্রবেশেরও একটি গেট আছে। স্থাপত্য নকশা অনুসারে এই কমপ্লেক্স দুই ভাগে বিভক্ত- কোর্ট স্পিরিচুয়ালিটি, পাবলিক কোর্ট। সমাধির পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য মূল কবরস্থান, বঙ্গবন্ধু ভবন জাদুঘর, প্রশাসনিক ভবন, লাউঞ্জ এবং ঝরনা কোর্ট স্পিরিচুয়ালে। আর পাবলিক কোর্টে রয়েছে মসজিদ, গবেষণাকেন্দ্র, লাইব্রেরি প্রদর্শনী কেন্দ্র, পাবলিক প্লাজা, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুক্ত মঞ্চ, বকুলতলা চত্বর, স্যুভেনির কর্নার, প্রশস্ত পথ ও মনোরম ফুলের বাগান। 

টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর নিজ বাড়ির বসার ঘর

কমপ্লেক্সের সামনের, দুই পাশের উদ্যান পেরোনোর পরই বঙ্গবন্ধুর কবর। পাশেই তাঁর বাবা-মায়ের কবর। এই তিন কবরকে ঘিরেই নির্মাণ করা হয়েছে মূল স্তম্ভটি। যতটুকু বুঝেছি গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সমাধিসৌধটি। সাদা পাথরে নির্মিত গোলাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট সমাধিসৌধের চারদিকের দেয়ালে জাফরি কাটা। এই জাফরি কাটা দিয়েই সূর্যের আলো আসে। ওপরে কাচের কারুকাজ দিয়েও আলো ছড়িয়ে পড়ে কবরে। ওপরের অংশ ফাঁকা। কবর তিনটি ঘিরে রাখা হয়েছে সংক্ষিপ্ত রেলিং দিয়ে। সমাধির পাশেই আছে দ্বিতল একটি বিল্ডিং, যেখানে বঙ্গবন্ধুর বাবা-মা বাস করতেন। এখন এটিকে জাদুঘর বানানো হয়েছে। 

বঙ্গবন্ধুর আদি বাসস্থান 

সমাধি থেকে বেরিয়ে পাশেই দেখতে পেলাম বঙ্গবন্ধুর আদি বাসস্থান। তাঁর পুর্বপুরুষদের সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছেন– শেখ বোরহানুদ্দিন নামের এক ধার্মিক পুরুষ এই বংশের গোড়াপত্তন করেন। শেখ বোরহানুদ্দিন কোথা থেকে এসে মধুমতী নদীর তীরে বসতি গড়েছিল, কেউ জানেন না। পুরোনো বাড়িঘরগুলোর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এখনও। অল্প কিছু সংস্কারও হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছেন,  ‘আমাদের এই বাড়িগুলো প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো।’ 

সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স শুধু নয়, এর আশপাশের এলাকায় আরও অনেক কিছুই দেখার রয়েছে। ছেলেবেলার খেলার মাঠ, বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বালিশা আমগাছ, শেখবাড়ি জামে মসজিদ (স্থাপিত হয়েছে ১৮৫৪ সালে) ইত্যাদি। আছে হিজলতলা ঘাট, যেখানে বঙ্গবন্ধু ছোটবেলায় গোসল করতেন। দেখা মিলবে শেখ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী একটি বড় ও একটি ছোট আকারের পুকুরের।

পুরো টুঙ্গিপাড়া ঘুরলে আপনার মনে হবে এ যেন এক ছোট্ট বাংলাদেশ। রাস্তার দুপাশের বাড়ি, দোকানঘর, খাবার দোকান সব লাল-সবুজ রঙে রাঙানো। রিকশা-ভ্যান খুবই একটি উপযোগী বাহন পুরো চত্বরটি ঘুরে দেখার জন্য। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল চরিত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সমাধি কমপ্লেক্সের পর্যটনকেন্দ্রটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। যে কোনো ছুটিতে আমরা অনায়াসে ঘুরে আসতে পারি বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান থেকে। 

