× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিল্পী ও শিল্পের শ্রেণি ভাঙতে ‘অজ্ঞাতনামা’

শাফিন আহমেদ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৩ ১৩:১০ পিএম

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৪ পিএম

ছবি: কামরুল মিথুন

ছবি: কামরুল মিথুন

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। লালমাটিয়ার ডি-ব্লকের একমাত্র খেলার মাঠটি বাঁয়ে রেখে দক্ষিণ দিকে হাঁটছি। অনেকটা আনমনেই। কর্মচঞ্চল রাজধানীতে এত নিরিবিলি পথের দেখা কমই মেলে। পশ্চিমে তাকাতেই চোখে পড়ল ঝাপড়া একটা নিমগাছ। এক চিলতে উঠোনের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এ বৃক্ষই যে বাড়িটার পরিচিতি, তা নয়। এ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত কলাকেন্দ্র।

বাইরে থেকেই বোঝা গেল এখানে শিল্প প্রদর্শনী চলছে। শিরোনাম ‘অজ্ঞাতনামা-৩’। ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখি ছোট ছোট কক্ষ ভর্তি শিল্পকর্মের ছড়াছড়ি। কোনো শিল্পকর্মের ওপরই শিল্পীর নাম-পরিচয় কিছুই দেওয়া হয়নি। এমনকি ছবির কোনো শিরোনামও নেই। কর্ম দেখে চিনে নিতে হবে শিল্পীর পরিচয়। প্রদর্শন করা কর্মগুলোর বিন্যাস দেখতে দেখতে মাঝখানের ঘরটাতে দাঁড়ালাম। চারপাশের চিত্রকর্ম। দেয়ালে ওপর-নিচ দুটো আলোকচিত্র টানানো। একটা ছবি, একটু দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন আলো-আঁধারিতে দাঁড়িয়ে মা-মেয়ের প্রতিকৃতি। পেছনে তার বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বিষণ্নতায় ভরা এ কর্মটিকে কাছে গিয়ে দেখি ডাল ছাঁটা একটি গাছের চিত্র। যা ক্যামেরার ধারণ করা। এখানেই তো ফটোগ্রাফির ক্যারিশমা। কিন্তু কার তোলা এ ছবি! নামই তো নেই।

দলবেঁধে দর্শনার্থী গ্যালারিতে আসছেন। ড্রইং, তেলরঙ, জলরঙ, কোলাজ, ফটোগ্রাফি, ছাপচিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে করা কর্মগুলো দেখছেন। আবার কেউ কেউ প্রদর্শনীর দেয়ালে সাঁটানো শিল্পকর্মের সঙ্গে ফটোগ্রাফিও করছেন। কথা হলো কিউরেটর, শিল্পী ওয়াকিলুর রহমানের সঙ্গে। জানতে চাইলা প্রদর্শনীর শিল্পীদের নাম না দেওয়ার কারণ। উত্তরে এই শিল্পী জানালেন, ‘আমরা মূলত যখন কোনো শিল্পকর্ম দেখি, সেটা নিজের শিল্পবোধ থেকে বিচার করার আগে ছেড়ে দিই কাজটি কোন শিল্পীর করা। অর্থাৎ বিখ্যাত কোনো শিল্পীর কাজ হলে সেটার এক মূল্য, আবার কোনো নবীন শিল্পীর কাজ হলে তার এক মূল্য নির্ধারণ করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পরসিকদের সঙ্গে এই খেলা পাততে প্রদর্শনীর নাম অজ্ঞাতনামা-৩ দেওয়া হয়েছে।’

অজ্ঞাতনামা বলতে তাদের কেউ চেনে না তা নয়। দেশের প্রথিতযশা শিল্পীর কাজের সঙ্গে একেবারে নন-একাডেমিক শিল্পীর কাজও আছে। কাজ দেখেই বুঝে নিতে হবে আপনি শিল্প সংগ্রহ করবেন, না শিল্পীর নাম সংগ্রহ করবেন। সেজন্য এ অভিনব পদ্ধতিতে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন আয়োজকরা। ২০২১ সালে কলাকেন্দ্রে ‘অজ্ঞাতনামা’ শিরোনাম দিয়ে প্রথম প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় প্রদর্শনী হয় গত বছর আগস্টে; যা বেশ সাড়া ফেলেছিল শিল্প স্বজন ও সংগ্রাহকদের মাঝে। সেই উৎসাহে এবারেরটি তৃতীয় আয়োজন।

চার কক্ষবিশিষ্ট গ্যালারিতে বাংলাদেশসহ ভারতীয় প্রবীণ-নবীন শিল্পীদের শিল্পকর্ম দিয়ে সাজনো হয়েছে গ্যালারি। ১০৪ জন শিল্পীর ২০৮টি কর্ম এতে ঠাঁই পেয়েছে। বৈচিত্র্যে ভরপুর পুরো শিল্পালয়টি। যেহেতু এখানে দলবদ্ধ কাজের সমাহার তাই শিল্পকর্মগুলোর বিন্যাস দেখেও চোখ জুড়িয়ে যায়। ভিন্ন পেশাদার শিল্পীর পাশাপাশি অনেক শৌখিন শিল্পীর কাজ আছে। আছে আলোকচিত্রীদের কাজ।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া মূর্ত, বিমূর্ত, নিসর্গ ভূপ্রকৃতি, অবয়ব, ফুল-লতাপাতা, লোকজ আঙ্গিকসহ প্রভৃতি রকমের কাজ আছে যা দর্শকদের ভালো লাগবে, ভাবাবেও। কথা হলো অমিতাভ সরকার নামে এক দর্শনার্থীর সঙ্গে। আয়োজন সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘মজাটা এখানেই, শিল্পী তার কাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। অথচ দর্শনার্থী বুঝতে পারছেন না।’ তিনি একদল তরুণ-তরুণীকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওখানে আড্ডা দিচ্ছেন। তাদের কাজও হয়তো এখানে আছে। কিন্তু টের পাচ্ছি না। এটা দারুণ লাগছে।’ ৭ জুলাই শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীটি চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ শিল্পগৃহ। একবার ঘুরে আসতে পারেন লালমাটিয়ার ডি-ব্লকের ৯/৪ নম্বর বাড়ি। কর্মশিল্প সংগ্রহেরও সুযোগ রয়েছে। সংগ্রাহকরা চাইলে প্রদর্শনীর শেষে নিজের সংগ্রহ করা শিল্পকর্মটিতে শিল্পীর স্বাক্ষরও নিতে পারবেন।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা