সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
নগরীর আবহাওয়া, জ্যাম আর কর্মব্যস্ততায় সেই যে বই নিয়ে আলসেমির দুপুর বা পড়ন্ত বিকালের গল্পটা- সেটা হয়তো ভুলতেই বসেছেন নগরের বাসিন্দারা। এই তালিকায় শুধু বাকিরাই নয়, আছি আমি-আপনিও। যান্ত্রিকতার দেয়ালে চোখ রাখতে রাখতে বইয়ের পাতার কালো অক্ষরগুলো হারিয়ে ফেলার গল্পটা নতুন নয়। তবে এই গল্প বদলে দিতেই নগরীতে গড়ে উঠেছে কয়েকটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। যেখানে গিয়ে বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে ক্লান্তিটুকু দূর করা যায়।
দ্য রিডিং ক্যাফে
২০১৪ সাল থেকে পথচলা শুরু হয় দ্য রিডিং ক্যাফের। রাজধানীর বনানীর ই-ব্লকের সুপারমার্কেট মসজিদের পাশে অবস্থিত এই ক্যাফের আরও দুটি শাখা রয়েছে। অন্য দুটির অবস্থান গুলশান-১-এর ইউনিমার্ট এবং ধানমন্ডি সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। দেশি-বিদেশিÑ নানা রকম বই আর ম্যাগাজিন দিয়ে ভর্তি দ্য রিডিং ক্যাফেতে রাখা আছে একটা ছোট্ট ক্যাফে আর বাচ্চাদের খেলার জায়গা। বইয়ের তাক আর ভেতরের ডেকোরেশন, পুরোটাই মন ভালো করে দেওয়ার মতো। সঙ্গে আছে হাত-পা ছড়িয়ে আরাম করে বসার মতো প্রশস্ততা। কিন্তু এই ‘দ্য রিডিং ক্যাফে’ই কি ঢাকার একমাত্র চা-কফি খেতে খেতে বইয়ে চোখ বুলিয়ে নেওয়ার জায়গা? একদম নয়! চলুন ঘুরে আসা যাক, আজ ঢাকা শহরজুড়ে থাকা এমনই কিছু দারুণ বুক ক্যাফের কথা, যেখানে গেলে কফির কাপে চুমুকের পাশাপাশি দিতে পারবেন বইয়ের মাঝে ডুবও!
পাঠক সমাবেশ
শাহবাগে অবস্থিত পাঠক সমাবেশ আজিজ সুপারমার্কেটের ঠিক উল্টো পাশেই অবস্থিত। ১৯৮৭ সালে আজিজ সুপারমার্কেটেই ছোট্ট দোকান হয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল পাঠক সমাবেশের। জাতীয় জাদুঘরের ঠিক পাশেই থাকা এই বুক ক্যাফেতে বসে বই পড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে।
পিবিএস
কফির আয়োজন না থাকায় ঠিক ক্যাফে বলা যায় না, তবে শান্তিনগরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সড়কে অবস্থিত দারুণ এক জায়গা পিবিএস। এখানে বই পড়ার পাশাপাশি আছে শিশুদের খেলার জায়গাও। শিশুরা চাইলে আলাদাভাবে বইও পড়তে পারে। দোতলা দালানের একটা পাশে বাচ্চাদের ছবি আঁকার ব্যবস্থা। ক্ল্যাসিক থেকে শুরু করে দেশি বা বিদেশিÑ সব রকমের বইয়ের আয়োজন রয়েছে এখানে!
বেঙ্গল বই
লালমাটিয়ার বেঙ্গল বইয়ের কথা এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না একদমই। শুধু কফি নয়, খাবারের ব্যবস্থাও আছে বেঙ্গল বই-এ। সঙ্গে অসাধারণ সব বসার জায়গা তো আছেই। মুক্ত, খোলা পরিবেশে খাবার-দাবারের পাশাপাশি গোগ্রাসে গিলতে চান দারুণ সব বইও। তাহলে আপনি কিন্তু একবার হলেও বেঙ্গল বই-এ ঢুঁ মেরে যেতেই পারেন।
বাতিঘর
বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কথা নতুন করে বলার কিছু নাই। এই ভবনেই পড়ুয়াদের জন্য গড়ে উঠেছে অসম্ভব জনপ্রিয় একটি বুক ক্যাফে। যার নাম বাতিঘর। ইন্টেরিয়র আর চমৎকার সব বুক কালেকশনের জন্য খ্যাতি আছে বাতিঘরের। অবশ্য বাতিঘরের শুরুটা হয়েছিল চট্টগ্রামে। এক কাপ চা হাতে নিয়ে বইয়ের দুনিয়ায় হারিয়ে যেতে চাইলে বাতিঘরের কিন্তু তুলনাই হয় না!
বুকল্যান্ড
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেতে পাওয়া যাবে বই পড়ার চমৎকার এক জায়গা। শুধু বই নয় এখানে বিভিন্ন অ্যান্টিক জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো লাইব্রেরি এবং সংগ্রহশালাটি। যেখানে বসে বই পড়া যাবে। দেশের প্রাচীন মুদ্রাসহ পৃথিবীর প্রায় দেশের মুদ্রার নোট রয়েছে এখানে। যমুনা ফিউচার পার্কের পকেট গেটের আগেই হ্যাভেলি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় এর অবস্থান।