রোজ গার্ডেন

ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন 

বাড়ির নাম রোজ গার্ডেন! কিন্তু সেখানে প্রথম প্রবেশ করে একটিও গোলাপের দেখা মেলেনি। সাদা রঙের এই অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে বিংশ শতাব্দীর নিউ ক্লাসিক্যাল স্থাপত্য স্টাইলে। ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণ ঘটেছে। বাংলা পিডিয়ার তথ্যমতে, এই বাড়ির নির্মাণকাল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। এ বাড়ির সামনে নানা ভাস্কর্য রয়েছে। জানা যায়, বাড়িটি যখন তৈরি করা হয়েছিল, তখন সেখানে নানা প্রজাতির বিরল গোলাপগাছ ছিল। আর সে কারণেই এর নামকরণ করা হয় রোজ গার্ডেন। কালের পরিক্রমায় হৃষিকেশ দাসের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে ১৯৩৭ সাল থেকে সেখানে বসবাস শুরু করেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী খান বাহাদুর কাজী আবদুর রশীদ। এরপর ভবনটি রশীদ মঞ্জিল নামে পরিচিত ছিল। 

এই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে এর রাজনৈতিক পটভূমি। ১৯৪৯ সালে এ বাড়িতেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল, যেটি নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমানের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর কারাকক্ষ 

কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় অনেক ভাবাবেগ কাজ করছিল। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে অল্প কিছুদূর হেঁটে গেলেই কারা জাদুঘরের গেট দেখা যাবে। তারপর বেশ পরিচ্ছন্ন একটি পরিবেশ। সামনেই একতলা একটি স্থাপনা, এটিই সেই বিখ্যাত কারাকক্ষ। ধীর পায়ে লোহার গেটটি সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারা স্মৃতি জাদুঘর

‘কারাগারের রোজনামচা’ বইতে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের নানা স্মৃতি। তাঁকে মাঝেমধ্যে ঈদও একা করতে হতো। কারণ কোনো রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হতো না। কারাগারের রোজনামচা বইতে তিনি উল্লেখ করেছেন, একাকি আর ঈদ করা যায়। কারাগারের এই কক্ষে বহু সময় একা পার করেছেন বঙ্গবন্ধু। এই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু আরও উল্লেখ করেছেন, ‘রাজবন্দি হিসেবে আমাকে কারাভোগ করতে হয়েছে, হাজতি হিসেবে কারাভোগ করেছি, সশ্রম কারাদণ্ডও পেয়েছি। তাই প্রত্যেকটি কয়েদির কারাজীবন আমি নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করতে পারি।’

কারাকক্ষটিতে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস সাজিয়ে রাখা হয়েছে- গ্লাস, প্লেট, পাতিল, ইজি চেয়ার, টেবিল, চায়ের কেতলিসহ আরও বিভিন্ন তৈজসপত্র রয়েছে। এই কক্ষের বাইরে একটি কামিনী গাছ রয়েছে, যেটি বঙ্গবন্ধু স্বহস্তে রোপণ করেছিলেন। এ রকম সারা দেশ জুড়ে বঙ্গবন্ধুর আরও রোপণ করা উদ্ভিদ রয়েছে। 

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর

এই বাড়িতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে বসবাস করেছেন প্রায় ১৪ বছর। এখানে তিনি বসবাস শুরু করেন ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর থেকে। এই বাড়িটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সাক্ষী। বাড়িটি একটি প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে, যে প্রতীক সাহস, দৃঢ়তা আর বিদ্রোহের। ১৯৬২ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১ সালের প্রথম দিকের অসহযোগ আন্দোলনসহ বহু চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষ্য এই বাড়ি। এই বাড়িতে বসেই তিনি এসব আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। 

৩২ নম্বরের এই বাড়িতেই ঘটেছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে বাড়িটি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন, ট্রাস্ট এই বাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে, নাম দেওয়া হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। এই বাড়িটির নম্বর আসলে ১০, আগে সড়ক নম্বর ছিল ৩২, এখন নতুন সড়ক নম্বর হয়েছে ১১। তবুও এই বাড়িটি সবার কাছে ৩২ নম্বর বাড়ি বলেই পরিচিত। 

দোখোলা রেস্ট হাউস 

আগেই বলেছি, রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু চষে বেড়িয়েছেন পুরো বাংলাদেশ। প্রতিটি জেলা সফরের নানা স্মৃতি আজও অমলিন। সেই রকমই একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর। বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর মতোই এখানে ঘুরে আসতে পারেন দেশি-বিদেশি পর্যটক।

