ঘরে ফেরার গল্প
মোস্তাফিজ জুয়েল
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১১:১৪ এএম
দুই দিন পরই ঈদ, চারদিকে আনন্দ। রাস্তায় গরু-মানুষে একাকার। ছাগলও যে নাই, তা নয়। আমিও ছাগলের মতো টিকিট না কেটেই বাড়ির পথে বেরিয়েছি। টিকিট কাটব কীভাবে! ছুটি কবে পাব, সেটাই জানতাম না।
আমি ছাগল নাকি গাধা! মাসজুড়ে পণ্যের অর্ডার কেটে ডেলিভারি দিতে যে খাটুনি তা গাধাও সইবে না। কিন্তু মাসশেষে সামান্য বেতনে ছাগলের মতো খুশিতে নৃত্য করি।
বাড়ি ফেরার আনন্দে সব কষ্ট সইতে পারব। ছেলেমেয়েদের নতুন জামা আর বউয়ের টুকিটাকি জিনিসেই যে আনন্দ, সেটা ভেবেই ব্যাগটাও হালকা মনে হচ্ছে। এতদিন বাদে বউ-ছেলেমেয়েকে কাছে পাব, সেই টানে বাসের হেলপারদের টানাটানিও গায়ে লাগছে না। জুতসই গাড়ি খুঁজছি টার্মিনালে দাঁড়িয়ে।
আচমকা সালাম পেয়ে পরিচিত কেউ ভেবে তাকালাম। সিডর বা আইলার ভয়াবহতা সামনে থেকে দেখিনি। লোকটার চেহারা ঝড়েরও বেশি তাণ্ডব বয়ে গেছে মনে হলো! লজ্জাবনত হয়ে বলল।
- বাড়ি যাব
- বাড়ি যাবেন ভালো, আমি কী করতে পারি?
- একটু কথা শুনবেন?
কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললাম, বলুন।
- খুব বিপদে পড়েছি। করোনার পর থেকেই কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করছে। এতদিন চাকরি টিকিয়ে রাখতে পারলেও গত মাসে হারিয়েছি। কাজও পাইনি। একজনের থেকে টাকা ধার নিয়ে ফার্মগেট থেকে গাবতলীর গাড়িতে উঠলাম। ওই গাড়িতেই পকেট মেরেছে ভাই।
লোকটা বুকের বাঁ পাশে ঝুলে থাকা কাটা পকেটটা দেখানোর চেষ্টা করছে। মনে হলো পকেট নয়, ঝুলে আছে কাটা হৃদয়।
কিছু টাকা হাতে দিয়ে বাসে উঠে বসলাম। লোকটাও পা বাড়ালো আনমনে। মুহূর্তে বিকট শব্দ। ছিটকে পড়ল লোকটা। উটকো ঝামেলা এড়াতে আমার বাসটা দ্রুত সরে পড়ল। একটাই চিন্তা ঘুরছে মাথায়, লোকটা কি বাড়ি ফিরতে পারবে?