মেহজাবিন মুমতাহিনা, তৌকির মোহাইমিন, মাহজুবা তাসনিম অর্না
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩ ২২:৩৩ পিএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, সপ্তম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
আমাদের বন্ধু
মেহজাবিন মুমতাহিনা
আমার দরদি ও প্রিয় বন্ধুর নাম মুজিব। তাঁর পুরো নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ডাকনাম খোকা। সে আমার মতো শিশুদের কাছে অনেক প্রিয় একজন মানুষ। সবাইকে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসত। মানুষের কষ্ট তাকে ছুঁয়ে যেত। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সে রাজনীতিতে এসেছিল। গরিব-দুখীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই স্কুলজীবন থেকে সে রাজনীতিতে এসেছিল। সকলের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছে। এজন্য সে অনেকবার জেল খেটেছে। আমার বন্ধু কখনও মাথা নিচু করে কারাগার থেকে বের হয়নি। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামের পর সংগ্রাম করেছে। ৯ মাসের যুদ্ধে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলার মানুষ ভালোমতো চলছিল। কিন্তু তারপর বিশ্বাসঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে আমার বন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে।
বন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা খারাপ মানুষ। বাংলার বন্ধু, কোটি কোটি শিশুদের প্রিয় মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। এরপরও আমার বন্ধু এখনও বেঁচে আছে প্রতিটি ঘরের শিশুর মুখে, ইতিহাসের পাতায়। বন্ধু, চিন্তা কোরো না, দেশকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের। আমরা থাকতে কাউকে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে নিতে দেব না। বাংলাদেশ আজীবন মাথা উঁচু করে থাকবে। সারা জীবন স্মরণ করব তোমার নাম।
প্রিয় মুজিব, তোমাকে জানার পর থেকে বন্ধু ভেবে নিয়েছি। তোমার জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি। তুমি আমার মতোই শিশুদের নিয়ে খেলা করতে, গান করতে। দুস্থ শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলে। তুমি পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর, তোমার রক্তাক্ত শরীরের ছবি দেখে মন খারাপ হয়, কান্না পায়। তোমাকে যারা আামাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে, তারা বিশ্বাসঘাতক। ওদের নাম শুনলে, দেখলে আমার খুব রাগ হয়।
পঞ্চম শ্রেণি, হাজী শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় , সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
রহস্য
তৌকির মোহাইমিন
তখন ১৯৭৫ সাল। আকাশের বয়স ২১ বছর। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে তখন সে ঢাকায় থাকত। বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে যেত। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ তার খুব ভালো লাগে, বঙ্গবন্ধুকে আকাশ খুব ভালোবাসে। মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। হঠাৎ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে শুনতে পেলÑ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। আকাশ খুব কষ্ট পায়, সে দৌড়ে চলে যায় বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহের কাছে। গিয়ে দেখে কেউ তাকে কাছে যেতে দিচ্ছে না। আকাশ গোপনে কিছু ফিঙ্গার প্রিন্ট, পায়ের ছাপ সংগ্রহ করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার রহস্য বের করার জন্য আকাশ তার পাইলট বাবার সাহায্য নেয়। বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ, সেনাবাহিনীতে যারা ছিল, তাদের নিয়ে একটি দল গঠন করে। তারপর বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। সেই তথ্যের সঙ্গে আকাশের সংগ্রহ করা আলামত নিয়ে সে বঙ্গবন্ধুর হত্যার রহস্য উন্মোচন করে ফেলে। কিন্তু এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তা জানতে পারে। জানতে পেরে তারা তাদের বন্দি করার আদেশ দেয়।
আকাশের বাবা ছিল পাইলট। আগাম খবর জানতে পারলেন। তাই ওর বাবা দ্রুত তাদের পরিবার নিয়ে বরিশাল চলে যান। বরিশাল বেতার কেন্দ্রে গিয়ে জানায় এবং খুনিদের তথ্য ঘোষণা করে। তারপর পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার করে। তারপর আকাশ ও তার বন্ধুদের পুরস্কার দেয়। বিদেশে শিক্ষার জন্য তাকে একটা স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
তৃতীয় শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল
প্রিয় বঙ্গবন্ধু
মাহজুবা তাসনিম অর্না
তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে? এটাই কি আপনার শেষ প্রশ্ন ছিল? নাকি আরও অনেক কথা বলতে চেয়েছিলেন। চার বছর আগেই তো দেশটা স্বাধীন করে দিলেন। দেশের মানুষকে কত ভালোবাসতেন। এরপরও কেন এমনটা ঘটল! আমাদেরও জানতে ইচ্ছে করে।
সেদিনকার ভোরবেলার দৃশ্য। আপনি ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার সামনে যখন একদল বিশ্বাসঘাতক এলো, ওদের বুকটা কি একবারও কাঁপল না! আপনার মনের মধ্যে কি তখন ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, নাকি আপনি শান্ত ধীর-স্থির ছিলেন! আপনি তো সারা জীবন দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন। তারপর কতবার কারাগারে গেছেন। তারপরও থেমে থাকেননি। লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। দেশের মানুষকে ভালোবাসাই ছিল আপনার সবচেয়ে বড় গুণ। অথচ আপনার সঙ্গে ওরাই নিষ্ঠুর ব্যবহার করল। এ রকম আরও কত কথা যে মনে হয় আমার।
যখন আপনার ধানমন্ডির বাড়িতে যাই, ওই বাড়ির ইট-কাঠ সমস্ত কিছু দেখে বুকটা হু হু করে কেঁপে ওঠে। কবুতর দেখলে আপনার আদরের ছোট ছেলে রাসেলের কথা মনে পড়ে।
টিভিতে আপনার পুরোনো ভিডিও দেখি। বুকে সাহস পাই। বিশেষ করে, আপনার সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, লুঙ্গি-চশমা আমার ভালো লাগে। আপনার পোশাক বলে দেয় আপনি সব সময় বাঙালি ছিলেন। আপনার মাত্র ৫৫ বছরের জীবন। কিন্তু তার মধ্যেই কী বিরাট কাজ করে গেছেন। যদি ওই কালো দিনটা আমাদের জাতীয় জীবনে না আসত, তাহলে বাংলাদেশটা আরও রঙিন হতো। অনেক সুন্দর হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপনি আমাদের মাঝে আসতেন। আপনাকে কাছে পেয়ে আমরা খুশি হতাম।
ষষ্ঠ শ্রেণি, গ্রীন আর্ট স্কুল, ঢাকা