দোখোলা রেস্ট হাউস

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই রেস্ট হাউসটিতে ছিলেন ১৯৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বনবিভাগের এই রেস্ট হাউসটি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার দোখোলা নামক স্থানে অবস্থিত। এখানে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু বনবিভাগের বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। যতদূর জানা যায়, এখানে বসেই তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া তৈরি করেন। এই কমপ্লেক্সে তিনি একটি রক্তচন্দন ও আমগাছের চারা রোপণ করেন। এই গাছ দুটি এখনও রয়েছে এই কমপ্লেক্সে। বঙ্গবন্ধুর এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গমাতা। টাঙ্গাইল বনবিভাগ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে অমলিন করে রাখার জন্য এখানে একটি স্মৃতিফলক তৈরি করেছে। দোখোলা রেস্ট হাউসের কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত চেয়ার ও টেবিল এখনও রয়েছে। 

কল্পনা বোর্ডিং ও হোটেল 

পুরোনো ঢাকার বিউটি বোর্ডিং, একটি পরিচিত নাম আমাদের কাছে। কিন্তু কল্পনা বোর্ডিংয়ের নাম কি জানি আমরা। কেউ কেউ নিশ্চয়ই জানি। শাঁখারী বাজারের কল্পনা বোর্ডিংয়েরও রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস, তা কেবল খাবার আর আবাসিক হোটেলের জন্য নয়। কল্পনা বোর্ডিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি। অবাক লাগছে তাই না?

আমিও ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। তাহলে জেনে নিই কী রকম সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে প্রায়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখানে আসতেন। এই বোর্ডিং ছিল বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখানেই গোপন বৈঠক, আড্ডা চলত তাঁর– কথাগুলো বলছিলেন বিদ্যুৎ কুমার নাগ। এই হোটেলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন উত্তরাধিকারী। ১৯৬৫ সালে তিন ভাই— নন্দলাল নাগ, সিতানাথ নাগ আর বৃন্দাবন নাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যার নাম ‘কল্পনা বোর্ডিং ও হোটেল’। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই বৃন্দাবন নাগই ছিলেন মূলত এই হোটেলের দেখভালের দায়িত্বে। তাই উত্তরাধিকার সূত্রে বৃন্দাবন নাগের মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় তার ছেলেদের ওপরই। বৃন্দাবনের মৃত্যুর পর বড় ছেলে দীপক কুমার নাগ দীর্ঘদিন এই দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মেজো ভাই বিদ্যুৎ কুমার নাগ বর্তমানে হোটেলটির দেখাশোনা করছেন।

করোনার আগ পর্যন্ত কল্পনা বোর্ডিংয়ে থাকা-খাওয়া দুই ব্যবস্থাই চালু ছিল। চিতল মাছের কোফতা খেতেই নাকি কল্পনা বোর্ডিং ও হোটেলে আগে প্রচুর লোক আসত। এ ছাড়াও এই রেস্তোরাঁয় রান্না হতো কৈ, রুই, কাতলা, বোয়াল মাছের তরকারি, নানা রকম ভর্তা-ভাজি আর নানা রকম সবজির সালুন। করোনা আসার পর হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন তার বদলে একটি কমিউনিটি সেন্টার খোলা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে খুব সখ্য ছিল বোর্ডিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বৃন্দাবন নাগের। স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বোর্ডিংটি পুড়িয়ে দেয়। এরপর ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি পুনরায় চালু হয়। বিদ্যুৎ নাগ আরও বলেন, কল্পনা বোর্ডিংয়ের দোতলার এক ঘরে সেসময় মুজিব বাহিনী গঠিত হয়। যুদ্ধের সময় এখানে নিয়মিত বিভিন্ন সভা বসত। কল্পনা বোর্ডিং গোড়ায় ছিল কল্পনা অপেরা হাউস। পোশাকি সিনেমার কস্টিউমের ব্যবসা ছিল তখন। এরপর সেটা বদলে হয়েছে কল্পনা বোর্ডিং ও হোটেল। এখন হোটেলের জায়গা নিয়ে নিয়েছে কমিউনিটি সেন্টার।

ওপরে লিখিত স্থানগুলোকে যখন একসঙ্গে কল্পনা করছিলাম, আমার মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কালচারাল ট্রেইল পরিভ্রমণ করে আসলাম। 






শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা