কৃত্তিকা চক্রবর্তী
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১২:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১২:৩৮ পিএম
ঠিক ৩টা ৩০ মিনিটে ছুটির ঘণ্টা বেজে গেল। আজ বৃহস্পতিবার তাই হাফ স্কুল। আঁখি মন খারাপ করে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে এলো। আজ স্কুলে নতুন একজন স্যার এসেছেন। এসে সবার পরিচয় শুনলেন তিনি। সবার বাবা-মায়ের পরিচয়ও শুনলেন। কিন্তু আঁখি তার বাবার কথা বলতে পারল না। যখন তার বাবা মারা গেছেন তখন আঁখির দুই মাস বয়স। বাবার কোনো স্মৃতি আঁখির মনে নেই।
বাসায় ফিরতে ফিরতে আঁখি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল। আকাশে ঘন মেঘ। বৃষ্টি নামতে চলেছে। আঁখি দ্রুতবেগে বাড়িতে ফিরে এলো। বৃষ্টির দিনে সবাই ছাতা নিয়ে আসে, সে তার ছেঁড়া ছাতাটা আনতে সংকোচ বোধ করে। যার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়, তার ভালো ছাতা কেনার ইচ্ছা বিলাসিতা।
পরদিন খুব বৃষ্টি শুরু হলো। যত ঝড়বাদল আসুক, স্কুলে তার যাওয়া চাই। তাই বৃষ্টির মধ্যেও ছেঁড়া ছাতাটা নিয়েই রওনা হলো। স্কুলে পৌঁছে তার ছাতাটা তাড়াতাড়ি ব্যাগে লুকিয়ে ফেলল। এর মধ্যে দেখে কথা তার সুন্দর নীল ছাতাটা বন্ধ করতে করতে ক্লাসে প্রবেশ করছে। আঁখির শ্রেণিতে কথা ভর্তি হয়েছে। কথার বাবার বদলির কারণে গতকালই এ স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সে এসে আঁখির পাশেই বসল। সেদিন থেকেই আঁখি আর কথার বন্ধুত্ব।
আবার বর্ষা এসেছে। বেড়েছে কথা-আঁখির বন্ধুত্ব। এ বছর আঁখির ছাতাটা আরও বিবর্ণ হয়ে গেছে। একদিন প্রচুর বৃষ্টি শুরু হলো রাতে। সকাল পর্যন্ত চলল বৃষ্টি। কথা তার নীল ছাতাটা নিয়ে এলো স্কুলে। তার চোখে পড়ল আঁখির ছেঁড়া ছাতা লুকানোর চেষ্টা। কথা সবই বুঝতে পারল।
কিন্তু আঁখিকে কিছুই বুঝতে দিল না। তার মনে পড়ল ছোটবেলায় তার ও তার দাদুর এক কথোপকথন। একদিন কথা তার দাদুকে জিজ্ঞাসা করে, আচ্ছা দাদু, আমি টিভিতে দেখেছি একজন লোক একটি সাধুকে যা-ই দিচ্ছে, তা-ই দ্বিগুণ হচ্ছে। সত্যি কি কখনও তা হয় দাদু? দাদু হেসে বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই তবে অন্যভাবে। এসো তোমাকে একটা কথা বলি। যখন তুমি নিঃস্বার্থভাবে কারও উপকার করবে, কাউকে আনন্দ দেবে- দেখবে ঠিক দ্বিগুণ পরিমাণ আনন্দ তুমি ফিরে পাবে। একইভাবে তুমি যখনই কাউকে কষ্ট দেবে, মনে রেখো, তার দ্বিগুণ কষ্ট তুমি ফিরে পাবে। দাদুর সেই কথা কথার আজও মনে আছে। সে ঠিক করে নেয়, তার প্রিয় নীল ছাতার মতো একটা ছাতা আঁখিকে উপহার দেবে। আঁখির জন্মদিনে কথা তার জমানো টাকা দিয়ে একটি নীল ছাতা কিনে তাকে উপহার দিল। আঁখি নিতে না চাইলেও তার প্রিয় বন্ধুর দেওয়া উপহার ফেরাতে পারল না। তার চোখে পানি এসে গেল। কথা আঁখির দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর হাত ধরে দুজন হাঁটতে লাগল মাঠের দিকে।
নবম শ্রেণি, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়