জাওয়াতা আফনান চৌধুরী জাওয়াদ
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৭ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০৪ পিএম
সেদিন সোমবার। স্কুলের সামনে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। ওমর বলল, ‘অনেকদিন বেড়াতে যাওয়া হয় না। চল একদিন ঘুরে আসি।’ ওমরের কথায় লাফিয়ে উঠে আমি বললাম, ‘আমরা ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নদীর সঙ্গে আমাদের পরিচিতি কম। চল, প্রাকৃতিক পরিবেশ আছে এমন জায়গা থেকে ঘুরে আসি।’ আমার কথায় সবাই রাজি হলো। ওমর বলল, ‘ঢাকার আশপাশে কোনো নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ঘুরে আসি।’ আমি বললাম, ‘ঢাকার আশপাশে বুড়িগঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো নদী নেই।’ পারভেজ বলল, ‘দূষণের কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব একটা ভালো নেই।’
ওমর বলল, ‘তাহলে চল, ঢাকার পাশেই নারায়ণগঞ্জ জেলার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ঘুরে আসি।’ ওমরের কথায় সবাই সম্মতি প্রকাশ করল। সবাই মিলে ঠিক করলাম আগামীকালই আমরা স্কুল ছুটির পর সেখানে চলে যাব।
আমাদের স্কুল থেকে গুলিস্তান খুব একটা দূরে নয়। পরদিন মঙ্গলবার স্কুল ছুটির পর আমরা হাঁটতে হাঁটতে গুলিস্তান গেলাম। টিকিট কাটা হলো। আমরা বাসের দুতলায় এসে বসলাম। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বাসটি চলতে শুরু করল। আমার এক বন্ধু সঙ্গে করে গিটার নিয়ে এসেছিল। ও গিটার বাজাচ্ছিল আর আমরা গান গাচ্ছিলাম। এভাবে হাইওয়েতে পৌঁছে গেলাম। জানালাটা দিয়ে এত মধুর বাতাস আসছিল যে, আমি বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিলাম। বাসটি চলছিল তার আপন গতিতে। নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের পাশে নামলাম। সেখান থেকে আমরা হাঁটতে হাঁটতে গেলাম একটি নদীর ঘাটের সামনে। বোর্ডের মধ্যে দেখলাম ঘাটের কোনো নামই লেখা নেই। সেখানে অনেক মাঝি
তাদের নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিল। ঘাটে প্রবেশ করার টিকিট ছিল ২ টাকা করে। সবাই ঘাটে প্রবেশ করে নৌকায় উঠলাম। নৌকায় উঠে একটু ভয় ভয় করছিল। কারণ আমি সাঁতার জানি না। কিন্তু বন্ধুরা বলল ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা সবাই আছি। খেয়াল করে দেখলাম নদী পারাপারের মানুষ ছাড়াও অনেকেই আমাদের মতো নৌভ্রমণের জন্য এসেছেন।
শীতলক্ষ্যার টলমল পানিতে ভেসে বেড়াতে লাগলাম। নৌকা এগিয়ে যাচ্ছিল। আমরাও ঢেউয়ের তালে তালে এগিয়ে চলছিলাম। ওমর জিজ্ঞেস করল, ‘খালি নৌকায় ভ্রমণ করলে হবে নাকি?’ পারভেজ বলল, ‘তাহলে নদীর পানিতে নামবি?’
বললাম, ‘চল নামি।’
তখন একটি ছোট পাড়ে নৌকা থামাতে বললাম। মাঝি কাকু আমাদের কথামতো সেখানে নৌকা থামালেন। নদীর পারের একটি গাছের নিচে সব জিনিসপত্র রাখলাম। সেখানে আমার ক্যামেরাটিও রেখে দিলাম।
এবার পানিতে গোসল করতে নামলাম। কিছুক্ষণ পর এক দাদুকে আসতে দেখলাম। তিনি এসে এখানে বেশিক্ষণ গোসল করতে মানা করলেন। বললেন, ‘এটি একটি ভৌতিক জায়গা।’ আমরা এ কথা শুনে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। এ কারণে তাড়াতাড়ি গোসল শেষ করে, জামা-কাপড় বদল করে, নৌকায় উঠে পড়লাম।
নৌকায় উঠার পর ওমর বলল, ‘খামোখা ভয় পেলাম। এখন ভয়টা কেটে গেছে।’
পারভেজ বলল, ‘ঠিক বলেছিস। মজা করতে এসেছি, মজাই করি।’
সঙ্গে সঙ্গে আমাদের গিটারওয়ালা বন্ধুটি গিটার বাজাতে শুরু করল। আমরাও গান গাইতে শুরু করে দিলাম। আমিও আমার ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
এসব করতে করতে আমরা বড় ঘাটে এসে পৌঁছলাম। সেখান থেকে বের হতে দুই টাকা লাগে। মাঝিকে মাঝির ভাড়া বুঝিয়ে দিয়ে আমরা ঘাট থেকে বের হয়ে পড়লাম। তারপর একটি হোটেলে এসে খাওয়াদাওয়া সেরে নিলাম।
আমরা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিসি কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য এসে বসলাম। শীতলক্ষ্যায় নৌকায় ভ্রমণের সময় খেয়াল করতে হবে লঞ্চ বা অন্য নৌযান কোথায় কোথায় চলাচল করছে। সেসব জায়গা এড়িয়ে চলাচল করা ভালো। সবশেষে বলি, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই নৌকায় ভ্রমণ করা উচিত।
অষ্টম শ্রেণি, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা