ঘরে ফেরার গল্প
রিয়াজ মোরশেদ সায়েম
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১১:০৯ এএম
বাড়ি ফেরায় যে প্রাণোচ্ছল তাগিদ থাকে, সেটি গত ঈদুল আজহায় থাকলেও এবারের ঈদুল আজহায় তা ফ্যাকাশে রঙ ধারণ করেছে। প্রকৃতির অসম বিবর্তনের মতো আমার ফেরার নিজস্ব কোনো রঙ নেই। তবু আমার ভেতরের আকুতি আমাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। সে যাত্রায় অনন্ত খুশি এবং উদ্দীপনা কাজ করছে।
আমার বাড়ির এপাশ আর ওপাশে বিস্তৃত সাগরের চ্যানেল। এ সাগরের কোলাহল আমার বেঁচে থাকার সঞ্জীবনী শক্তি ছিল কিছুদিন আগেও। এখন ফিরতি পথে ফেলে আসা দুঃখগুলো কুড়িয়ে নিতে চেষ্টা করি। এখন বুঝতে পারি, দুঃখরা ভারী ওজনের হয়। সেসব ছেড়ে দিলে পৃথিবীর কেউ বহন করতে পারে না। দুঃখ নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখতে হয়। ঈদে ফেরার শত টুকরো অনুভূতি ওয়ালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে।
ঈদে ফেরার সময় গ্রামীণফোনের একটি চিরায়ত বিজ্ঞাপন মনকে নাড়িয়ে দিত প্রতিবছর। গ্রামে ফেরা মানে অনেক কিছুরই অপেক্ষা। অপেক্ষার পর্দা তুলে আলিঙ্গনের চাদর পরতে আমরা যেন মরিয়া। বাড়ি না পৌঁছানো পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি কোষ গ্রামের বাতাসের মিলন সন্ধিক্ষণে কাটায়। অথচ আমরা কি জানি- যাদের পরানের গহিনে হারানো বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড সাজানো থাকে, তাদের ঈদ কেমন হয়?
কার প্রতীক্ষার পোস্টার দেখতে দেখতে বাড়ির পথে পা বাড়ায় সেসব হৃদয় হারানো মানুষ? সাম্যের ঈদে হৃদয়জর্জরিত মানুষের দুঃখ ভাগ করার বীজগণিতীয় সূত্র কষতে কষতে আমিও হৃদয়পন্থি শোরগোলে হাজির হলাম। ফেরার আনন্দের চেয়ে প্রমাণিত উপপাদ্যে আমার দুঃখের ভার অনেক বেশিই এবার।
তুলনামূলকভাবে দুই ঈদে, ঈদুল আজহায় ত্যাগের আলো থাকে অনেক বেশি। লুকায়িত। আমিই হয়তো সবচেয়ে বেশি ত্যাগের উদাহরণ হয়ে বাড়ি ফিরছি। সঙ্গে আমার অর্ধাঙ্গিনী এবং আমার একমাত্র ছোট ভাই। সবার আনন্দ এবার কোরবানি দিয়েছি প্রিয় দাদিমার জন্য। তিনি যে গত ঈদুল আজহার পর গত হয়েছেন!