বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
ফারহানা ইয়াসমিন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে ফল উৎসবের ছবি: লেখক
বরাবরই জ্যৈষ্ঠ মাস আসে বিভিন্ন জাতের সুঘ্রাণ ও সুস্বাদু ফলের সমারোহ নিয়ে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ ইঙ্গিত দেয় গাছের থোকায় থোকায় কাঁচাপাকা ফলের উপস্থিতি। এজন্যই জ্যৈষ্ঠকে ফলের মাস বলা হয়। এ মাসে হরেকরকম ফল দিয়ে জামাইষষ্ঠী করা হয়। কিন্তু কখনও কি শুনেছেন বন্ধুষষ্ঠীর কথা?
হ্যাঁ, এবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসংলগ্ন লন্ডন ব্রিজের ওপর একঝাঁক শিক্ষার্থী আয়োজন করেছেন বন্ধুষষ্ঠীর। অর্থাৎ তারা একত্র হয়ে কয়েক প্রকার ফল নিয়ে পালন করেছেন ফলোৎসব। তারা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ইসরাত জাহান সিমা, অর্পিতা দাস, ফাহিম সিকদার, তাহমিনা রশিদ শতাব্দী ও তানভিনা রুবাইয়া রহমান এবং ভূতত্ত্ব ও খণিবিদ্যা বিভাগের হাসিবুল ইসলাম শান্ত, পদার্থবিজ্ঞানের সাগর নুর এবং আইন বিভাগের মালিহা মেহনাজ। এরা সবাই ক্যাম্পাসের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
তাদের এ উৎসবে ছয় প্রকার ফল ছিল। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, সফেদা ও ডেউয়া। আয়োজনটা অনেকটা ছোটবেলার বনভোজনের মতো। ছোটবেলায় আমরা যেমন কেউ ডাল, কেউ চাল, কেউ তেল এরকম উপকরণ দিয়ে বনভোজন করতাম; সেরকম এরাও ফলোৎসবে কেউ লবণ, কেউ সরিষার তেল, কেউ পানির বোতল, কেউ বা ফল পরিবেশনের পাত্র এনেছিলেন।
তারা সবাই পরিবার ছেড়ে অন্য একটি শহরে এসেছেন। তাদের এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ফলের মাসে যেন নিজের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসে ফল খাওয়ার স্বাদ এবং আনন্দ পান। যদিও পরীক্ষা, ক্লাস এগুলোর চাপে জ্যৈষ্ঠ মাসে এ আয়োজন করতে পারেননি। তবে ঠিকই আষাঢ়ের শুরু এ উৎসব পালন করেন। মূলত গত বছর তাদের এ উৎসব পালন শুরু। সে বছর তাদের এক বন্ধু বাড়ি থেকে কাঁঠাল এনেছিলেন সবার জন্য। ঠিক তখনই হুট করে তারা সিদ্ধান্ত নেন সঙ্গে আরও কয়েক প্রকার ফল কিনে ফলোৎসব পালন করবেন। এভাবেই তাদের ফলোৎসবের আয়োজন শুরু হয়।
আশ্চর্যের বিষয়, এবারের এ আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে মাটির পাত্র, আলপনাযুক্ত রঙিন কুলা, রঙিন কাগজ ও সবুজ প্রকৃতি। সব মিলিয়ে আয়োজন ছিল নজরকাড়া। এরকম আয়োজনই কেবল পারে চারপাশের কলহ ভুলে মানুষে মানুষে মেলবন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়তে।