কী-কেন-কিভাবে
টিএইচ মাহির
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:১৮ পিএম
আজ ৫ আগস্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রাফিক লাইট ডে’
ব্যস্ত সড়কে গাড়ি ও মানুষের যাতায়াত সুশৃঙ্খল রাখতে ট্রাফিক সিগন্যালের উদ্ভব। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে ইঞ্জিনচালিত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ট্রাফিক বাতির ধারণা দেন ব্রিটিশ রেলওয়ে প্রকৌশলী জেপি নাইট। ১৮৬৮ সালের ৯ ডিসেম্বর ব্রিটিশ সংসদ ভবনের সামনে চালু হয়েছিল তাঁর আবিষ্কৃত ট্রাফিক বাতি। ঘোড়ার গাড়ি ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য চালু হয়েছিল এটি। গ্যাসচালিত বলে এটি ছিল বিপজ্জনক। ধাতব হাত নাড়িয়ে জ্বালানো এবং নেভানো বাতিটি ১৮৬৯ সালে বিস্ফোরিত হলে ওখানেই থামে তার যাত্রা।
প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক লাইট চালু হয় উনিশ শতকের গোড়ার দিকে। শিল্পায়নের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাফিক বাতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটির পুলিশ কর্মকর্তা লেস্টার ওয়্যার বৈদ্যুতিক ট্রাফিক লাইটের ধারণা দেন। তার ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে ১৯১৪ সালের ৫ আগস্ট ক্লিভল্যান্ড ওহিওতে চালু হয় প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক বাতি। সে উপলক্ষে আজকের দিনটিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রাফিক লাইট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিগন্যালে শুধু লাল ও সবুজ বাতি ছিল। হলুদ আলোর পরিবর্তে একটি শব্দ হতো, যা নির্দেশক হিসেবে কাজ করত। বর্তমান ট্রাফিক বাতিগুলো লেস্টার ওয়্যারের মূল সিস্টেমের মতো একই নীতিতে কাজ করে।
১৯২০ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটে উইলিয়াম পোটস নামে এক পুলিশ সদস্য প্রথম চারমুখী এবং তিন রঙের ট্রাফিক লাইট আবিষ্কার করেন। লাল, সবুজ ছাড়াও এতে হলুদ রঙ যুক্ত করা হয়। কোথাও ঘণ্টাও যুক্ত হয়েছিল। থার্ড ওয়ার্নিং লাইটের পেটেন্ট আমেরিকান উদ্ভাবক ব্যবসায়ী গ্যারেট অগাস্টাস মরগান সিনিয়র দ্বারা নিবন্ধিত হয় ১৯২৩ সালে। তিনি ইংরেজি ‘টি’ অক্ষরের মতো দেখতে একটি থামের ওপর দুই দিকে হাত মেলা লাল-হলুদ-সবুজ ট্রাফিক বাতির নকশা করেন। তার ট্রাফিক বাতির স্বত্ব কিনে নেয় জেনারেল ইলেকট্রিক করপোরেশন কোম্পানি। আধুনিক ট্রাফিক লাইটে এখন এ তিন বাতির ধারণাটি প্রচলিত আছে। আগে সুইচ ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যরা এটি চালাতেন। তারপর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল এলো, যা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তাদের আলো পরিবর্তন করে।
চার্লস অ্যাডলার জুনিয়র নামের এক উদ্ভাবক একটি সংকেত উদ্ভাবনের ধারণা দিয়েছলেন; যা যানবাহনের হর্ন শনাক্ত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী সংকেত পরিবর্তন করতে পারে। ১৯৯৮ সালে লন্ডনের একটি গোলচত্বরে ‘ট্রাফিক লাইট ট্রি’ নির্মাণ করেন ফরাসি ভাস্কর পিয়েরে ভাইভান্ত। বর্তমানে বিলিংসগেট মার্কেটের সামনে থাকা ৮ মিটার ওই গাছে ৭৫ সেট লাল-হলুদ-সবুজ বাতি আছে। ষাটের দশকে কম্পিউটার আবিষ্কারের পাশাপাশি ট্রাফিক লাইট কম্পিউটারাইজড হতে শুরু করে। নব্বইয়ের দশকে ট্রাফিক লাইটে কাউন্টডাউন টাইমার চালু করা হয়েছিল। কাউন্টডাউন টাইমার পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার পর্যাপ্ত সময় আছে কি না তা জানায়। অন্যদিকে ১৯৫২ সালে নিউইয়র্কে প্রথম পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য ‘ওয়াক/ডোন্ট ওয়াক’ সিগন্যাল যুক্ত করা হয় লাল, সবুজ বাতির মধ্যে।
ট্রাফিক সিগন্যালে লাল মানে থামা। হলুদ বাতি জ্বললে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে হবে। মানে কিছুক্ষণ পর যাত্রা হবে। আর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলেই গাড়ি যেতে পারবে। সিগন্যালগুলোর রঙের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। থামার ক্ষেত্রে লাল আলো ব্যবহার করার কারণ হলো, লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি। ফলে আমরা অনেক দূর থেকেই সহজে লাল রঙ দেখতে পাই। রেলপথেও লাল আলো ব্যবহার হয়। আবার লাল আলো মানেই আমাদের কাছে বিপদের চিহ্ন। অন্যদিকে হলুদ রঙও লাল আলোর কাছাকাছি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের। হলুদ বেশ দৃশ্যমান বলে স্কুলবাসেও হলুদ ব্যবহার করা হয়। আগে সবুজের বদলে সাদা ব্যবহার করা হতো। কিন্তু রেলচালকরা রাতের সাদা নক্ষত্রকে যাওয়ার সংকেত মনে করে ভুল করায় সাদার বদলে সবুজ ব্যবহার করা হয়।