লেখা ও আঁকা : সায়েকা আহমদ মাহি
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৩ ১২:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩ ১৩:১৯ পিএম
আমার বাবা খুব ভোরে হাঁটতে বের হন। আমি আবার ভোরে উঠতে পারি না। বাবা ভোরে মোবাইল ক্যামেরায় অনেক ছবি তুলে আনেন। এগুলো শুধু আমারই জন্য। আমি তার মোবাইলে রেকর্ড করা ভিডিওতে ভোরের নানারকম দৃশ দেখি।একদিন বাবা চারটি শালিক পাখির ভয়াবহ মারামারির ভিডিও রেকর্ড করে আনলেন। পাখিগুলো দুটি দলে বিভক্ত হয়ে মারামারি করছিল। মারামারি করতে করতে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে গেছে। তাও তাদের মারামারি থামছে না। তাদের ভাগ্য ভালো যে, সাদা বিড়ালটা ওই সময়ে আশপাশে ছিল না। তাহলে নির্ঘাত পাখিগুলো বিড়ালটার পেটে যেত। মারামারি করতে করতে হঠাৎ তারা যখন পাপাকে দেখতে পেল, সঙ্গে সঙ্গে মারামারি বন্ধ। দুটো পাখি উড়ে পালিয়ে গেল। বাকি দুটো পাখি হেঁটে হেঁটে অন্যদিকে চলে গেল। তাদের মারামারির দৃশ্য দেখে আমার খুব মজা লাগল।
আরেক দিন পাপার মোবাইলে একটি গিরগিটির ভিডিও দেখলাম। গিরগিটিটি পাপাকে দেখতে পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে চামড়ার রঙ পরিবর্তন করে ফেলল। আমার কাছে গিরগিটিটিকে তখন খুবই ভয়ংকর মনে হলো। মনে হলো, ওটা গিরগিটি নয়Ñ একটি ডায়নোসর।
সাপ কীভাবে ব্যাঙ ধরে খায়, তাও একদিন দেখলাম। অসহায় ব্যাঙটি খুব চিৎকার করছিল। তবে বাবা সাপটির দিকে একটি ঢিল নিক্ষেপ করায় ব্যাঙটি রেহাই পেল। অনেক কষ্টে অসহায় ব্যাঙটি পালিয়ে গেল। সাপটি তো ব্যাঙটিকে ছেড়ে আগেই পালিয়েছে।
স্কুল বন্ধ। একা একা বাসায় থাকতে ভালো লাগে না। চা বাগানের ভেতরে আমাদের স্কুলটি খুবই সুন্দর। তবে এখানে অন্যদের চেয়ে আমি একটু বেশি সুবিধা ভোগ করছি। অন্যরা বাসা থেকে বের হতেই পারছে না। তবে আমি সীমিত সময়ের জন্য স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পাই। কারণ আমাদের বাসাটা স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরেই। আর আমার বাবা ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
একদিন স্বপ্নে দেখলাম একটি বিশাল আকৃতির করোনা ভাইরাস আমাকে ধরার জন্য দৌড়ে আসছে। আমি পালিয়ে যেতে চেষ্টা করছি, কিন্তু পালাতে পারছি না। অবশেষে সবুজ রঙের এবং কদম ফুলের মতো গোলাকৃতি করোনা ভাইরাসটি আমার সামনে চলে এলো। আমি ভয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমাকে মেরো না। ভাইরাসটি তখন হেসে আমাকে বলল, ‘আমি তোমাকে মারব না। তবে তোমার মতো যারা বাসার বাইরে চলে আসে, আমি তাদের ধরব।’ ভাগ্য ভালো আমার ঘুমটি তখন ভেঙে গেল। এর পর থেকে আমি ভয়ে আর স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করতে কিংবা সাইকেল চালাতে যাই না।
সপ্তম শ্রেণি, বিএএফ শাহীন কলেজ, শমশেরনগর, মৌলভীবাজার